ঝড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে মারা গেল মাঠে থাকা ৭টি গরু, ক্ষতিপূরণ দাবি
ঝড় ব দ য ত র ত – গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজশাহীর তানোর উপজেলায় ঝড়ে নেসকোর একটি বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়ে। খুঁটিটি বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) লোবাতালা সেতুর পূর্ব পাশে অবস্থিত একটি গভীর নলকূপের সংযোগে ছিল। ঝড়ের পর তার ছিঁড়ে পড়ে সেই নলকূপ থেকে মাঠে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সাতটি গরু এবং দুটি শিয়াল মারা যায়। গরুগুলোর দাম ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা।
বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে থাকার ঘটনা নেসকো জানতে পারেনি। গতকাল শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেল যে গরুগুলো মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। এ দুর্ঘটনার পর মালিকদের সারা দিন ক্ষতিপূরণের জন্য অভিযোগ জানাচ্ছে। শেষে সন্ধ্যায় তারা গরুগুলো পুঁতে ফেলেন।
বিষয়টি সম্পর্কে মালিকদের কথা
হরিদেবপুর গ্রামের তপু বালা বলেন, ‘এই আমাদের সংসার। আমরা গরুর ক্ষতিপূরণ চাই।’
সুধা রানীও একই কথা বলেন।
গরুর মালিক মোজাফ্ফর হোসেন জানান, তিনি ৮২ হাজার টাকা দিয়ে গরুটি কিনেছিলেন। বর্তমানে তার বিক্রি করলে লাখ টাকার বেশি দাম হবে। তিনি ঘোষণা করেন, প্রতিদিন সকাল ছয়টার দিকে গরু মাঠে ছেড়ে দেন। গতকাল সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঘটনার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। দেখেন যে তাঁর গরুও মরে পড়ে আছে।
স্থানীয় বাসিন্দার মত
সুকুমার রবিদাস বলেন, রাতের ঝড়ে বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়ে। তার ছিঁড়ে যায় এবং মাঠে পড়ে। সকালে গরুগুলো চরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত।
নেসকোর আঞ্চলিক প্রকৌশলী অমিত হাসান বলেন, খুঁটির ট্রান্সফরমার থেকে বিএমডিএ একটি গভীর নলকূপের সংযোগ দিয়েছিল। সেখান থেকে পাম্পে আরেকটি সংযোগ টানা ছিল। ঝড়ে গভীর নলকূপ থেকে তার ছিঁড়ে মাঠে পড়ে ছিল। সেচ দেওয়ার প্রয়োজন না হওয়ায় কেউ খেয়াল করেননি। তারা ওই লাইনের বিদ্যুৎ সঙ্গে সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে লাইন ঠিক করার কাজ করা হয়।
তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে এ ব্যাপারে জানিয়েছেন। ক্ষতিপূরণের নিয়ম আছে কি না, জানা নেই। বিএমডিএর তানোর অঞ্চলের সহকারী প্রকৌশলী নাইমুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুতের লাইনটি নেসকোর। তাঁরা বলতে পারবেন। বিএমডিএ তো নেসকোর গ্রাহক মাত্র।
তানোর থানার প্রতিক্রিয়া
তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মাসুদ পারভেজ বলেন, ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। �
