ঈদুল আজহায়ও ঢাকায় গরুর মাংস বিক্রি কেন বেশি হয়
ঈদ ল আজহ য়ও ঢ ক য় – ঈদুল আজহার সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় লাখ লাখ পশু কোরবানি হয়ে যাওয়ার পর একটি অপরিহার্য প্রয়োজন মাংসের চাহিদা কমে না। বরং এই সময়ে গরুর মাংসের বিক্রি বৃদ্ধি পায়। ছোট মাংস বিক্রেতাদের কথা বলে জানা গেছে, রাজধানীতে কোরবানি দেওয়া না করে বা করতে পারেন না বলে কিছু পরিবার ঈদের আগে বেশি মাংস কিনতে আসে। ফলে দোকানে প্রতিদিন চাহিদা বেড়ে যায়।
পশু কোরবানির হার কমে গেলে সে কারণে মাংসের চাহিদা বাড়ে। বিশেষত রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটের সময় এই সংখ্যা কমে। করোনা মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কমে গেলে কোরবানির সংখ্যা হ্রাস পেয়।
বিক্রেতারা ব্যাখ্যা দিয়েছেন
ঈদের আগে মাংসের চাহিদা বেশি থাকার কারণ হলো পরিবারগুলো কোরবানি দেওয়া না করার কারণে। অনেকে আর্থিক কারণে মাংস কিনতে আসে। এবং ঈদে বাড়িতে মাংসের দরকার হয়। ব্যাচেলর লোকজনও আসে।
বছরের অন্য সময়ে এক থেকে দুই কেজি মাংস বিক্রি হয়, কিন্তু ঈদুল আজহার আগে চার থেকে পাঁচ কেজি পর্যন্ত বেড়ে যায়। সাধারণত দুটি গরু জবাই করা হয়, তবে ঈদের আগের দিন তিনটি গরু হারায়। এটি জানিয়েছেন মো. হাফিজ এন্টারপ্রাইজের মালিক।
আরেক বিক্রেতা মো. ইব্রাহিম বলেন, এই সময় কোরবানি দেওয়া পশুর সংখ্যা কম হওয়ায় মাংসের চাহিদা বেড়ে যায়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সালে কোরবানির সংখ্যা বিশ্লেষণ করা হলো। ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তথ্য দেখা গেছে যে অর্থনৈতিক সংকট হলে পশু কোরবানি কমে।
বছরের সময়ে পশু কোরবানি বাড়ছিল, কিন্তু করোনা মহামারি আগে কোরবানি হওয়া পশুর সংখ্যা ১ কোটি ৬ লাখের পর কমে গেলে এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হয়। এ কারণে কোরবানি হওয়া পশুর সংখ্যা ২০২৫ সালে কমে ৯১ লাখ ৩৬ হাজারে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহজামান খান বলেন, মানুষের আর্থিক অবস্থা কোরবানির সংখ্যার প্রধান কারণ। সুতরাং পরিবারগুলো ঈদের সময় গরুর মাংসের বেশি চাহিদা থাকে।
