তারেক মাসুদ-মিশুক মুনীর স্মৃতিস্তম্ভে মোমবাতি প্রজ্বালন, ১৫ বছরেও শেষ হয়নি ক্ষতিপূরণের লড়াই
ত র ক ম স দ ম - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় অবস্থিত তারেক মাসুদ-মিশুক মুনীর স্মৃতিস্তম্ভে বৃহস্পতিবার বিকেলে মোমবাতি প্রজ্বালনের মাধ্যমে দুই ব্যক্তির
Table of Contents
স্মৃতিস্তম্ভে মোমবাতি, ১৫ বছরেও শেষ হয়নি ক্ষতিপূরণের লড়াই
Banglaprabah.com – ত র ক ম স দ ম – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় অবস্থিত তারেক মাসুদ-মিশুক মুনীর স্মৃতিস্তম্ভে বৃহস্পতিবার বিকেলে মোমবাতি প্রজ্বালনের মাধ্যমে দুই ব্যক্তির ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের উদ্যোগে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। নিহতদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ, সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলনের কর্মী, আইনজীবী এবং ব্লাস্টের প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীরসহ মোট পাঁচজন প্রাণ হারান। এই দুর্ঘটনায় আক্রান্ত পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণের আইনি লড়াই এখনো অব্যাহত রয়েছে। হাইকোর্ট একটি মামলায় ক্ষতিপূরণের আদেশ দিলেও তা এখনো আপিল বিভাগে বিচারাধীন। অন্যদিকে মিশুক মুনীরের পরিবারের মামলাটি হাইকোর্টে সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।
আইনি লড়াইয়ে পরিবারের আশা
ব্লাস্টের তথ্য অনুযায়ী, তারেক মাসুদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ মামলায় ২০১৭ সালে হাইকোর্ট ৪ কোটি ৬১ লাখ টাকার বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে সেই আদেশ এখনো আপিল বিভাগে বিচারাধীন। অন্যদিকে মিশুক মুনীরের পরিবারের পৃথক ক্ষতিপূরণ মামলাটি হাইকোর্টে সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।
ব্লাস্টের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণকে কোনো ‘অনুদান’ বা ‘আর্থিক সহায়তা’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি ভুক্তভোগীদের আইনগত অধিকার। সংগঠনটি সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ, দ্রুত ও ভুক্তভোগীবান্ধব করার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
পরিবারের সদস্যদের মতামত
মোমবাতি প্রজ্বালন শেষে মিশুক মুনীরের ভাই আসিফ মুনীর বলেন,
প্রিয়জন হারানো পরিবারের জন্য এমন একটি দিন নিয়ে কথা বলা এখনো কঠিন। বড় কোনো দুর্ঘটনা বা বিপর্যয়ের পর তৈরি হওয়া মানসিক আঘাত ১৫ বছর পরও শেষ হয়ে যায় না। শোক সব সময় দৃশ্যমান না হলেও তা থেকে যায়।
বার্ষিক স্মরণ আয়োজন অব্যাহত রাখার জন্য ব্লাস্ট ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আসিফ মুনীর বলেন,
এ ধরনের উদ্যোগ পরিবারের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ বিদেশে থাকলেও আত্মিকভাবে তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আসিফ মুনীর বলেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের চাওয়া শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ নয়; তারা মর্যাদা ও সামাজিক স্বীকৃতিও চান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পরিসংখ্যান
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য উল্লেখ করে ব্লাস্ট জানায়, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৩০৭ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। সংগঠনটির মতে, এসব দুর্ঘটনার শিকার পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
স্মরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার স্মৃতিস্তম্ভে মোমবাতি প্রজ্বালনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ তারেক মাসুদের নির্মিত ‘মুক্তির গান’ ও ‘ফেরা’ চলচ্চিত্র প্রদর্শন করে। প্রতিবছরই এই স্থানে চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে তারা তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরকে স্মরণ করে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
তারােক মাসুদ ও মিশুক মুনীর কীভাবে নিহত হন? ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তারা সহ মোট পাঁচজন প্রাণ হারান।
ক্ষতিপূরণ মামলা এখন কোথায়? তারােক মাসুদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ মামলায় হাইকোর্টের আদেশ এখনো আপিল বিভাগে বিচারাধীন। মিশুক মুনীরের মামলাটি হাইকোর্টে সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।
কত টাকা ক্ষতিপূরণ নির্ধারিত হয়েছে? ২০১৭ সালে হাইকোর্ট তারােক মাসুদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ মামলায় ৪ কোটি ৬১ লাখ টাকার বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
স্মৃতিস্তম্ভ কোথায় অবস্থিত? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় অবস্থিত তারেক মাসুদ-মিশুক মুনীর স্মৃতিস্তম্ভে প্রতিবছর মোমবাতি প্রজ্বালন ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদের স্মরণ করা হয়।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ত র ক ম স দ ম?
ত র ক ম স দ ম is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ত র ক ম স দ ম matter?
ত র ক ম স দ ম matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
