মধ্যপন্থা: রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত বাজেটে কোরআনের মৌলিক দর্শন
মধ যপন থ – রাষ্ট্রীয় বাজেটে বেশি অর্থ ব্যয় করার কারণে ঘাটতি সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে হয়। এ ঘটনা সংঘটিত হয় অনুৎপাদনশীল খাতে বিপাক বৃদ্ধি, সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতার অভাব এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলির দীর্ঘসূত্রতার ফলে। এই অর্থের অপচয় এমনভাবে জনগণের জীবনে প্রতিফলিত হচ্ছে যে সাধারণ নাগরিকদেরও টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।
ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পদের সংরক্ষণ
ইসলাম মৌলিক দর্শন অনুযায়ী সম্পদ ব্যক্তিমালিকানা বা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হয় না; বরং এটি আল্লাহর দেওয়া আমানত হিসেবে বিবেচিত হয়। সুতরাং কোনো খরচ করার পূর্বে অপরাধের অবকাঠামো থাকতে হয়। একথা কোরআনে একটি বিশেষ সতর্কতা হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
“তোমরা আহার করো ও পান করো, কিন্তু অপচয় কোরো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।” (সুরা আরাফ, আয়াত: ৩১)
অপব্যয়কারীদের আল্লাহর দেওয়া সীমিত সম্পদের বিপর্যয় করে সমাজের প্রতি জুলুম করা ইসলামের দৃষ্টিতে অপরাধ। তাই শাসন কর্তৃক ব্যয় করার সময় সীমালঙ্ঘন করে অতিরিক্ত ব্যয় করা কোরআনের নির্দেশনা বিপর্যয় করে আল্লাহর প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
আগে আমুর রামাদাহ সংকটে নিয়ম প্রবর্তন
১৮ হিজরি সনে মদিনায় আগে আমুর রামাদাহ বা ছাইয়ের বছরে একটি ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয়। এ সময় খলিফা ওমর (রা.) রাষ্ট্রীয় এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে বিলাসী খরচ কমানোর নজির স্থাপন করেন। তিনি ঘি ও দুধের দাম নাগালের মধ্যে না আসা পর্যন্ত নিজে সুস্বাদু খাবার স্পর্শ করতেন না। তাঁর খাবারের জন্য রুটি ও সাধারণ তেল ব্যবহার করা হয়। ফলে তাঁর গায়ের রং কালচে হয়ে গিয়েছিল। (ইবনে জারির তবারি, তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক, ৪/৯৮, দারুল কুতুবিল ইলমিয়াহ, বৈরুত, ১৯৮৭)
রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ বা বৈদেশিক মুদ্রা যদি বিলাসী পণ্য আমদানির জন্য ব্যয় করা হয়, তবে ইসলামি শরিয়তের পরিপন্থী হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে আগে মৌলিক চাহিদাগুলির জন্য বাজেট নিশ্চিত করতে হবে। ড. ইউসুফ আল-কারজাভি (রহ.) এর মতে সামষ্টিক সংকটের সময় অপচয়ের বিরুদ্ধে বাজেট সংরক্ষণ প্রয়োজন।
“যে ব্যক্তি পরিমিত ব্যয় অবলম্বন করে, সে কখনো অভাবগ্রস্ত হয় না।” (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ৪২৬৯)
সাধারণ পরিবারের ক্ষেত্রে ধর্মীয় নীতি অনুযায়ী কৃপণতা বা অতি প্রয়োজনীয় ব্যয় থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সামান্য খাদ্য ও পানীয় ব্যবহার করে মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে হবে। কোরআনে এমন দুই গুণের মধ্যবর্তী ভারসাম্যপূর্ণ পন্থা চিত্রায়িত করে বলা হয়েছে, “এবং যারা ব্যয় করার সময় অপচয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না; বরং তাদের পন্থা এই দুইয়ের মধ্যবর্তী ভারসাম্যপূর্ণ হয়।” (সুরা ফুরকান
