স্যাম নিলের মৃত্যু ঘটেছে হলিউডের পরিচিত অভিনেতা এবং আঙুরখেত মালিক ছিলেন
জ র স ক প র ক – ২০২৩ সালে প্রকাশিত আত্মজীবনী ‘ডিড আই এভার টেল ইউ অ্যাবাউট দিস?’ থেকে জানা গেছে যে স্যাম নিল তাঁর বিশেষ ক্যানসার চিকিৎসার সময় নিজের চিন্তার সুবিধার্থে নিউজিল্যান্ডে বাস করেন। সোমবার তাঁর পরিবার ঘোষণা করেন যে বিশ্বের অনেক পরিচিত অভিনেতা এবং আঙুরখেত মালিক স্যাম নিল এখন আর নেই। তিনি সিডনিতে নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণের পর শান্তিপূর্ণভাবে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন এবং স্যাম নিল তার পরিবারের উপস্থিতিতে মৃত্যু ঘটে। তবে মৃত্যুর কারণ পরিবার ঘোষণা করেন ছিল আকস্মিক।
স্যাম নিল উত্তর আয়ারল্যান্ডের ওমাহ শহরে জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৭ সালে। তাঁর জন্মনাম ছিল নাইজেল জন ডারমট নিল। নিউজিল্যান্ডে পরিবার চলে আসেন ১৯৫৪ সালে। স্কুলজীবনের সময় তিনি প্রথম আলোচনায় আনেন হলিউডের মাঠে বিশেষ সাফল্য অর্জনের জন্য ১৯৭৭ সালে নিউজিল্যান্ডের সিনেমা ‘স্লিপিং ডগস’ ছবির মাধ্যমে। এরপর তিনি ‘মাই ব্রিলিয়ান্ট ক্যারিয়ার’, ‘প্রসেশন’, ‘এভিল অ্যাঞ্জেলস’ এবং ‘দ্য হান্ট ফর রেড অক্টোবর’ সহ আরও অনেক ছবিতে অভিনয় করেন।
১৯৯৩ সালে তাঁর চরিত্রটি হলিউডে সমাপ্ত হয় যে স্টিভেন স্পিলবার্গ পরিচালিত ‘জুরাসিক পার্ক’ ছবিতে তিনি ড. অ্যালান গ্রান্ট চরিত্রে অভিনয় করেন। প্রথমে হ্যারিসন ফোর্ডকে এই চরিত্র প্রস্তাব করা হয় ছিল। পরবর্তী বছরগুলোতে তিনি এই চরিত্রে দুটি ছবি অভিনয় করেন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ জানান, স্যাম নিল অস্ট্রেলীয় গল্পের সমান অংশ ছিলেন। তাঁর প্রতিভা ও ব্যক্তিত্ব দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান ছিল। তাঁর জনপ্রিয় কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ডেড কাম’, ‘দ্য জঙ্গল বুক’, ‘ইন দ্য মাউথ অব ম্যাডনেস’, ‘ইভেন্ট হরাইজন’, ‘বাইসেন্টিনিয়াল ম্যান’, এবং ‘পিটার র্যাবিট’।
টেলিভিশন প্রযোজনায় তিনি সমান সাফল্য অর্জন করেন। ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স’ ছবিতে দুর্নীতিগ্রস্ত মেজর চেস্টার ক্যাম্পবেল চরিত্রে অভিনয় তাঁকে বিশেষভাবে প্রশংসা করা হয়। ১৯৮৩ সালে তিনি মিনিসিরিজ ‘রিলি, এইস অব স্পাইস’ ছবির জন্য গোল্ডেন গ্লোব মনোনয়ন পেয়েছিলেন।
“মরতে আমার ভয় নেই। তবে বিষয়টা আমাকে বিরক্ত করবে কারণ আমি আরও ১০–২০ বছর বাঁচতে চাই। নাতি-নাতনিদের বড় হতে দেখতে চাই। আমি যে গাছগুলো লাগিয়েছি, সেগুলো বড় হতে দেখতে চাই।”
