ইমরুল কায়েসের জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীর গুম সম্পর্কে তথ্য
ইল য় স আল র গ ম – বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য ইমরুল কায়েস আজ রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ ইলিয়াস আলীর গুম ঘটনার সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য প্রকাশ করেছেন। বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী গুম হন ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল। এই জবানবন্দিতে সেনাপোশাকে থাকা ইমরুল কায়েস বলেন, তিনি সেনাবাহিনীতে ২০০১ সালে সৈনিক হিসেবে আর্মাড কোরে যোগদান করেন। তিনি ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত র্যাব হেড কোয়ার্টারে কর্মরত ছিলেন। র্যাব ইন্টেলিজেন্সের পরিচালকের সাথে কাজ করেন তিনি।
জবানবন্দিতে ইমরুল কায়েস বলেন, ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনার সময় তিনি মহাখালী ফ্লাইওভারের নিকটে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘২০১২ সালের সম্ভবত ১৩ এপ্রিল হেডকোয়ার্টার থেকে জিয়া স্যার, নওশাদ স্যার এবং স্কোয়াড্রন লিডার সাইফ স্যার সহ আমরা একটি মাইক্রোবাসে মহাখালী ওভারব্রিজের কাছে যাই। কাকে গাড়িতে পিক করবে তা আমি জানতাম না। জিয়া স্যার ফোন করছিলেন বিভিন্ন জায়গায় টার্গেট আসবে কি না তা জানতে।’
‘৯ দিনের ছুটি শেষে আমি এপ্রিল মাসের ২৩ তারিখে কর্মস্থলে ফিরে আসি। যোগদানের পর আমি র্যাব হেডকোয়ার্টারে একটি তারিখ ছিল যখন জিয়া স্যার কোতের অস্ত্রের ইন-আউট রেজিস্টার এবং সিসিটিভি ফুটেজ নষ্ট করেন।’
তিনি আরও বলেন, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান প্রতিদ্বন্দ্বী নেতা ইলিয়াস আলীকে অপহরণের জন্য জিয়া স্যার দিন সাথে কাজ করেন। অপর প্রান্তে কী বলেছেন তা তিনি জানতেন না। তবে জিয়া স্যার তীব্র ভাষায় কথা বলেন, ‘স্যার, আপনাদের কথামতো ইলিয়াসকে গলফ করলাম, এখন আপনারা এমন করলে হবে! আমি কমান্ডো মানুষ, আমাকে জঙ্গলে পোস্টিং দিয়ে পাঠায়ে দেন এটাই আমার ভালো।’
মামুন খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদে ইলিয়াস আলীর গুমের যোগসূত্র পাওয়া গেছে বলে চিফ প্রসিকিউটর উল্লেখ করেন। জিয়া স্যার তারেক স্যারের সাথে কথা বলতে শুরু করেন এবং তাঁর ফোনে কী বলা হয়েছিল তা ইমরুল কায়েস জানেন না। জবানবন্দির সময় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।
এই মামলার একমাত্র আসামি হলেন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী নেতা ইলিয়াস আলীর গুম ঘটনার তদন্তে প্রধান অংশ নেন।
