Uncategorized

ভাষার ঐশ্বর্যে, নৈতিকতার আয়নায়

ভ ষ র ঐশ বর য ন - ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত 'রোদনরূপসী' বইটি আমার হাতে এসেছিল তখনই। আবদুল্লাহ আবু সাঈদ নামে যিনি অধ্যাপক, সম্পাদক ও সংগঠক হিসেবে বেশ পরিচিত, গল্পকার

Desk Uncategorized
Published August 15, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
WhatsApp-Image-2026-08-13-at-4.32.58-PM
Foto : Elizabeth Smith - banglaprabah.com
Table of Contents
  1. ভাষার ঐশ্বর্যে নৈতিকতার আয়নায়: আবদুল্লাহ আবু সাঈদের রোদনরূপসী
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

ভাষার ঐশ্বর্যে নৈতিকতার আয়নায়: আবদুল্লাহ আবু সাঈদের রোদনরূপসী

Banglaprabah.com – ভ ষ র ঐশ বর য ন – ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত ‘রোদনরূপসী’ বইটি আমার হাতে এসেছিল তখনই। আবদুল্লাহ আবু সাঈদ নামে যিনি অধ্যাপক, সম্পাদক ও সংগঠক হিসেবে বেশ পরিচিত, গল্পকার হিসেবে ততটা পরিচিত নন। তাঁর চারটি গল্প পড়ে আমি বিস্মিত হয়েছিলাম। লেখক ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন, এই গল্পগুলো তিন দশক ধরে বিক্ষিপ্তভাবে লেখা হয়েছে। এমন গল্প লেখক কেন আরও নিয়মিত গল্প লেখেননি—এই প্রশ্নটি মনে হয়েছিল। আজ তিন দশক পর বইটি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে পুনঃপাঠ করলাম, দেখলাম চারটি গল্পই ভালোভাবে মনে আছে। স্মরণযোগ্যতা যদি ভালো সাহিত্যের একটা শর্ত হয়, তবে রোদনরূপসী বইটির চারটি গল্পই সেই শর্ত পূরণ করে।

গল্পের পরিপূর্ণতা ও ভাষার ঐশ্বর্য

মাত্র ৮৫ পৃষ্ঠার এই বইয়ে চারটি গল্প আছে। এটা শুনেই পাঠক বুঝে যাবেন যে ছোটগল্প হলেও গল্পগুলো আকারে পরিপূর্ণ। প্রতিটি গল্পই বিচিত্র স্বাদের এবং ভিন্ন অনুভূতির।

‘ল্যাজারাসের প্রত্যাবর্তন’ উত্তরবঙ্গের এক জেলা শহরের এক নামজাদা গায়ককে নিয়ে। যে গায়ক প্রেমিকার জন্য নিজের যাবতীয় সুনাম, সাফল্য জলাঞ্জলি দিয়েছিল আর শেষ পর্যন্ত প্রেমে প্রতারিত হয়ে নিজের জীবনের অমিতসম্ভাবনাকে অবহেলা আর আত্মনিগ্রহ দিয়ে ধ্বংস করেছে।

একজন প্রতিভাবান মানুষের যাবতীয় দোষ আর গুণের নিষ্ঠুর সমন্বয় ঘটেছিল তার চরিত্রে। অবশ্যি এই পরস্পরবিরোধী মানসিকতার মূল্য তাকে নির্মমভাবে এবং হাতে–নাতেই পেতে হয়েছিল—তার চেয়ে প্রিয় ও ঘৃণিত মানুষ সে সময় এ শহরে আর ছিল না।

গায়কের জীবনের নাটকীয় উত্থান-পতন নয়, কথক রেডিওর বড় কর্তা গায়কের শেষবারের মতো জ্বলে ওঠা প্রতিভার পরিচয় যখন পেতে চাইলেন, তখন কী ঘটল, সেটাই মূল গল্প। এ গল্পের ভাষা খুব সমৃদ্ধ। গায়কের ‘ঘসা-খাওয়া, কর্কশ, দুমড়ানো’ গলার পরিচয় পেয়েও কথক যখন তাঁকে গান গাইতে বললেন, তখন গায়কের চাহনির বর্ণনা লেখক এভাবে দিয়েছেন:

তার মর্মভেদী দৃষ্টি যেন অক্ষমতার করুণ পতাকা। এই সেই তীব্র আর্ত অন্তর্ভেদী চাউনি, যা একদিন দেখা যেত অতীতযুগের পরাক্রান্ত নির্বাসিত সম্রাটদের চোখে—জীবনের দীর্ঘ ব্যর্থতার পর মৃত্যু মুহূর্তে আবার সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারের বিমর্ষ স্বপ্নে তারা যখন উজ্জীবিত হয়ে উঠত।

আবার শেষ পর্যন্ত যখন গায়ক গান ধরল, তার গানের বর্ণনা এ রকম:

সংগীতে যে উচ্চগ্রামের অধিকারের সঙ্গে সে বিভিন্ন স্বরগুলোকে নিয়ে খেলা করছিল, বিবাদী স্বরগুলোকে পাশাপাশি জুড়ে দিয়ে সুস্মিত আর অবলীল সব সাংগীতিক মুহূর্ত সৃষ্টি করছিল, গমক আর মিষ্টির কোমল স্নিগ্ধ গভীর ব্যবহারে ঠুমরির পরিচিত মাধুর্য-জগৎকে জোছনান্বিত করে তুলছিল, তা অবাক করার মতো।

