রাখাইন রাজ্যে মংডুতে বিমান হামলা, টেকনাফ সীমান্তে কম্পন ছড়িয়েছে
র খ ইন র ম ড ত – বুধবার রাত সোয়া নয়টার দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মংডু শহরতলিতে আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে সরকারি বাহিনী বিমান হামলা চালাচ্ছে। আরাকান আর্মিও পাল্টা জবাব দিচ্ছে, যার ফলে বিস্ফোরণের শব্দ মংডু টাউনশিপ এলাকায় চলছে। এই সংঘর্ষে নাফ নদীর উপর গুরুত্বপূর্ণ কম্পন টেকনাফ সীমান্তে পরিচিত হচ্ছে।
সীমান্তবর্তী বাসিন্দারা অনুভব করছেন আতঙ্ক
টেকনাফ সীমান্তের লোকজন নাফ নদীর দিকে আগুনের ঝলকানি দেখছেন। আগুন ও বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শাহপরী দ্বীপ ও জালিয়াপাড়া গ্রামে ছড়িয়েছে। সীমান্ত জনপদে কম্পনে কাঁপছে লোকজনের ঘরবাড়ি। কিছুক্ষণ পর আগুনের ঝলকানি নিভে যাওয়ার আগে বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছে।
“রাতে ওপারে হঠাৎ বিস্ফোরণে আমার বাড়ি কেঁপে ওঠে। বোমা শব্দে আমার সন্তানদের ঘুম ভেঙে যায় এবং কান্নাকাটি শুরু হয়,” বলেন হোয়াকিয়াপাড়ার বাসিন্দা আয়েশা ছিদ্দিকী।
বিজিবি ও কোস্টগার্ড টেকনাফ সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এই সংঘর্ষে বিমানযোগে হামলা চালানোর তথ্য বিজিবি কাছে রয়েছে। সীমান্তের কিছু সূত্র বলেন, মংডু টাউনশিপের হাইন্দাপাড়া ঘাঁটি, তিন মাইল ও সিকদারপাড়া সহ বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা শুরু হয়েছে। এতে নাফ নদীর সংলগ্ন কয়েকটি গ্রামে আগুন ধরে যাচ্ছে।
“আমার বাড়ি মিয়ানমার সীমান্ত থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে। এ সময় ওপার থেকে কয়েক দফা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ হামলার তীব্রতা আগের চেয়ে বেশি বলে মনে হচ্ছে,” বলেন কুলালপাড়ার বাসিন্দা মো. সোহেল।
টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মো. অনীক চৌধুরী বলেন, বুধবার রাতে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী আরাকান আর্মির অবস্থানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীদের সঙ্গেও সংঘাত চলছে।
উল্লেখ্য, টানা ১১ মাস চলা যুদ্ধের পর মংডু, বুচিডং ও রাচিডং টাউনশিপসহ ৮০ শতাংশ এলাকা (২৭১ কিলোমিটার) আরাকান আর্মির দখলে ছিল। বাংলাদেশের টেকনাফ, উখিয়া ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা এই এলাকার বিপরীতে অবস্থিত।
