মৌলভীবাজারে গাছে গাছে কদমের হাসি
ম লভ ব জ র গ ছ – আবহাওয়ার চক্র অনুসারে বর্ষা আসতে আরও কিছুদিন বাকি আছে। তবে আগের বছরগুলোতে আমাদের প্রথম বৃষ্টি যে এসেছে, তা কিছুটা প্রমাণ করেছে। কদম ফুল আসলে বর্ষা আসার আগে থেকেই মনে হয় কিছুটা উজাড় ভালোবাসা নিয়ে চোখে চোখে ফুটেছে। গত বছরে একটি দুটি ফুল হাজির হয়েছিল, কিন্তু এবার সব গাছের প্রায় ফুল ফুটেছে। ছোট থেকে বড় আকারের কদমগাছগুলো নদীর পাড়ে ছায়া ছড়িয়ে দিয়েছে তাদের সৌন্দর্য।
মনু নদীর পাড়টি যে কদমগাছের ছায়া দ্বারা ঘিরে থাকে, তা বছরের পর বছর ধরে ক্রমাগত গৃহীত হয়েছে। কদম গাছ আদি নিবাস ছিল চীন ও মালয় এলাকা থেকে। তবে এই গ্রীষ্ঠ সময়ে তাদের ডালগুলো মুক্ত হয়ে আসে। সকালে ঝকমক করা আলোতে এই ফুলগুলো সেই কদম গাছের মূল প্রকৃতি নিয়ে হাসে।
বৈষ্ণব ঐতিহ্য ও শাখাপ্রশাখা
শিল্প এবং সংস্কৃতির দিকে তাকিয়ে দেখা গেছে কদমের অনন্য সৌন্দর্য। নিসর্গবিদ দ্বিজেন শর্মার মতে, কদম আমাদের প্রকৃতির আত্মজ। তার বই ‘শ্যামলী নিসর্গ’ থেকে বলা হয়েছে, কদম এ দেশের রূপসী তরুর প্রথমদের অন্যতম। সাদা হলুদ রংয়ের ফুলগুলো মাঝে মাঝে গাছের শাখায় বিস্তার লাভ করে।
কদম আমাদের অনুপম প্রকৃতির আত্মজ। বর্ণে গন্ধে সৌন্দর্যে কদম এ দেশের রূপসী তরুর প্রথমদের অন্যতম।
আজ শনিবার মনু নদীর পাড়ে বিশেষ উল্লেখযোগ্য দৃশ্য সৃষ্টি করেছে কদম ফুল। বৈষ্ণব ঐতিহ্য অনুযায়ী কদম তরু রাধা-কৃষ্ণের প্রিয় বৃক্ষ। মন্দির, বিশেষত বৈষ্ণবদের আখড়ায় এগুলো লাগানো হয়। তাদের শাখাগুলো মাটির সমান্তরালে বিস্তার লাভ করে। কচি পাতা হল কদম গাছের নিবিড় পত্রবিন্যাসের কারণে ছায়াঘন হয়ে ওঠে। ঝড়ঝাপটা সইতে কদম অতটা সবল নয়। শীত হচ্ছে পাতা ঝরার দিন। তবে বসন্তে কচি পাতা মাটিতে সেই বৃষ্টির ছায়া দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়ে ওঠে।
মৌলভীবাজার পৌরসভার পুকুরপাড়ে এক গাছে কদম ফুল অনেক কিছু তুলে ধরেছে। সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠের উত্তর পাশে সৈয়দ মুজতবা আলী সড়কে একটি গাছ ঝুলছে। গাছের কাণ্ড সরল ও উন্নত। পাতা বড় ও উজ্জ্বল-সবুজ। কদমের কাণ্ড ধূসর থেকে প্রায় কালো। এই তরুর নিবিড় পত্রবিন্যাসের কারণে তারা ছায়া দিয়ে বিশেষ উপকার করে।
