সরাইলে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ বন্ধের প্রতিবাদ, রুমিন ফারহানা বললেন, ‘এটি চমৎকার সিনেমা’
সর ইল বনলত এক সপ র স – ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় গত সোমবার বিকেলে মানববন্ধন কর্মসূচি হয়েছে। সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, যারা বাংলাদেশকে পেছনে টেনে নিয়ে যেতে চায় এবং দুর্নীতি ও অন্যায় বন্ধ করতে চায়, তারাই ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ করেছে। তিনি এই কর্মসূচিতে ব্যানারের অধীনে আয়োজন করেছেন বলে জানান।
সাংস্কৃতিক অস্ত্র থেকে বাংলাদেশকে বিপদে ফেলছে বলে অভিযোগ
রুমিন ফারহানা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাংলাদেশের সংস্কৃতির রাজধানী। যেখানে ২০২১ সালে সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর সংগীতাঙ্গন আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সেখানে কোনো সিনেমা হল নেই, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি জানান, এই কালো নকশা করছে যারা বাংলাদেশকে মৌলবাদী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিত করতে চায়।
‘যারা সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণ থেকে রক্ষা করতে পারে না, যারা সাঠ বছরের বৃদ্ধাকে ধর্ষণের হাত থেকে দূরে সরাতে পারে না, যারা দুঃশাসন ও টাকা পাচার থেকে মানুষকে বাঁচাতে পারে না—সেই রাষ্ট্র কেন সিনেমা বন্ধের প্রতিবাদে সহায়তা করে?’
তিনি অভিযোগ করেন, গত দুই বছরে একটা পর একটা মাজার ভাঙা হয়েছে। কবর থেকে মানুষ তুলে মুখোমুখি পোড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে ডানপন্থা ও দক্ষিণপন্থার উত্থানের সাথে সাথে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন রাষ্ট্র আশা করি না, যে মানুষকে পেছনে টেনে নিয়ে যায়।’
গত শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি দ্বারা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের প্রচারের মাধ্যমে সিনেমা বন্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে রোববার কসবা উপজেলার একটি স্কুলের মাঠে প্রদর্শনী শুরু হয়, কিন্তু পুলিশ ও প্রশাসন তা বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংসদ সদস্য বলেন, আমাদের দেশে সুমধুর আজান ও বাউলগান শুনা যায়। এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে যে রাষ্ট্র আজ আশ্রয় দিচ্ছে, ভবিষ্যতে সেই রাষ্ট্র পরাজিত হবে। তিনি আবেদন করেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে শুধু গোষ্ঠীকে নিন্দা করে না দেওয়া হোক। ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে পরিচয় রক্ষা করতে হবে।
