নতুন রাষ্ট্রে স্বপ্নভঙ্গের আখ্যান
নত ন র ষ ট র স – জিয়াউদ্দিন এম চৌধুরী তাঁর গ্রন্থ ‘অ্যাসাসিনেশন অব জিয়াউর রহমান: অ্যান্ড দ্য আফটারম্যাথ’ মাধ্যমে আমার সাথে পরিচয় ঘটে। সেই গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে, যখন তিনি চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ছিলেন। সেই সময়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড নিয়ে তিনি একটি গভীর ও বস্তুনিষ্ঠ দলিল রচনা করেন। গ্রন্থটি দ্বারা রাষ্ট্রপতি জিয়া হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া এবং তার পরপর ঘটনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
তিনি এ বইটির মাধ্যমে নবীন রাষ্ট্রের গঠনপ্রক্রিয়া ও সংকটগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। এ ছাড়াও তাঁর লেখার ধরন ও ঐতিহাসিক সংস্থার প্রতি সততা ও নিরপেক্ষতা বিশেষ আকর্ষণীয়। বইটির সাজেশন হিসেবে তিনি অনেকটা পেশাদার ইতিহাস–গবেষকের মতো লেখা করেছেন।
ভূমিকার প্রতি দৃষ্টিশ্রুতি
তাঁর নতুন গ্রন্থ ‘অস্থির সময়: বাংলাদেশের প্রথম চার বছর’ বইটি কভার করে রক্তস্নাত নবীন রাষ্ট্রের ভিত্তি গঠনের সময়কাল। গ্রন্থটির প্রাচীর সময় ছিল ডিসেম্বর ১৬, ১৯৭১ থেকে নভেম্বর ৭, ১৯৭৫ পর্যন্ত।
গ্রন্থের ভূমিকায় তিনি লিখছেন, ‘এই সময়টি ছিল বাংলাদেশকে মজবুত খুঁটির ওপর দাঁড় করানোর সময়। কিন্তু সে সময়টি নিয়ে লেখক রয়েছেন গভীর আক্ষেপ।’
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড নিয়ে তাঁর মাত্র ৯২ পৃষ্ঠার বইটি বহু পাঠককে সমৃদ্ধ করেছে। কিন্তু তাঁর নতুন গ্রন্থে সেই সময়টি নিয়ে অনেক সম্পর্কের বিশ্লেষণ রয়েছে।
বাকশাল গঠন: এক সংবেদনশীল চিত্র
ভূমিকায় লেখক যে একদলীয় রাষ্ট্রের কথা তুলে ধরেছেন, সে বিষয়ে গ্রন্থটির অধ্যায় ‘বাকশাল’ রয়েছে পৃষ্ঠা ৮২ এ। পাঠকদের আগে থেকে অবগত থাকা সত্ত্বেও তিনি বাকশাল গঠন কীভাবে সংবেদনশীল আমলা দেখেছিলেন, তার বিশেষ চিত্র রয়েছে।
জিয়াউদ্দিন লিখেছেন, ‘বাকশাল নিয়ে ডামাডোলের মধ্যে প্রতিদিন সংবাদ আসতে থাকল দেশের বিভিন্ন সংস্থা ও সমিতি কীভাবে বাকশালের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছে।’
তিনি যে সময় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বাংলাদেশে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিতে সেই রাষ্ট্র এক অস্থির সময়ে পরিণত হয়েছিল। তাই লেখক বর্ণনা করেছেন গণতন্ত্রবিহীন রাষ্ট্র গঠন কীভাবে ঘটেছিল।
মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার পরবর্তী সময়
স্বাধীনতার পরবর্তী রাষ্ট্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ অন্যতম আলোচিত চরিত্র ছিলেন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, তাজউদ্দীন আহমদ ও যুবনেতা শেখ মনি। গ্রন্থটি কীভাবে এ সময়ে বিশেষ চরিত্রগুলো কাজ করেছিল তার বিশ্লেষণ রয়েছে।
তিনি লিখেছেন, ‘শেখ মনি ও তাজউদ্দীন সম্পর্কে তাজউদ্দীন আহমদের বিরুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমানের অভিযোগ কীভাবে সম্পন্ন হয়েছিল, যার ফলে ব
