হার্ভার্ডের অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রামে নির্বাচনের গল্প
Banglaprabah.com – হ র ভ র ড ল ড – স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি নতুন অধ্যায় শুরু হলো আমার জীবনে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের প্রতিষ্ঠিত ও বিশ্বখ্যাত ‘অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম’-এ নির্বাচিত হওয়ার খবর পেয়ে মনে হচ্ছে, নেতৃত্ব উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমার যাত্রা এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। ২০১৫ সাল থেকে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে আসছি। বিভিন্ন সংগঠনের সাথে কাজ করার মাধ্যমে টিম পরিচালনা, ইভেন্ট পরিকল্পনা, যোগাযোগ দক্ষতা এবং মানুষের সাথে কাজ করার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। এই অভিজ্ঞতাগুলোই আমাকে নেতৃত্ব সম্পর্কে আরও গভীরভাবে শেখার এবং নিজেকে দক্ষ করে তোলার প্রতি আগ্রহী করেছে।
প্রোগ্রাম সম্পর্কে বিস্তারিত
দ্য অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম মূলত একটি নেতৃত্ব উন্নয়নের উদ্যোগ। ২০১৭ সালে হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের অধ্যাপকরা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এই প্রোগ্রামটি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২১ সাল থেকে স্বাধীন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান অ্যাস্পায়ার ইনস্টিটিউট এর মাধ্যমে এটি পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্বের ১৯৫টি দেশ থেকে পাঁচ লাখেরও বেশি তরুণ এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছে। সম্পূর্ণ অর্থায়িত এই প্রোগ্রামটি বিশ্বজুড়ে সীমিত আয়ের এবং পরিবারের প্রথম সন্তান বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের তাদের সম্প্রদায়ে নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করে এবং শিক্ষাগত ও পেশাগতভাবে তাদের পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছাতে সাহায্য করে।
আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়ে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।
অংশগ্রহণের শর্তাবলী ও সুবিধা
এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই পরিবারের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হতে হবে। বয়স ১৮ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে হতে হবে। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ইংরেজি জানা থাকতে হবে। ৯ সপ্তাহের এই নেতৃত্বের প্রোগ্রামটি ৩টি মডিউলে বিভক্ত। আইইএলটিএস বা অন্য কোনো ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষার সনদ প্রয়োজন নেই, তবে ইংরেজি ভাষা পড়া ও শুনে বুঝতে পারতে হবে।
এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা যে সুবিধাগুলো পান: বিশ্বমানের একাডেমিক ও ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট কোর্সে অংশগ্রহণের সুযোগ, হার্ভার্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাস্টার ক্লাস, বিশ্বের অন্য অ্যাস্পায়ার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংযোগ তৈরির সুযোগ, উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক অনুদান, বিশ্বজুড়ে মেধাবী তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ, আইডিয়া বাস্তবায়নের জন্য অর্থায়ন এবং ব্যবহারিক দক্ষতা-নির্মাণ কর্মশালায় অংশগ্রহণের সুযোগ।
আমার যাত্রা
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের চার দেয়াল পেরিয়ে আমার চোখ ছিল বৈশ্বিক অঙ্গনে। তাই প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ পাশাপাশি অনলাইন কোর্স ও দীর্ঘদিনের স্বেচ্ছাসেবী কাজের মাধ্যমে নিজেকে দক্ষ করতে প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করি। ২০২৫ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক বুটক্যাম্পে অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়েছিল; কিন্তু ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত অংশ নিতে পারিনি। সেই অপূর্ণতা আমাকে থামিয়ে দেয়নি; বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শেখার নতুন সুযোগ খুঁজতে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করেছে।
নেপালে সেই আন্তর্জাতিক বুটক্যাম্পের সুযোগ হাতছাড়া হলেও, সেই অপূর্ণতাই আমাকে টেনে এনেছে হার্ভার্ডের অধ্যাপকদের প্রতিষ্ঠিত বিশ্বখ্যাত ‘অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম’-এ। গত মে মাসে অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম ২০২৬ ব্যাচ-৩ তে আবেদন করি। অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর অপেক্ষায় ছিলাম। নির্বাচিত হওয়ার ই-মেইল পেয়ে মনে হচ্ছে স্বপ্নের পথে কিছুটা এগিয়ে যাচ্ছি।
এই প্রোগ্রামটি আন্তর্জাতিকভাবে হার্ভার্ডসহ বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষক, প্রশিক্ষক এবং বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে ঘরে বসেই অনলাইনে শেখার সুযোগ করে দেয়। এ ছাড়া এখানে বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারীদের সাথে যুক্ত হওয়া, দলবদ্ধভাবে কাজ করা এবং বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ই আমাকে আবেদন করতে অনুপ্রাণিত করেছে।
লেখক: অনলাইন গ্রাফিকস ডিজাইনার, প্রথম আলো। পাশোনা ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে।

