‘ছেলেদের লাশ কাঁধে নিতেই মনে হলো, পাহাড়টাই আমার কাঁধে উঠে গেছে’
২০১৭ সালের ভয়াবহ দুর্যোগ
ছ ল দ র ল শ ক – ২০১৭ সালের ১৩ জুন পাহাড়ধসে বৃহত্তর চট্টগ্রামে ১৫৮ জন মানুষ মারা যায়। রাঙামাটি শহরের ভেদভেদী এলাকায় ঘটনাটি প্রাণঘাতী হয়েছিল, যেখানে ১২০ জন নিহত হয়েছিল। দুর্যোগের ব্যাপকতা এতটাই বেশি ছিল যে স্থানীয় প্রশাসন তৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার কাজে তৎপর হতে পারেনি। বাদল দত্ত বলেন, ‘ছেলেদের লাশ কাঁধে নিতেই মনে হলো, পাহাড়টাই আমার কাঁধে উঠে গেছে।’ তিনি জানান যে তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলে মাটির নিচে আটকে পড়েছিল। সেনাবাহিনীর সহায়তায় শেষ পর্যন্ত তাঁদের বের করে আনা হয়। কিন্তু ছেলেদের প্রাণ হারিয়েছিল অনুপস্থিতির আগে ছয় দিন।
হারিয়েছে স্বাভাবিক জীবন
রাঙামাটি শহরে একটি জরাজীর্ণ মাচাংঘরে বাসিন্দা বাদল দত্ত ও তাঁর স্ত্রী প্রতিদিন ঘুমিয়ে পড়তেন রাতের খাবার খাওয়ার পর। তিনি বলেন, ‘টানা বৃষ্টি হচ্ছিল, মুহূর্তে ঘুম ভেঙে যায়। যা দেখি, তাতে হাত–পা ঠান্ডা হয়ে আসে। পাশের পাহাড়টা আমার ঘরের ওপর পড়েছে।’ সেই সকালে রাঙামাটি জেলার ভেদভেদী বাজারে ঘটনাটি সংঘটিত হয়। পাহাড় কাটা কাজ এখনও চলছে ওই জেলায়। ঘরবাড়ি, অফিসসহ বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি হচ্ছে পাহাড়ে নির্মাণের কারণে।
দুর্যোগের ব্যাপক প্রতিক্রিয়া
পাহাড়ধস ঘটনাটি রাঙামাটি জেলা প্রশাসন অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল রাঙামাটি পৌরসভার ১৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা। সেই দিন বিধ্বস্ত হয়েছিল রাঙামাটি শহরের প্রায় ছয় হাজার ঘরবাড়ি। ৮৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়েছিল। ফসল নষ্ট হয়েছিল তিন কোটি টাকার। আর্থিকভাবে মোট ক্ষতির পরিমাণ ২০০ কোটি টাকা। রাঙামাটি সদর ছাড়া কাউখালী ও কাপ্তাই উপজেলায় বেশি মানুষ মারা গেছিল।
বর্তমান পরিস্থিতি
রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগের সে সকালে রাঙামাটিতে ১৪২ স্থানে পাহাড়ধস ঘটেছিল। এমন প্রাণঘাতী ঘটনার পরেও কেউ শিক্ষা নেনি। অনেকে এখনও পাহাড়ে বসতি প্রতিষ্ঠা করছেন। এ দুর্যোগে রাঙামাটি শহর তছনছ করে দেওয়া হয়েছিল। সড়কপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। রাঙামাটির সঙ্গে যুক্ত তিনটি সড়কের ১১৩টি স্থান ভেঙে যায়। এসব সড়কের ১৪৫টি স্থানে পাহাড়ধস হয়ে
