গভীর অনুসন্ধান হওয়া জরুরি
গভ র অন সন ধ ন হওয় – প্রতিবছর প্রায় ৩৬ শতাংশ শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে বাধ্যতা পেলেও তা দিচ্ছেন না—এ তথ্য আমাদের পুনরায় সামনে আসছে কারণ এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য একটি ভয়াবহ সত্য। দুই বছর আগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করেছিলেন প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে পরীক্ষা ফরম পূরণ করেননি সাড়ে পাঁচ লাখ ছাত্র, যার সাথে পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিলেন ২৪ হাজার ৭৮৪ জন শিক্ষার্থী। এইচএসসি পরীক্ষার জন্য অংশ নেওয়া না হওয়া হার আরও বৃদ্ধি পেয়েছে এক বছরের মধ্যে। পরিসংখ্যান বলেছে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এই হার ৩৩ শতাংশ, মাদ্রাসায় ৪৪ শতাংশ এবং কারিগরিতে ৫৪ শতাংশ।
অনুপস্থিতির সত্য কে ভেবে দেখুন
গত বছর এইচএসসি পরীক্ষার অংশ নেওয়া না হওয়ার পর ঢাকা বোর্ড ছয় হাজার এক শত ছাত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করেছিল। তার মধ্যে প্রায় ৪১ শতাংশ ছাত্র বিয়ে করে ফেলেছিলেন। সুতরাং শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির প্রধান কারণ হল বাল্যবিবাহ। এছাড়াও প্রস্তুতির অভাব ও দারিদ্র্য ছিল গুরুতর কারণ।
আমরা মনে করি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এস এম হাফিজুর রহমান যথার্থই বলেছেন, এ পরিস্থিতির পেছনে বিদ্যমান লেখাপড়ার পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার দুর্বলতা নাকি পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক বা ব্যক্তিগত কোনো কারণ কাজ করছে—তা গভীরভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।
গত কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা বলে শিক্ষার উন্নয়ন নিয়ে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষা–নিরীক্ষা হয়েছে। এসব পরীক্ষা–নিরীক্ষার পেছনে শিক্ষার্থী হল একমাত্র গিনিপিগ। কিন্তু বাস্তবে শিক্ষার মান ক্রমে কমে আসছে এবং শিক্ষাকে ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিকীকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণ করা হয়েছে। ফলে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পুরো বনিয়াদি শিক্ষাটি এখন ব্যয়বহুল ও বিলাসী পণ্য হয়ে উঠেছে।