গল্প লেখক আবদুল্লাহ আবু সাঈদদের ওপর বিশ্বসাহিত্যের স্পষ্ট প্রভাব এই গল্পে দেখি। গল্পের মেজাজ ম্যাক্সিম গোর্কি কিংবা আন্তন চেখভের আর ভাষার ঐশ্বর্য যেন ও. হেনরির গল্পের কথা মনে করিয়ে দেয়।

শিল্পপতির চরিত্র ও সামাজিক অবক্ষয়

ফ্রেঞ্চ কাট দাঁড়ি রাখা, সুবিন্যস্ত পোশাক পরা, ওপরে ওপরে মেয়েদের সৌজন্য দেখানো এই শিল্পপতিকে গল্প পড়ার সময় যেমন কল্পনা করেছিলাম, পরবর্তীকালে পত্রিকার খবরে যৌন কেলেঙ্কারির জন্য দায়ী হওয়া কয়েকজন মানুষের সঙ্গে তার বিস্ময়জাগানো মিল পেয়েছি। সাহিত্য তো বাস্তব জীবন থেকেই অনুপ্রেরণা নেয়। তথাকথিত উঁচুতলার মানুষের সঙ্গে অল্প পরিসরে যে মেলামেশা, সেখান থেকেই আবদুল্লাহ আবু সাঈদ এই চরিত্রদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন।

এ গল্পের একটিমাত্র দিক আমার ভালো লাগেনি, সেটি হলো প্রেক্ষাপটের বিস্তৃতি। মূল গল্প শুরুর আগে গল্পের কথক যে বাড়িতে আতিথ্য নিয়েছিলেন, সে বাড়ির গৃহকর্তা-গৃহকত্রীর, তাদের কাপড় দান করার ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা গল্পের পক্ষে একটু গুরুভার লেগেছে। এই অংশটুকু আরও সংক্ষিপ্ত হলে গল্পের ধার আরও বাঁকত। গল্পে কথক হিসেবে রেডিওর বড় কর্তাই যথেষ্ট ছিলেন, তার ওপর আরেক কথক (জজকোর্টের উকিল) জুড়ে দেওয়া গল্পের গতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তার পরেও গল্পটির ভাষার সৌন্দর্য ও বক্তব্যের চিরায়ত আবেদন একে বাংলা সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য একটি স্থান দিয়েছে বলেই আমার মনে হয়। প্রতিভাবানের প্রতিভাটুকু চাপ দিয়ে নিংড়ে নিতেই আমাদের সমাজের যাবতীয় উৎসাহ। প্রতিভার বিকাশ, পালন ও সংরক্ষণে আমাদের জাতীয় অবহেলার নিদর্শন এ গল্পে থেকে গেল।

বেহুলা-ভাসান: সামাজিক অবক্ষয়ের গল্প

‘বেহুলা-ভাসান’ গল্পটি ঢাকা শহরের নাগরিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের গল্প। হুমায়ুন আজাদ বলেছিলেন, সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে। ১৯৮৫ সালে লেখা গল্পটিও যেন নিচু গলায় সে কথাই বলে। মফস্‌সল শহরের এক অপরূপার বিয়ে হয় শহরের বহুজাতিক কোম্পানির নির্বাহীর সঙ্গে। কলেজ অধ্যাপকের মেয়ে তার মধ্যবিত্ত মূল্যবোধ ছেড়ে ঢাকার উঁচুতলার পার্টি-জীবনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে নিতে চেষ্টা করে। সে আবিষ্কার করে, আধুনিকতার নামে ওই পার্টি-জীবনে মানুষের মিথস্ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে তাদের আদিম জৈবিক তাড়না। সে দেখে, তার রূপমুগ্ধ স্বামী অন্য শরীরের লোভে তার সঙ্গে বিশ্বাস ভঙ্গ করছে, ওদিকে তার শরীরটিকে পাওয়ার জন্য হন্যে হয়ে যাচ্ছে অন্য শিকারি পুরুষেরা। নিজের মূল্যবোধ, আত্মসম্মান বাঁচিয়ে রাখার জন্য করে কথক মেয়েটি একদিন টের পায়, এতে কেবল সে-ই ঠকছে। সে নিজেকে বিসর্জন দেয় এক লোলুপ শিল্পপতির কাছে। নিজেকে ‘অপবিত্র’ করে সে তার স্বামীর বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিশোধ নেয়।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

রোদনরূপসী বইটি কখন প্রকাশিত হয়েছিল? রোদনরূপসী বইটি ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।

বইটিতে মোট কয়টি গল্প রয়েছে? বইটিতে মোট চারটি গল্প রয়েছে, যা তিন দশক ধরে বিক্ষিপ্তভাবে লেখা হয়েছে।

লেখক আবদুল্লাহ আবু সাঈদ কে? আবদুল্লাহ আবু সাঈদ একজন অধ্যাপক, সম্পাদক ও সংগঠক হিসেবে পরিচিত। তিনি গল্পকার হিসেবেও কাজ করেছেন।

বইটির মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা কত? বইটির মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা ৮৫।

‘বেহুলা-ভাসান’ গল্পটি কখন লেখা হয়েছিল? ‘বেহুলা-ভাসান’ গল্পটি ১৯৮৫ সালে লেখা হয়েছিল।

Frequently Asked Questions

What is ভ ষ র ঐশ বর য ন?

ভ ষ র ঐশ বর য ন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ভ ষ র ঐশ বর য ন matter?

ভ ষ র ঐশ বর য ন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment