বাংলাদেশ: সস্তা সিগারেটের ফাঁদে আরও বেশি ক্ষতি
সস ত স গ র ট র – বাংলাদেশে তামাক খাত থেকে সরকার প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা আয় করে। কিন্তু স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ এই আয়ের দ্বিগুণের বেশি—প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। এটি দেখায় দেশে সিগারেট খুব সহজে পাওয়া যায়। বিশ্বের সবচেয়ে সহজলভ্য সিগারেটের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ একটি হিসেবে রয়েছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দোকানি জাহিদুল বলেন, কম দামের সিগারেট বেশি চাহিদা পূরণ করে। কলেজপড়ুয়া এক তরুণ একটি দোকানে একটি দিনমজুর নেন বিড়ির প্যাকেট কিনে। প্রতিটি দোকানিকে স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা দৃঢ় মত দিয়েছেন যে দেশে তামাক কর কাঠামোর দুর্বলতা হলো সর্বোচ্চ কারণ। গবেষণার মতে সিগারেটের দাম কম হওয়ায় বাস্তবে কম ক্ষতি হয় না।
তামাক কর কাঠামোর সমস্যা
বর্তমানে দেশে চারটি মূল্যস্তরে সিগারেট বিক্রি হচ্ছে—নিম্ন, মধ্যম, উচ্চ ও প্রিমিয়াম। প্রতিটি স্তরে আলাদা করহার ও দাম রয়েছে। এই বহুস্তর কাঠামো বলা হয় কোম্পানিগুলোকে সুবিধা দিয়েছে। কারণ দাম বাড়লেও ধূমপান কমে না।
“সিগারেটে ইতিমধ্যেই অনেক বেশি কর রয়েছে,” বলেছেন তামাক কোম্পানিগুলোর পক্ষে যুক্তি। কিন্তু গবেষকেরা দাবি করছেন যে সমস্যা করের হারে নয়, কর কাঠামোয়।
গবেষণার পরিচালক অধ্যাপক শাফিউন এন শিমুল দেখিয়েছেন যে দেশে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বছরের পর বছর স্থির থাকছে। নিত্যপণ্যের চেয়ে সিগারেটের দাম কম বেড়েছে। গৃহস্থ বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৩ সালে খোলা চিনির দাম বেড়েছে ৮৯ শতাংশ, আলু ৮৭ শতাংশ, আটা ৭৫ শতাংশ এবং সয়াবিন তেল ৩৪ শতাংশ। একই সময়ে সিগারেটের দাম মাত্র ৬ থেকে ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ ও তরুণদের সিগারেটের জন্য অর্থ ব্যয় করা আরও সহজ হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি। দক্ষিণ এশিয়ার ১৬২টি দেশের মধ্যে কম দামি সিগারেটের সহজলভ্যতা বাংলাদেশ অবস্থান করেছে ১১২তম স্থানে। এটি দেখায় সিগারেট খুব সস্তা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান স্বীকার করেছেন যে আশপাশের দেশগুলোতে সিগারেট এত সস্তা হয় না।
প্রতিটি স্তরে আলাদা করহার থাকায় ভোক্তারা সহজে এক স্তর থেকে আরেক স্তরে চলে যেতে পারে। তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ এর বাস্তব পরিস্থিতিতে কর কাঠামো বদলের দাবি রয়েছে। ফিলিপাইন ও দক্ষিণ আফ্রিকায় তামাক কর বাড়ানোর ফলে সিগারেট ব্যবহার কমেছে এবং রাজস্ব বেড়েছে কয়েক �
