ভঙ্গুর অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে দুই বছর সময় দিতে হবে: অর্থমন্ত্রী
ভঙ গ র অর থন ত স – অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঘোষণা করেন যে, দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুরোপুরি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধির পথে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগবে। এ কথা রোববার রাজধানী গুলশানের লেকশোর হোটেলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত বাজেট সংলাপ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন।
পরিস্থিতি সাময়িক সমস্যা
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সার্বিক পরিস্থিতির কারণে সরকারকে দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। তবে সংরক্ষণের কারণে বাইরে থেকে গ্যাস আনতে সময় লাগবে কমপক্ষে ১৮ মাস।
‘আমি তো তিন মাসে এসব সমস্যা সমাধান করতে পারব না। টাকা দিয়েও এত দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান হবে না।’
ট্রিলিয়ন ডলার লক্ষ্যমাত্রা
বাজেটের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর লক্ষ্য জানানো হয়। অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং শক্তিশালী ইন্টারনেট ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘এই তিন জায়গায় আমরা বিনিয়োগ করছি।’
নতুন ব্যবস্থা চালু হবে
প্রকল্প নজরদারিতে বিশেষ ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড চালু করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, এটি প্রতিটি প্রকল্পকে দৈনিক ভিত্তিতে ট্র্যাক করবে। তিনি বলেন, ‘ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা নয়, আমরা একটা ড্যাশবোর্ড করছি।’
নীতি ও ব্যবস্থার পরিবর্তন
বাজেটে নিয়মকানুন সহজ করার জন্য টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। সেই ওয়েবসাইটে কোনো নাগরিক বা ব্যবসায়ী যদি নিয়মকানুন ভঙ্গ হয়, তারা তার জানাতে পারবে। আশা করা হয় যে, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে।
শিল্পের কাঁচামাল আমদানির শুল্ক-কর কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য আনতে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা উন্মুক্ত করা হয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীদের পণ্য রপ্তানি করতে সুবিধা পাওয়া যাবে। ঋণপত্র বা এলসি খোলাও এখন আর বাধ্যতামূলক রাখা হয়নি।
সামগ্রিক মতামত
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অর্থমন্ত্রী জানান, পরিচালন ব্যয়ের জন্য থোক বরাদ্দ করা হয়নি। সেই বরাদ্দ যে উন্নয়ন কাজের জন্য।
নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে ঋণ বিনিয়োগের মাধ্যম নয়, বরং টিকে থাকার হাতিয়ার হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগবে।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাজেট ও সময়সীমা ধরে রাখা যাচ্ছে না। এ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে তৈরি হবে।
