নেতৃত্বের পরিবর্তন কিংবা ইসরায়েলের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে কি?
ন ত ত ব পর বর তন – ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্ষমতা থেকে সরে আসার পর তাঁর বিরুদ্ধে বিরোধীদলের নেতা নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদ একত্র হয়েছেন। তাঁদের ক্ষমতা গ্রহণের লক্ষ্যে দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রী গাজায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার ঘটনা বা আঞ্চলিক যুদ্ধ নিয়ে কোনো তীব্র আপত্তি প্রকাশ করেননি। গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন সম্পর্কে জাতিসংঘের একটি কমিশন গণহত্যা হিসেবে ঘোষণা করেছে।
বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের প্রতি প্রতিবেশীদের মনোনিবেশ বাড়ছে। ইউরোপে স্পেন, নরওয়ে এবং আয়ারল্যান্ড দেশগুলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছেও ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত করার চাপ দেখা দিয়েছে। একই সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ গ্রহণ করেছে।
ট্রাম্পের নীতি নিয়ে ইসরায়েলি বিশ্লেষকদের মতামত
আল–জাজিরাকে বলেন বেথ অপেনহেইম, ‘আপাতত ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর প্রকাশ্যে “বন্ধুত্ব” বজায় আছে, তবে ইরান ও লেবানন যুদ্ধে সেই সম্পর্কে ফাটল দেখা দিয়েছে। নেতানিয়াহু বলেছিলেন ইরানের জনগণ উঠে দাঁড়াবে, কিন্তু কেউ তা কেন হয়নি সেটা কেউ জিজ্ঞেস করেননি।’
বেনেট ও লাপিদের মনে হয় বিশ্বের মানুষ ইসরায়েলকে ঘৃণা করে না, কেবল নেতানিয়াহুকে। তাঁদের ভাষায় সরকার গঠনের প্রচার শুরু হয়েছে। বিশ্বাস করা হচ্ছে যে বিশ্ব কাছাকাছি ইসরায়েলের অনুমোদন করবে।
নিউইয়র্কের সাবেক ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত অ্যালন পিনকাস আল–জাজিরাকে বলেন, ‘ইউরোপে ইসরায়েলের বিচ্ছিন্নতা বাড়ছে, তবে তাঁদের সরকার গঠনের প্রচেষ্টা পরিবর্তনের সংকেত হিসেবে কাজ করতে পারে। ফিলিস্তিন কর্তৃক চালিত যুদ্ধ ও মানবাধিকার সংকটে তাঁদের কোনো উল্লেখযোগ্য সমালোচনা নেই।’
বিশ্লেষকদের মতে ইউরোপে ইসরায়েলের বিচ্ছিন্নতা কতটা গভীর হচ্ছে তা আলোচনা করা হচ্ছে। পশ্চিমা সরকারগুলো ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য ও উন্নত প্রযুক্তি থেকে লাভবান হয়ে আসছে। রাজনৈতিক চাপ মুখ্যত ইয়ার লাপিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে আসছে।
