কথা দিলে কথা কি রাখতেই হয়: ইসলাম কী বলে
কথ দ ল কথ ক র খত – ইসলামে প্রতিশ্রুতি রক্ষা হিসেবে দুটি শব্দ ব্যবহার করা হয়—‘আহদুন’ আর ‘ওয়াদুন’। এই শব্দ দুটির মূল অর্থ প্রায় একই হলো চুক্তি বা শপথের মতো। সম্পর্কে যে কোনো লিখিত বা মৌখিক মুখোমুখি বোঝাপড়া করা হয় তা সাধারণত প্রতিশ্রুতি বলে গণ্য করা হয়। ছোট একটি শব্দ হলেও ইসলামে এর অর্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিশ্রুতির সামনে আল্লাহর স্থিতি
মানুষের মর্যাদা ইসলামে সর্বোচ্চ। এই মর্যাদার প্রকাশ হিসেবে প্রতিশ্রুতি রক্ষা মনে রাখা হয়েছে। কোরআনে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, “তোমরা প্রতিশ্রুতি পালন করো। নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে।” (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ৩৪) যারা কসম বা শপথ নিয়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে কাজ করে না, তাদের দুর্বলতা নিয়ে কোরআনে অনেকগুলি আয়াত আছে। তাদের জন্য কেয়ামতের দিন তীব্র শাস্তি প্রাপ্ত হবে।
“যারা প্রতিশ্রুতি ও কসম তুচ্ছমূল্যে বিক্রি করে দেয়, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সঙ্গে কথাও বলবেন না, তাকাবেনও না, পবিত্রও করবেন না। তাদের জন্য থাকবে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” (সুরা আলে–ইমরান, আয়াত: ৭৭)
আল্লাহ নিজেও মানুষের সঙ্গে অঙ্গীকার করেছেন। যেমন, রুহ সৃষ্টির পর তিনি মানুষের কাছে রব হিসেবে মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন। তার বিনিময়ে মানুষের কাছে অঙ্গীকার করেছেন। এটা কেবল মানুষের মধ্যে নয়, বরং আল্লাহর সঙ্গে যে সম্পর্ক গঠিত হয় তার প্রতিশ্রুতি হিসেবে গণ্য করা হয়।
মোনাফেকির লক্ষণে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ
নবীজি (সা.) বলেছেন, “মোনাফেকের আলামত তিনটি—কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে, আমানত রাখা হলে খেয়ানত করে।” (সহিহ বুখারি: ৩৩; সহিহ মুসলিম: ৫৯) এখানে ওয়াদা ভঙ্গ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম এটাকে কেবল একটা ভুল বলে দেখে না, বরং এটা চরিত্রের পরীক্ষার মাধ্যমে মোনাফেকির লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত করে।
প্রতিশ্রুতি রক্ষার ক্ষেত্রে একটা মৌলিক নীতি আছে। কোনো মুসলিম অঙ্গীকার করলে তার পূরণ করার সামর্থ্য অবিচ্ছিন্ন থাকতে হয়। অন্যথায় কোনো ওজরে তার অপরাধ মুক্ত হওয়া সম্ভব নয়। অনুবাদক ইলিয়াস মশহুদ বলেছেন, সম্পদের ধারণা বদলেছে, বদলে যাক ওয়াক্ফের ধারণাও।
“যদি কিছু না দেওয়ার ইচ্ছা থাকত, তাহলে তোমার আমলনামায় একটা মিথ্যা লেখা �
