নারায়ণগঞ্জে তোলারাম কলেজে ছাত্রদল ও শিবিরের সংঘর্ষে ১০ জন আহত
Banglaprabah.com – ন র য়ণগঞ জ ত ল র – নারায়ণগঞ্জ শহরের সরকারি তোলারাম কলেজে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভা শেষে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত দশজন আহত হয়েছেন। কলেজের অডিটোরিয়ামে বুধবার বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। দুপুর দেড়টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হলে কলেজ এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সংঘর্ষের কারণ ও বিস্তারিত
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে শিবির নেতাদের বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শিবিরের এক কর্মীকে মারধর করেন। পরে শিবিরের নেতাকর্মীরাও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে লাঠিসেঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা লাঠিসেঁটা নিয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আজিজুল ইসলামের ভাষ্য, কলেজে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান উপলক্ষে আলোচনার সভায় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে কটূক্তি করেন।
এরপর পরিকল্পিতভাবে ছাত্রদলের চার থেকে পাঁচজন নেতাকর্মীকে মারধর করা হয়। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রতিরোধ করতে চেষ্টা করলে আগে থেকেই শহীদ মিনারে জড়ো হওয়া শিবিরের ৩০০ থেকে ৪০০ নেতাকর্মী লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান।
হামলায় ছাত্রদলের তুহিন, জাকারিয়া, সাব্বির, অনিক, সীমান্ত, ইমাম হোসেনসহ আট থেকে দশজন আহত হয়েছেন।
শিবির নেতাদের বক্তব্য ও অভিযোগ
বক্তব্যের একটি ভিডিওতে তোলারাম কলেজ ছাত্র শিবিরের সভাপতি এমদাদুল হককে বলতে শোনা যায়, জুলাইয়ের দুই বছর অতিবাহিত হয়েছে, আমরা দেখতে পাচ্ছি এখন অনেক কিছু বাস্তবায়ন নাই। বিভিন্ন জায়গায় ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। যারা জুলাই আন্দোলনের অগ্রপথিক ছিল তাঁদের ওপরও হামলা করা হচ্ছে। এগুলো বর্তমান সরকারের ‘আই হ্যাভ এ প্লান’-এর অংশ কি-না সে প্রশ্ন তোলেন এমদাদুল।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক অমিত হাসান জানান, অনুষ্ঠান শেষে বের হওয়ার সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কলেজ ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক তামিম ইকবাল ও অর্থ সম্পাদক তানভীর আহম্মেদের ওপর হামলা চালান। পরে চাষাড়া এলাকায় তোলারাম কলেজ শিবিরের সভাপতি এমদাদুল হকের ওপরও হামলা করা হয়। অমিত ও শিবিরের আরও নেতাকর্মী সেখানে গেলে তাঁদেরও মারধর করেন। পরে শিবিরের নেতাকর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
পুলিশের প্রতিক্রিয়া ও ছাত্রদলের দাবি
সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মো. হাসিনুজ্জামান প্রথম আলোকে জানান পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনার পর কলেজ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শিবিরের সন্ত্রাসীদের আগে থেকে প্রস্তুতি ছিল, ওরা আমাদের ওপর হামলা করবে। কলেজের অন্যান্য সংগঠনের ওপর তাঁরা হামলা করবে। আমরা তাঁদেরকে প্রতিহত করেছি। তোলারাম কলেজকে আমরা শিবিরমুক্ত ঘোষণা করছি। এই সন্ত্রাসীদের তোলারাম কলেজ এই ছাত্রাবাসে সন্ত্রাসীদের কোনো জায়গা হবে না। তাঁরা এখানে কোনো আস্তানা করতে পারবে না। এরপরও হলে কোনো শিবির আশ্রয় নিলে সম্পূর্ণ দায়িত্ব আমাদের স্যাররা নিবেন।
সরকারী তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়া এই মন্তব্য করেন।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ন র য়ণগঞ জ ত ল র?
ন র য়ণগঞ জ ত ল র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ন র য়ণগঞ জ ত ল র matter?
ন র য়ণগঞ জ ত ল র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
