রইদ ছবির পরিচালনা ও সৃষ্টি প্রক্রিয়া
দ উ দ উ কর জ বলত – প্রিয় ছবি ‘হাওয়া’ থেকে চার বছর পর মুক্তি পেয়েছে ‘রইদ’। ঈদুল আজহার পরে ছবিটি দেশে ও আন্তর্জাতিক পরিদর্শনে চলছে। ছবির নেপথ্য গল্প এবং আগামী চলচ্চিত্রের পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন গত শুক্রবার রাজশাহী যাওয়ার পথে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সাক্ষাৎকার করেন মনজুর কাদের।
প্রেমের গল্পের মধ্যে বিশ্বাসের প্রশ্ন
‘রইদ’ প্রকৃতপক্ষে প্রেমের গল্প নয়। সাধু ও পাগলির সম্পর্কের মাধ্যমে মানুষের কোন ভাবনাকে প্রকাশ করার চেষ্টা করা হয়েছে। ছবির প্রকৃতির সন্তানদের কোন বাস্তব সত্তা নেই বলে মেজবাউর রহমান সুমন জানান। তিনি বলেন, সেই ভাবনা থেকেই গল্পের স্বরূপ গড়ে উঠেছে।
‘রইদ’ পরিপূর্ণ প্রেমের গল্প, কিন্তু প্রেমের আড়ালে আমি আরও কিছু প্রশ্ন ও ধারণার দিকে তাকানোর চেষ্টা করেছি। ধর্মতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা এবং সামাজিক ধারণাগুলো আমার মনে চাপ তৈরি করেছিল। বিশেষ করে নারী সব সময় পুরুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে বলে প্রাচীন ধারণা গল্পের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।
ছবিটি পরিচালনার জন্য দীর্ঘ সময় পরিবেশে নির্ভর করেছে। তিনি আরও বলেন, সাধু ও পাগলির গল্প সত্যিকারভাবে বুঝতে হলে তাদের জীবনযাত্রার মধ্যে বাস্তবতা খুঁজতে হয়। কাজের বাইরে সংগঠিত বিশ্বাস ও অনুরাগ একসঙ্গে থাকার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। একই টিম বিশেষ করে ক্ষমতা ও সামাজিক সম্পর্কে ধারণার সাথে সম্পৃক্ত হয়েছিল।
বাড়িটাকে বানানো এবং আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া
গ্রামের সেট গড়ে উঠেছিল আট-নয় মাস ধরে। কিন্তু তার সাথে যে গল্প ছিল সেটি দেখতে গিয়ে কেউ বলেনি এটি সেট হিসেবে চিনা পায়। ছয় মাস, আট মাস বা দশ মাস সত্ত্বেও সেটি দরকার হয়েছিল। তিনি আবার বলেন, যখন সেটি পুড়ে যাওয়ার মুহূর্ত আসে তখন কর্মীদের ভাবনার কথা স্মৃতি হয়ে থাকে।
যখন ‘রইদ’-এর জন্য বাড়িটি গড়ে তোলা শুরু হয়েছিল, তখন সেখানে কোন গাছপালা ছিল না। মাটি ছিল বেশিরভাগ অংশ সাজানো হয়নি। সামগ্রিক কাজের প্রতিটি পর্বে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে। গাছ লাগিয়ে জায়গাটি গড়ে তুলতে হয়েছিল। প্রায় আট-দশ মাস ধরে প্রতিদিন পানি দিয়েছে শ্রমিকরা। তাদের সঙ্গে একেবারে একটি বাস্তব জায়গা হয়ে উঠেছিল।
গল্পের দৃশ্যের জন্য বাড়িটি আগুনে পুড়ে যাওয়া ছিল অপরিহার্য। কিন্তু সেটি ঘটানোর আগে বিকল্প প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর আবার দরকার হলো যে কিছু অংশ। সেগুলো পুনরুত্থানের সুবিধা নিশ্চিত করতে হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়ায় স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে যে তাঁদের স্বীকৃতি ও কাজ ছিল
