পরিবর্তিত বিশ্বে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের আবেদন বাড়ছে
পর বর ত ত ব শ ব – বিশ্বের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক পরিবেশে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা উঁচু হলেও প্রধান শক্তি দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা অপরিবর্তিত রয়েছে। এই পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থার মুখে বাংলাদেশ নতুন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি লক্ষ্য করে স্বার্থভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করতে হবে।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের মত
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সাথে সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশ চীন, ভারত ও রাশিয়ার সাথে পারস্পরিক লাভের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলছে। তিনি বলেন, সম্পূর্ণ জাতীয় স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে এই শক্তিগুলোর সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নির্ধারিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ এখন ‘টু প্লাস টু’ পদ্ধতিতে বৈশ্বিক অংশীদারত্বের কৌশলগত উন্নয়ন ঘটাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব ও বৈশ্বিক অস্থিরতার মুখে সরকার একক উৎসের ওপর নির্ভর করছে না। জ্বালানি এবং শ্রমবাজারের বহুমুখীকরণে জরুরী কাজ করছে। ভারতের সাথে সীমান্ত হত্যা বন্ধ, বাণিজ্যঘাটতি ও পানিবণ্টন সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক যোগাযোগ অপরিহার্য।
বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতি
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয় স্বার্থভিত্তিক ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। অন্ধভাবে কোনো দেশের পক্ষে বা বিপক্ষে না গিয়ে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য উদ্যোগ নিচ্ছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হতে হবে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি বৈশ্বিক নীতি গড়ে তোলা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি মীর আহমদ বিন কাসেম বলেন, পরিবর্তিত বাস্তবতার মধ্যে বাংলাদেশের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে পররাষ্ট্র নীতি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সম্পর্কে সবার জন্য স্থায়ী কমিটি গঠনে সংসদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গুরুত্ব
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আমেনা মহসিন মনে করেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার মধ্যে বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। নিয়মিত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা চাপের মুখে থাকলেও এটি দেশের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করে।
পরিবর্তিত বিশ্বে বহুপাক্ষিকতা ও আঞ্চলিক সহযোগিতা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান ভিত্তি হওয়া উচিত।
বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখে সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহবুবুজ্জামান বলেন, চীনের সাথে অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা জরুরী। অশুল্ক বাধা ও নদী ব্যবস্থাপনায় গঠনমূলক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে।
