মাদ্রাসার শৌচাগারে শিক্ষার্থীর লাশ, শিক্ষক জাকারিয়া তিন দিনের রিমান্ডে, শুনানিতে উঠে এল নানা তথ্য
ম দ র স র শ চ - রাজধানীর রায়েরবাগ এলাকার জোখাম্বা নামক স্থানে অবস্থিত একটি মাদ্রাসার শৌচাগার থেকে এক শিশু শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনায় ওই
Table of Contents
মাদ্রাসার শৌচাগারে শিশু শিক্ষার্থীর লাশ, শিক্ষক জাকারিয়ার রিমান্ড
Banglaprabah.com – ম দ র স র শ চ – রাজধানীর রায়েরবাগ এলাকার জোখাম্বা নামক স্থানে অবস্থিত একটি মাদ্রাসার শৌচাগার থেকে এক শিশু শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হাফেজ মো. জাকারিয়া (৩৫) নামের একজনকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। গ্রেপ্তার অপর এক শিক্ষকের বয়স মামলার এজাহারে ২০ বছর লেখা থাকলেও শুনানিতে তাঁর আইনজীবী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার প্রমাণ উপস্থাপন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাঁকে শিশু বিবেচনায় রিমান্ড শুনানির জন্য শিশু আদালতে পাঠানোর আদেশ দেন। আজ বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী হারুনর রশীদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার বিস্তারিত ও মামলার তদন্ত
৩ আগস্ট বেলা দেড়টার দিকে মাদ্রাসার তৃতীয় তলার একটি শৌচাগার থেকে ১৩ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর মা বাদী হয়ে ওই রাতেই কদমতলী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা সূত্রে জানা যায়, ৩ আগস্ট ওই মাদ্রাসা থেকে দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ৪ আগস্ট তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। ৫ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কদমতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আমজাদ হোসেন আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আজ আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হলে রিমান্ড শুনানি হয়।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, নিহত শিশু ও তার ছোট ভাই ওই মাদ্রাসায় পড়ত। বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষকেরা ওই শিশুর ওপর নির্যাতন চালাতেন। বিষয়টি সে তার মাকে জানালে মা তাকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন, কিন্তু মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তী সময়ে সে আর মাদ্রাসায় পড়বে না বলে শিক্ষকদের জানালে তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে মারধর করেন এবং বেলা একটা থেকে দুটোর মধ্যে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
আদালতে পক্ষদ্বয়ের যুক্তি ও শিক্ষকের বক্তব্য
আদালতে বাদী ও আসামিপক্ষের যুক্তি শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী হারুনর রশীদ খান রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতকে বলেন, ১৩ বছরের একটি শিশুকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে বাথরুমে হত্যা করা হয়েছে। অথচ আসামিপক্ষ এটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করছে, যা একটি অগ্রহণযোগ্য যুক্তি। ওই শিশুটি আগেই তার মাকে জানিয়েছিল, সে এই মাদ্রাসায় পড়তে চায় না। আইনজীবী আরও বলেন, নিহত ছাত্রটি পড়াশোনার ভালো ও শান্ত স্বভাবের ছিল। শিক্ষক তাকে নিজের কাছে ঘুমানোর জন্য বলতেন। মূলত গোপন রহস্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়েই তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আসামিদের রিমান্ড প্রয়োজন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। মাদ্রাসার অন্য ছাত্রদেরও কোনো অভিযোগ নেই। সেখানে ধর্ষণ বা হত্যার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।
আদালতে শিক্ষক ও নিহতের ভাইয়ের বক্তব্য শুনানিকালে বিচারক কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা আসামি জাকারিয়াকে কোনো বক্তব্য আছে কি না জানতে চান। এ সময় জাকারিয়া বলেন,
আমরা হাফেজ মানুষ, আমরা মারিনি। ঘটনার দিন ওই ছেলে পড়া না পারায় তাকে কিছুক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল। জোহরের নামাজের আগে সে বাথরুমে যায়। নামাজ শেষে খোঁজ নিয়ে জানা যায় সে ফেরেনি। পরে বাথরুমের দরজা ভেঙে তাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। আমাদের ছাত্ররা এর সাক্ষী।
আদালত জাকারিয়াকে মাদ্রাসার সিসিটিভি ফুটেজ আছে কি না, জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজ নেই, অনেক আগেই হার্ডডিস্ক নষ্ট হয়ে গেছে। এ ছাড়া ওই ছাত্র এর আগেও কয়েকটি মাদ্রাসা থেকে পালিয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। তখন আদালত প্রশ্ন করেন,
এই ডিজিটাল যুগে আপনাদের সিসিটিভি ফুটেজ নেই কেন?
শিশু ভাইয়ের বক্তব্য ও স্বজনদের বিক্ষোভ
শুনানির একপর্যায়ে আদালত নিহত শিক্ষার্থীর ছোট ভাইকে ডেকে কথা বলেন। মাদ্রাসায় তাদের মারধর করা হতো কি না, জানতে চাইলে শিশুটি বলে,
আমাদের অনেক মারধর করা হতো। ভাইয়ের সাথে বেশি খারাপ ব্যবহার করা হতো।
কেমন খারাপ ব্যবহার করা হতো, তা জানতে চাইলে শিশুটি আর কোনো উত্তর দেয়নি। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত শিক্ষক জাকারিয়ার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং অপর শিক্ষককে শিশু আদালতে রিমান্ড শুনানির জন্য পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত প্রাঙ্গণে স্বজনদের বিক্ষোভ আজ আদালতে নিহত শিক্ষার্থীর মা ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আসামিদের আদালত থেকে নামানোর সময় উত্তেজিত স্বজনরা তাঁদের মারধর করতে উদ্যত হন। পুলিশ দ্রুত আসামিদের হাজতখানায় নিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় নিহত শিশুর ক্ষুব্ধ স্বজনরা আসামিদের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন ও আদালত প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. মাদ্রাসার শৌচাগারে শিশু শিক্ষার্থীর লাশ কোথায় পাওয়া গেছে? রাজধানীর রায়েরবাগ এলাকার জোখাম্বা নামক স্থানে অবস্থিত একটি মাদ্রাসার তৃতীয় তলার শৌচাগার থেকে ৩ আগস্ট বেলা দেড়টার দিকে ১৩ বছর বয়সী শিশু শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
২. শিক্ষক জাকারিয়া কেন গ্রেপ্তার হয়েছেন? মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, শিক্ষক জাকারিয়া ও অন্য এক শিক্ষক বিভিন্ন অজুহাতে শিশু শিক্ষার্থীর ওপর নির্যাতন চালাতেন। পরবর্তীতে শিশুটি মাদ্রাসা ছাড়তে চাইলে তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে মারধর করে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
৩. আদালত শিক্ষক জাকারিয়ার কত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন? ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত শিক্ষক জাকারিয়ার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
৪. মাদ্রাসার সিসিটিভি ফুটেজ কেন পাওয়া যাচ্ছে না? শিক্ষক জাকারিয়া আদালতে জানান, মাদ্রাসার সিসিটিভি ফুটেজ নেই কারণ অনেক আগেই হার্ডডিস্ক নষ্ট হয়ে গেছে।
৫. মামলাটি কোন থানায় হয়েছে? নিহত শিশুর মা বাদী হয়ে ৩ আগস্ট রাতেই কদমতলী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ম দ র স র শ চ?
ম দ র স র শ চ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ম দ র স র শ চ matter?
ম দ র স র শ চ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
