ফুটবল মাঠে বাঁ পেয়ে খেলোয়াড়দের সাফল্যের পেছনে বৈজ্ঞানিক কারণ কী
ফ টবল ম ঠ ব প য – ফুটবল মাঠে বাঁ পেয়ে খেলোয়াড়দের পায়ে বিশেষ ক্ষমতা থাকে। মেসি, ইয়ামাল এবং সালাহ একাধিক জাতীয় অ্যাথলেট হিসেবে বাঁ পেয়ে খেলোয়াড়দের সামনে এগিয়ে আসে। বিশ্বে মাত্র ১৪ থেকে ১৭ শতাংশ মানুষ বাঁহাতি হিসেবে খেলেন, কিন্তু আন্তর্জাতিক দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সেই পরিমাণ দেখা যায় ২৩ থেকে ৩২ শতাংশ। নেদারল্যান্ডসের যুব দলগুলোতে এই সংখ্যা প্রায় ৪১ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।
বাঁ পেয়ের জন্মগত সুবিধা
বাঁ পায়ে খেলোয়াড়দের বিশেষ আধিপত্য তাদের জন্মগত ক্ষমতা থেকে উদ্ভূত হয়। এদের বিশেষ ক্ষমতা প্রকৃতি দিয়ে সংসাধিত হয়, যখন তারা প্রান্তে চোখের পলকে ওয়ান-টাচ পাস বা শট করতে পারে। ডান পেয়ের খেলোয়াড়দের জন্য সম্পূর্ণ নতুন শরীর ঘোরানো বা পজিশন পরিবর্তন করতে হয়, কিন্তু বাঁ পেয়ের খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে এটা প্রয়োজন হয় না। মাঠে এই বৈশিষ্ট্যের অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে, যেখানে তারা অত্যন্ত সহজে নির্দিষ্ট কোণে বল সরাসরি গোল করতে পারে।
বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে সামান্য মিলিসেকেন্ডের ব্যবধানই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।
ডান প্রান্তে বাঁ পেয়ে খেলোয়াড়দের মুখোমুখি হওয়া যেকোনো ডিফেন্ডারের জন্য কঠিন। মানুষের মস্তিষ্ক নির্দিষ্ট প্যাটার্ন বা চলন ধরে থাকে। অধিকাংশ খেলোয়াড় ডান পেয়ে খেলেন, তাই ডিফেন্ডাররা তাদের নড়াচড়াতে সহজে অনুমান করতে পারে। কিন্তু বাঁ পেয়ের খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে তার ভিন্ন ধরনের নড়াচড়ার জন্য প্রতিপক্ষের মস্তিষ্ক সামান্য বেশি সময় নেয়।
অনুশীলনের মাধ্যমে বাঁ পেয়ের দক্ষতা
বাঁ পায়ের দক্ষতা অনুশীলনে কমে না, কিন্তু তা সম্পূর্ণ ভাবে বাঁ পেয়ের সহজাত প্রবৃত্তি প্রতিস্থাপন করতে পারে না। বিশেষজ্ঞদের মতে বাঁ পেয়ের খেলোয়াড়দের সৃজনশীল চিন্তার দক্ষতা ডানহাতি মানুষের চেয়ে কিছুটা বেশি। এটা দেখা গেছে যে বাঁহাতি মানুষেরা সৃজনশীলতার পরীক্ষায় কিছুটা এগিয়ে থাকেন, কারণ তাদের জন্য বিশ্বের বেশির ভাগ সংসাধনা ডানহাতি মানুষের জন্য তৈরি। ফুটবল মাঠে এই সৃজনশীলতার তত্ত্বটি আবারও প্রযোজ্য।
