রুমিন ফারহানা: বিএনপিকে মানুষের ভোটের সত্য মেনে নিতে হবে
Banglaprabah.com – ম ন ষ আম ক এমপ ব – ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে স্থানীয় বিএনপি। এই অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা যোগদান করলেও দলটির নেতাকর্মীরা অনুপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রুমিন ফারহানা এক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিএনপিকে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে, জনগণ তাঁকে ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছে। এই কঠিন সত্যটি দলটিকে মেনে নিতে হবে।
নির্বাচনের ইতিহাস ও বিএনপির সাথে সম্পর্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রুমিন ফারহানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। হাঁস প্রতীকে তিনি ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি জোটের শরিক জামায়াতে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, যিনি খেজুরগাছ প্রতীকে ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট সংগ্রহ করেন।
নির্বাচনের আগে রুমিন ফারহানা বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক দায়িত্ব পালন করতেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কারণে দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়।
অনুষ্ঠান বর্জনের কারণ ও বিএনপির অবস্থান
উপজেলা পরিষদের হলরুমে আজ বুধবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি একটি আলোচনা সভারও আয়োজন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে বিএনপির কেউই অনুষ্ঠানে যোগ দেননি।
উনি (রুমিন ফারহানা) এমপি হিসেবে প্রশাসন নিমন্ত্রণ করেছে। আর আমাদের বিষয় হচ্ছে দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তাই অনুষ্ঠানে যাইনি।
— আনিছুল ইসলাম, সভাপতি, সরাইল উপজেলা বিএনপি
রুমিন ফারহানার বক্তব্য ও জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতিফলন
অনুষ্ঠান শেষে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রুমিন ফারহানা বলেন, মানুষের ভোটের অধিকারে যদি দল বিশ্বাস করে, মানুষের পছন্দের প্রতি যদি আস্থা রাখতে হয়, আমরা যে গণতন্ত্রের কথা বলছি, সেটা যদি মানতে হয়, যাঁরা আজকে অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন, তাঁদেরকেও আমার বলতে হয়, মানুষের রায়ে আপনিরা শ্রদ্ধাশীল নন। তাহলে ১৭ বছর কিসের জন্য আন্দোলন করেছেন?
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পার হলেও প্রত্যাশার বাংলাদেশ নির্মাণ করা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, আমরা কি সেই রকম একটা বাংলাদেশ রচনা করতে পেরেছি? আমরা কি সবার জন্য বাংলাদেশ, সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ—এ রকম একটা বাংলাদেশ তৈরি করতে পেরেছি? যদি তা না পারি, তাহলে এটি কি কেবল একটি সরকারের পরিবর্তে আরেকটি সরকার? কিছু সুবিধাভোগীর পরিবর্তে নতুন কিছু সুবিধাভোগী তৈরি করার আন্দোলন ছিল? যদি তা-ই হয়, আট শতাধিক মানুষ কেন তাঁদের জীবন দিলেন? যদি তা-ই হয়, তাহলে কেন কয়েক হাজার মানুষ চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেল? আহত হলো, দৃষ্টিশক্তি হারাল। এট তো হওয়ার কথা ছিল না।
৫ আগস্টের আগে তিনি রাস্তা মেনেছিলেন। তাঁর বাড়ি-গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের আমলে আমার বিরুদ্ধে ১০টা মামলা হয়েছে। হত্যা মামলাও হয়েছে। যদি ৫ আগস্টে এই গণ-অভ্যুত্থান সফল না হতো, আমি হলফ করে বলতে পারি, আজকে আমরা যাঁরা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি, কথা বলছি—শুনছি, আমরা কেউ কিন্তু এই জায়গাটা থাকতাম না।
অনুষ্ঠানে জুলাই যুদ্ধে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি রুমিন ফারহানা।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ম ন ষ আম ক এমপ ব?
ম ন ষ আম ক এমপ ব is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ম ন ষ আম ক এমপ ব matter?
ম ন ষ আম ক এমপ ব matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
