দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চারটি চিতা বাঘ কেন এল না
দক ষ ণ আফ র ক থ – জাতীয় চিড়িয়াখানায় চিতা বাঘ এখন নেই। এই প্রজাতির চারটি প্রাণী বর্তমান অর্থবছরে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আমদানির প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়েছে। বন বিভাগ এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কেন এই প্রাণী আনতে পারেনি তা নিয়ে অনুমান হচ্ছে।
২০২৫–২৬ অর্থবছরে চিতা বাঘ, ওয়াইল্ড বিস্ট এবং কমন ইল্যান্ড আমদানির জন্য তিনটি দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। তিনটির কার্যাদেশ ফ্যালকন ট্রেডার্সের হাতে ছিল। ওয়াইল্ড বিস্ট ও কমন ইল্যান্ড প্রতিষ্ঠানটি সময়ে আনে বলে জানা গেছে। কিন্তু চিতা বাঘ আনতে পারেনি।
“কার্যাদেশের মেয়াদ ছিল ২০ জুন পর্যন্ত। এর মধ্যে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্রাণীগুলো সরবরাহ করতে পারেনি,” বলেন জাতীয় চিড়িয়াখানার প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার মো. মজিবুর রহমান।
বিপন্ন বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে সাইটিএস অনুমতি বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশের বন বিভাগ এই অনুমতি দিয়েছিল। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার সাইটিএস কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশে পাঠানো পারমিটের সত্যতা যাচাই করতে ই–মেইল দিয়েছিল। এর পর তৈরি হয়েছিল জটিলতা।
“তাঁদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বন বিভাগের কাছে ই–মেইল দিয়ে যাচাই করার জন্য ইতিমধ্যে কোনো চিঠি পায়নি আমরা,” বলেন ফ্যালকন ট্রেডার্সের কর্ণধার মোহাম্মদ সোহেল আহমেদ।
বন বিভাগের তরফে এই ই–মেইলের জবাব দিয়েছিল গত ২৩ জুন। কিন্তু সরবরাহের সময়সীমা ছিল গত ২০ জুন পর্যন্ত। সেই কারণে চিতা বাঘ আনতে পারেনি। এখন কার্যাদেশটি বাতিল হবে।
জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। কমিটি খতিয়ে দেখবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কোনো গাফিলতি ছিল কিনা। কিন্তু বন বিভাগের প্রধান বনসংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, “গত ২২ জুন আমাদের মেইলটি পেয়েছিলাম। পরদিন উত্তর দেওয়া হয়েছিল।”
চিতা বাঘ আমদানির জন্য চুক্তি মূল্য ছিল ১ কোটি ৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। ফ্যালকন ট্রেডার্স জামানত জমা দিয়েছে ১০ লাখ টাকা। তদন্তে প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি প্রমাণিত হলে জামানত বাজেয়াপ্ত হতে পারে।
