অনীক দত্তের মৃত্যুতে শ্রীলেখা মিত্র কান্নায় ভেঙে পড়েছেন
কমর ড এট একদম ঠ ক করল – পশ্চিমবঙ্গের প্রসিদ্ধ নির্মাতা অনীক দত্ত মারা গেছেন। তাঁর জন্মদিন ছিল ২২ মে। আজ বুধবার দুপুরে তার মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হতেই টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়া স্তম্ভিত হয়েছে। অনীকদা বিশ্বাস করতেন না যে তিনি তত প্রাচুর্য হারাবেন। এমন সুন্দর রসবোধে পরিচিত ছিলেন যাঁর বন্ধুদের কেউ ঈর্ষা করতেন না।
যে মানুষ কোনো দিন আপস করেননি, যিনি শিরদাঁড়া নোয়ানোর সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত ছিলেন না, এমনকি যাঁর রসবোধকে বন্ধু-সহকর্মীরাও ঈর্ষা করতেন, সেই মানুষের আকস্মিক মৃত্যু যেন অস্বাভাবিক। ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে এমন রহস্যজনক মৃত্যু ঘটল যে আজও বিশ্বাস করতে পারছেন না সিনেদুনিয়ার কর্মীরা।
রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, ‘অনীকদা এমন একটি মানুষ ছিলেন যাঁর সঙ্গে আলোচনা করার পর মনে শান্তি ছিল। সেই ধারায় তিনি বিজ্ঞাপন তৈরি করতেন। আমার সঙ্গে তাঁর সঙ্গে বিজ্ঞাপনে কাজ করেছি। তাঁর জন্য বিজ্ঞাপন ও সিনেমাজগত দুই ক্ষেত্রে সামান্য নয় এক গুরুতর ক্ষতি। ওঁর মৃত্যুর পর আমরা কেউ মানতে পারছি না।’
পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘দৃঢ়চেতা মানুষ ছিলেন অনীকদা। এই ঘটনা কান্নার কারণ হয়েছে। বিজ্ঞাপন জগতের সাথে সিনেমাজগতের প্রতিকূল পরিবেশ কারও হারানো সম্ভব নয়।’
প্রযোজক ফিরদৌসুল হাসান জানান, ‘অনীকদার প্রয়াণের পর ক্রিয়েটিভ ফিল্ডে ক্ষতি হয়েছে। ছিল সিনেমার জন্য আকর্ষণীয় এক কনসেপ্ট নোট যে চিত্রনাট্যকার উৎসব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। এমন করে আমরা আলোচনা করেছিলাম। সেদিন তিনি মনে হয় মানসিক অবসাদে ছিলেন না।’
‘ভবিষ্যতের ভূত’ ছবির চিত্রনাট্যকার উৎসব মুখোপাধ্যায় জানান, ‘পরশু রাতে কনসেপ্ট নোট পাঠানো হয়েছিল। তাঁকে আলোচনা করার জন্য সেটা পাঠানো হয়েছিল। ওঁর স্বাভাবিক মনে হয়েছিল। তিনি সেই নোটে কিছু কারেকশন করেছিলেন।’
সিনেমাজগতের বিশেষজ্ঞদের মতে অনীকদার মৃত্যু অপূরণীয়। তিনি ছিলেন সামাজিক সংস্কৃতির সাথে পরিচিত এমন একজন মানুষ। স্বাভাবিক জীবনের ধারার মধ্যে কেউ এত ভালো সেন্স অব হিউমার খুঁজে পাবেন না। সুতরাং আমাদের মনে হচ্ছে এই ঘটনার পর কেউ ওঁর স্থান পূরণ করতে পারবে না।
‘কমরেড, এটা একদম ঠিক করলে না আমাদের সঙ্গে।’ অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র বলেন, ‘তুমি তো শেষ হাসি হাসছিলে! কেমন করে তোমার অনুরাগীদের জন্য উদাহরণ তৈরি করবেন কেউ? আমি আবার অভিভাবকহারা হলাম।’
সংবাদ প্রতিদিন অবলম্বনে
