Uncategorized

মানুষের চন্দ্রজয় সত্যি না ভুয়া?

ম ন ষ র চন দ রজয় - মহাজাগতিক অসীমতার রহস্য মানুষকে সবসময় মুগ্ধ করেছে। সেই আকর্ষণ থেকেই আমরা পৃথিবীর মাটি ছাড়িয়ে চাঁদের ধূলোয় পা রেখেছি। কিন্তু এই ঐতিহাসিক

Desk Uncategorized
Published July 22, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
Foto : William Jones - banglaprabah.com

ম ন ষ র চন দ রজয় সত্য নাকি ভুয়া? বিজ্ঞান কী বলে?

Banglaprabah.com – ম ন ষ র চন দ রজয় – মহাজাগতিক অসীমতার রহস্য মানুষকে সবসময় মুগ্ধ করেছে। সেই আকর্ষণ থেকেই আমরা পৃথিবীর মাটি ছাড়িয়ে চাঁদের ধূলোয় পা রেখেছি। কিন্তু এই ঐতিহাসিক সাফল্য নিয়ে আজও অনেক প্রশ্ন উঠে। বিশেষ করে ১৯৬৯ সালের সেই অভিযান নিয়ে অনেকের সন্দেহ রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল স্পেস সেন্টারের ডিসকভারি ডিরেক্টর অনু ওঝা বলেন,

আমরা অনলাইনে তথ্যের এক বিশাল সমুদ্রে ভেসে যাচ্ছি। মানব ইতিহাসের পুরো সময় মিলিয়ে যত তথ্য পাওয়া গেছে, গত কয়েক বছরে তথ্যের সংখ্যা তার চেয়ে বেশি।

এই তথ্যের বন্যা থেকে সত্য খুঁজে বের করতে হলে সঠিকভাবে চিন্তা করতে হয়।

ছায়ার সমান্তরালতা নিয়ে প্রশ্ন

১৯৬৯ সালের ছবিগুলোতে আর্মস্ট্রং ও অন্য বস্তুর ছায়া সমান্তরাল নয় বলে অনেকের মনে হয়। সূর্য একমাত্র আলোর উৎস হলে ছায়া সমান্তরাল হওয়া উচিত ছিল—এটাই তাদের যুক্তি। কিন্তু ওঝা বলেন, এটি চাঁদের পৃষ্ঠের ছবি। পৃথিবীতেও আমরা একই ঘটনা তৈরি করতে পারি। দৃষ্টিভঙ্গির কারণে সমান্তরাল রেখাও অসমান্তরাল মনে হতে পারে। ত্রিমাত্রিক ঘটনাকে দ্বিমাত্রিক ক্যানভাসে আনলে রেখা অদ্ভুত আচরণ করতে পারে। শিল্পীরা শতাব্দী ধরে এই কৌশল ব্যবহার করে আসছেন।

ভ্যান অ্যালেন রেডিওশন বেল্ট পার হওয়া

পৃথিবীর চারপাশে আধানযুক্ত কণার একটি জটিল অঞ্চল রয়েছে। একে ভ্যান অ্যালেন রেডিওশন বেল্ট বলা হয়। এখানে সূর্য থেকে আসা প্রচণ্ড শক্তিশালী কণা আটকে থাকে। উচ্চ তেজস্ক্রিয়তার মারাত্মক ঝুঁকি এই অঞ্চলে। নভোচারীরা কীভাবে বেঁচে ফিরলেন? ওঝা বলেন,

আপনি যদি কখনো আগুনের ওপর দিয়ে হেঁটে থাকেন, তবে জানবেন আগুনের গর্তের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা যাবে না। যত দ্রুত সম্ভব সেটি পার হতে হবে।

বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, পায়ের তাপ পরিবাহিতার কথা ভাবলে দ্রুত হেঁটে গেলে পা পোড়ার মতো তাপ পায়ে পৌঁছাবে না। অ্যাপোলো যাত্রার শুরুতে এই বেল্ট পার হওয়ার সময় খুব কম ছিল।

ছবিতে তারা দেখা যাচ্ছে না কেন?

১৯৬৯ সালের চাঁদের ছবিতে আকাশ কালো দেখালেও কোনো তারা দেখা যায় না। ষড়যন্ত্রকারীদের মতে, নাসা তারা তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছে। আসল বিষয় হলো, সেই সময়ে নভোচারী ও চাঁদের মাটি দুটিই প্রখর সূর্যের আলোতে আলোকিত ছিল। দিনের বেলায় প্রখর আলোতে তোলা ছবির ক্ষেত্রে ক্যামেরার শাটার স্পিড অনেক দ্রুত রাখতে হয়। পাশাপাশি অ্যাপারচার রাখতে হয় খুব ছোট। এই অবস্থায় তারার মতো অস্পষ্ট বস্তু ছবিতে ফুটে ওঠে না।

চাঁদের পতাকা উড়ছিল কেন?

চাঁদের বুকে বাজ অলড্রিনের পতাকা স্যালুট করার দৃশ্যটি অন্যতম এক স্মারক। চাঁদে কোনো বাতাস নেই, তবু পতাকা উঠছিল কেন? ছবিটি ভালোভাবে খেয়াল করলে দেখা যাবে, পতাকার ওপরের প্রান্তে একটি টেলিস্কোপিক রড বা পোল দিয়ে যুক্ত করা ছিল। ফলে এটি সোজা হয়ে ভেসে ছিল। ওঝা ব্যাখ্যা করে বলেন, এভাবে স্থাপন করার কারণেই এটিকে বাতাসে ওড়ার মতো মনে হচ্ছে। আর চার দিন ধরে ভাঁজ করে নিয়ে যাওয়ার কারণে পতাকার সব কুঁচকানো দাগ থেকে গিয়েছিল।

চাঁদে যাওয়া বন্ধ হলো কেন?

১৯৭২ সালে অ্যাপোলো ১৭ ছিল চাঁদে শেষ মানববাহী মিশন। এরপর মানুষ আর সেখানে যায়নি। ওঝা জানান, এটি কোনো চক্রান্ত ছিল না। এটি ছিল স্রেফ ভূরাজনীতি। সেই সময় যুক্তরাষ্ট্র অগ্রাধিকার বদলে ফেলেছিল। তখন ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং আমরা প্রতিযোগিতার জিতে গেছি—এমন ভাবনার একটি ভূরাজনৈতিক প্রভাব ছিল এখানে। চাঁদে বিজ্ঞান গবেষণা চালুর ঠিক উপযোগী সময়েই যুক্তরাষ্ট্র থেমে যায়। পরবর্তী সময়ে নজর দেওয়া হয় স্পেস শাটল ও আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের দিকে।

সত্যের প্রমাণ

২০০৯ সালে লুনার রিকনসাইন্ট অরবিটার চাঁদের পৃষ্ঠের অনেক উচ্চমানের ছবি তোলে। সেখানে অ্যাপোলো নামার সব কটি স্থান স্পষ্ট দেখা গেছে। ওঝা বলেন,

বিভিন্ন ছবি আমাকে সত্যি অবাক করে। সেই পদচিহ্ন এখনো আছে। চাঁদের গাঢ়ের সেই চাকার দাগ কোটি কোটি বছর ধরে হুবহু থেকে যাবে।

মানবসভ্যতার যা-ই ঘটুক না কেন, মহাবিশ্বে আমরা সত্যিই আমাদের চিহ্ন রেখে এসেছি।

সূত্র: রয়্যাল মিউজিয়ামস গ্রিনউইচ

Leave a Comment