ঈদের দিনে ফুচকার অর্ডার নিয়ে সংঘর্ষ, পরে বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ
ফ চক র অর ড র দ – ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি রবিউল আজম জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে দুই গ্রামের মধ্যে ফুচকা অর্ডার দেওয়া কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিরোধ। সেই বিরোধের পরিণতি হিসাবে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে এবং আইনি পদক্ষেপ চালু করা হচ্ছে।
আজ রোববার দুপুরে উচাখিলা ইউনিয়নের চরআলগী গ্রামে সংঘর্ষ ঘটে। ঘটনার শুরু হয় ঈদের দিন বিকেলে মরিচারচর বটতলা গ্রামে ফুচকার অর্ডার আগে ও পরে দেওয়া নিয়ে কথা–কাটাকাটি। উচাখিলা ইউনিয়নের মরিচারচর গ্রামে এক তরুণ তাঁর বোনকে সাথে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার সময় তাঁর ফুচকার অর্ডার দেন। চরআলগী গ্রামের কিশোরদের একটি গ্রুপ তাঁর পরে অর্ডার দেয়। এ পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়া হয় এবং সংঘর্ষে কেউ কেউ আহত হন।
ঘটনার ফলে গতকাল শনিবার রাতে চরআলগী গ্রামে নিয়ে মারধর করেন মরিচারচর গ্রামের বাসিন্দারা। সেই ঘটনার পর আজ রোববার দুপুরে চরআলগী গ্রামে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। তাঁদের কাছে হামলা করার সময় চরআলগী গ্রামে নাজিম উদ্দিনের বাড়িতে বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। ওখানে হামলা চালিয়ে রান্না করা খাবার ও অতিথি বসার স্থান তছনছ করে দেওয়া হয়।
“আমরা কোনো ঘটনার সঙ্গেই জড়িত নই। বিনা কারণে বিয়েবাড়িতে হামলা চালিয়ে সব তছনছ করে দিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। বর আসার আগেই এই ঘটনা ঘটে। পরে মেয়েকে অন্য বাড়ি থেকে বরপক্ষের কাছে তুলে দেওয়া হয়।” বলেন নাজিম উদ্দিনের ভাই আলাল উদ্দিন।
“ঈদের দিন বিকেলে বোনকে নিয়ে ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে ঘুরতে গেলে আমাদের গ্রামের এক তরুণকে হামলা করে চর আলগী গ্রামের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। পরে আমি বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। গতকাল রাতে আমাকে এলাকায় সমাধানের জন্য নিয়ে আক্রমণ করে। এতে গ্রামের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা চালিয়েছে।” বলেন মরিচারচর গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহিম খলিল।
উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের চরআলগী গ্রামে আরও দুই বাসিন্দা বলেন, তুচ্ছ ঘটনা কেন্দ্র করে এত লোক নিয়ে আমাদের গ্রামে সন্ত্রাসী হামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হন দুজন। খবর পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
