পেন্টাগনে অস্থিরতার আঁচ
আস থ হ নত য প ন – পেন্টাগনের বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের আনুগত্য পরিচালনার জন্য তথ্য গোপন ও পলিগ্রাফ পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি বিভিন্ন কর্মকর্তাদের আনুগত্য নিয়ে সন্দেহ বোধ করছেন এবং তাঁদের নিয়ন্ত্রণের জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন।
সেনাপ্রধানের বিদায়
মার্কিন সেনাপ্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জের চাকরি থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে, যার কারণে পেন্টাগনে আস্থাহীনতার মুখ দেখা গেছে। গত ১ এপ্রিল তিনি জেনারেল জর্জের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দেন কিন্তু তা ঘটে নি। পরদিনই তাঁকে বরখাস্ত করা হয়, যার কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
“প্রতিদিন আমাদের হিসাব কষে কাজ করতে হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে বসের চাকরি থাকবে তো, নাকি তিনি বরখাস্ত হবেন? এমন পরিস্থিতি সত্যিই নজিরবিহীন।”
হেগসেথের নেতৃত্বে পেন্টাগনে পূর্বে চারজন কর্নেলের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পদোন্নতি বাতিল করা হয়েছে। তাঁর নিয়ন্ত্রণের ফলে সামরিক অভিযান সম্পর্কে জানার জন্য কিছু সেনাকে গোপনীয়তা রক্ষার চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে হচ্ছে। এই অবস্থার কারণে পেন্টাগনে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
নীতিগত বিশ্বাসের অভাব
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল বলেন, “প্রেসিডেন্টের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামরিক নেতৃত্ব মিশিয়ে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।” তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করে সিদ্ধান্তটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
হেগসেথের দ্বন্দ্ব কেবল সেনাবাহিনীর সঙ্গে নয়, অন্যান্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও চলছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে সেনাবাহিনীর সচিব ড্যান ড্রিসকলকে শুরু থেকেই সন্দেহের চোখে দেখছেন হেগসেথ।
পেন্টাগনে কর্মকর্তাদের বরখাস্তের জন্য ট্রাম্পের দল তালিকা করছে। জেনারেল জর্জের বিদায়ের কয়েক সপ্তাহ পর নৌবাহিনীর সচিব জন ফেলানকেও আকস্মিকভাবে বরখাস্ত করা হয়। এটি হেগসেথের সন্দেহের কারণে হয়েছে, যে জাহাজ নির্মাণে ধীরগতি ছিল।
হেগসেথ তাঁর সামরিক সহকারী জেনারেল ক্রিস লানেভকে পেন্টাগনের চিফ অব স্টাফ পদে বসান এবং তিনি এই পদে যুক্ত হন যার ফলে সামরিক পরিচালনার উপর কমপক্ষে একটি বিশেষ গোপনীয়তা রয়েছে।
ট্রাম্প এখনো হেগসেথের পাশে রয়েছেন। সম্প্রতি মন্ত্রিসভার এক শুনানিতে তিনি বলেন, “আমাদের যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ একদম উপযুক্ত চরিত্র। ও যুদ্ধ ভালোবাসে।”
