মার্কিন প্রশাসনে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের প্রভাব কতটা, সেটাই কি দেখিয়ে দিল ট্রাকে চড়ে ট্রাম্পের সরে যাওয়া
ম র ক ন প রশ সন - গত কয়েক মাস ধরে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা পাঠিয়ে আসছে। সেই সতর্কবার্তাটি হলো—ইরান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড
Table of Contents
ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যে ট্রাম্পের সরে যাওয়া: মার্কিন প্রশাসনের ভূমিকা
Banglaprabah.com – ম র ক ন প রশ সন – গত কয়েক মাস ধরে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা পাঠিয়ে আসছে। সেই সতর্কবার্তাটি হলো—ইরান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করছে। সম্প্রতি তুরস্ক সফর থেকে ফেরার সময় এই সতর্কবার্তার প্রেক্ষিতে ট্রাম্পকে এয়ারফোর্স ওয়ান থেকে গোপনে অন্য একটি বিমানবাহিনীর বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনা মার্কিন প্রশাসনে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের প্রভাব কতটা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এক বর্তমান কর্মকর্তা ও দুই সাবেক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই সতর্কবার্তার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।
ইসরায়েলি সতর্কবার্তা ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মতপার্থক্য
সূত্রগুলো জানিয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে এই সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল। কিছু ক্ষেত্রে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা সরাসরি হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদেরও বিষয়টি জানিয়েছেন। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনার মধ্যে ছিল স্নাইপার দিয়ে ট্রাম্পকে গুলি করা অথবা বড় কোনো জনসমাগমে ছুরি নিয়ে হামলার জন্য কাউকে নিয়োগ করা।
মার্কিন গোয়েন্দা মহল অনেক দিন ধরে বলে আসছে, ২০২০ সালে ইরানি সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে চান ইরানের নেতারা। তবে কর্মকর্তারা বলেছেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ গত বছরের শুরু থেকে ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের দেওয়া ট্রাম্পের প্রাণনাশসংক্রান্ত কয়েকটি হুমকির তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। মার্কিন প্রশাসনের ইরান নীতিতে এই গোয়েন্দা তথ্যের প্রভাব স্পষ্ট।
সূত্রগুলো বলছে, ২০২৫ সালের জুনে ইরানে শুরু হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের আগে থেকেই এসব গোয়েন্দা তথ্য আসতে শুরু করে।
ন্যাটো সম্মেলনে সতর্কবার্তা ও তুরস্কের প্রতিক্রিয়া
ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের আগে এসব সতর্কবার্তা আরও জোরালো হয়ে ওঠে। গত জুলাইয়ে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের আগে সবচেয়ে বিস্তারিত সতর্কবার্তাটি আসে। বর্তমানে দায়িত্বরত ওই মার্কিন কর্মকর্তা ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেক ব্যক্তি বলেন, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা হোয়াইট হাউসকে সতর্ক করে বলেছিলেন, এয়ারফোর্স ওয়ানে ভ্রমণের সময় ইরান ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করতে পারে। সম্ভাব্য ওই হামলার কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়।
সর্বশেষ ন্যাটো সম্মেলন ঘিরে যে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল, সে ব্যাপারে তুরস্কের এক কর্মকর্তা বলেন, ওই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করার মতো কোনো প্রমাণ দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে ছিল না। স্বাগতিক দেশ হিসেবে তুরস্ক তাদের এ পর্যালোচনা মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও ভাগাভাগি করে নেয়।
ট্রাম্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ইসরায়েলি প্রভাব
হুমকির তথ্য যাচাই করা না গেলেও আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে হোয়াইট হাউস ও সিক্রেট সার্ভিস ঝুঁকি কমাতে নানা পদক্ষেপ নেয়। দেশটি থেকে ফেরার পথে ট্রাম্পকে এয়ারফোর্স ওয়ান থেকে অন্য একটি বিমানে স্থানান্তর করা হয়। এতে বোঝা যায়, ইরানের সামগ্রিক হুমকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা মূল্যায়নের মধ্যে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য ট্রাম্প প্রশাসনের ইরানসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে কীভাবে প্রভাব ফেলছে।
চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পর্যালোচনায় বলা হয়েছিল, ইরান সক্রিয়ভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাজ করছে না। অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করছে, তেহরান একটি তাৎক্ষণিক ও গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছে। মার্কিন গোয়েন্দা মহলের ওই পর্যালোচনা সত্ত্বেও ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর হামলা চালানোর সিদ্ধান্তে এগিয়ে যান ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
ইসরায়েলি দূতাবাসের প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের ইরানসংক্রান্ত নীতিকে প্রভাবিত করতে ইসরায়েল তার গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা অস্বীকার করেছেন ইসরায়েলি দূতাবাসের এক মুখপাত্র। ওই মুখপাত্র দাবি করেন, ‘কথিত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের নীতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বলে যারা অভিযোগ তুলেছেন, তাঁরাই নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি হলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করার অভিযোগ তুলতে দ্বিধা করতেন না।’ হোয়াইট হাউস ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র অ্যান্টনি গুলিওয়েলমি নির্দিষ্ট কোনো গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে আলোচনা করতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক হত্যাচেষ্টার ঘটনা এবং প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে হুমকি বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটাই এখন সংস্থাটির প্রধান লক্ষ্য।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য ট্রাম্পের সরে যাওয়ায় কী ভূমিকা রেখেছে? ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ইরান ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করছে। এই সতর্কবার্তার প্রেক্ষিতে তুরস্ক সফর থেকে ফেরার সময় ট্রাম্পকে এয়ারফোর্স ওয়ান থেকে অন্য একটি বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কি ইসরায়েলি সতর্কবার্তা যাচাই করতে পেরেছে? না, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ গত বছরের শুরু থেকে ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের দেওয়া ট্রাম্পের প্রাণনাশসংক্রান্ত কয়েকটি হুমকির তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
মার্কিন প্রশাসনে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের প্রভাব কতটা? মার্কিন প্রশাসনের ইরান নীতিতে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের প্রভাব স্পষ্ট। ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর হামলা চালানোর সিদ্ধান্তে ট্রাম্প ইসরায়েলের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্য বিবেচনা নিয়েছিলেন।
ইসরায়েলি দূতাবাস কী অভিযোগ অস্বীকার করেছে? ইসরায়েলি দূতাবাসের এক মুখপাত্র অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যে, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের ইরানসংক্রান্ত নীতিকে গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে প্রভাবিত করছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ম র ক ন প রশ সন?
ম র ক ন প রশ সন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ম র ক ন প রশ সন matter?
ম র ক ন প রশ সন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
