Uncategorized

নিভৃতে

ন ভ ত: সাহস এবং বিপদের মধ্যে জীবনের সংঘর্ষ ন ভ ত একটি কৌতুহলের মধ্যে চলেছে যখন মুনিজার আট হাত ছাড়া রেলিংয়ে দাঁড়িয়ে ছাদে লাফাতে চেষ্টা করছে। তার কামিজের

Desk Uncategorized
Published May 23, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments

ন ভ ত: সাহস এবং বিপদের মধ্যে জীবনের সংঘর্ষ

ন ভ ত একটি কৌতুহলের মধ্যে চলেছে যখন মুনিজার আট হাত ছাড়া রেলিংয়ে দাঁড়িয়ে ছাদে লাফাতে চেষ্টা করছে। তার কামিজের শেষ প্রান্ত প্যারাস্যুটের মতো ফুলে ওঠে। বাতাসের বেলুন চুপসে গেলে দেখি আরেক শেওলাধরা কার্পেট ছাদে সে দাঁড়িয়ে আছে।

কাহিনীর কেন্দ্র হিসেবে দীপ্রর এবং অভিমান

‘কী হলো? ও রকম মা কালীর মতো জিব বের করে আছ কেন? লাফ দাও।’

প্রায় কাঁপা গলায় বলি, ‘আমি পারব না, মুন!’ অভিমানে বলতে ইচ্ছা করে, তাহলে না চললেই পারো। কিন্তু নিজেকে সামলে নিই, আমি তার সঙ্গ হারাতে চাই না। এমনকি মুনিজার সঙ্গে দিনরাত ঘুরতেও আমার ক্লান্তি আসবে না।

আর তা ছাড়া আমি আমার প্রাণের বন্ধু দীপ্রর অনুরোধে এক মহান কাজে নিয়োজিত। মুনিজাকে দীপ্রর সঙ্গে ভিড়িয়ে দিতে হবে। তখনকার দিনে আমাদের পাড়াতো ভাষায় যাকে বলত লাইন; সোজা কথায়, ওদের মধ্যে লাইন করে দিতে হবে।

একটা ঝমঝমে বৃষ্টির সন্ধ্যায় সিগারেটের দোকানে আটকে পড়ে একটার পর একটা সিগারেট খেতে খেতে দীপ্রকে আমি কথা দিয়েছি, ওদের মধ্যে লাইন করে দেব। সবুজ কার্পেট-ছাদে দাঁড়ানো মুনিজার বিরক্ত মুখ দেখে আরেকবার ভাবি, দেখি না চেষ্টা করে! কয়েক পা এগিয়ে ছাদের সীমানায় যেই রেলিংয়ের পাশে ঝুঁকে তাকিয়েছি, দেখি দুটো তিনতলা বিল্ডিংয়ের মাঝখান দিয়ে দেখা যায় সরু সমতল। অনেক নিচে। খানিক আগে বৃষ্টি হয়ে প্যাঁচপেঁচে হয়ে আছে সব। রেলিং ধরলে শেওলার গাট্টির ওপরে হাত পড়তেই হাতটা ভিজে যায়।

মুনিজা পাগল নাকি? দুই বিল্ডিংয়ের মাঝখানের সরু শূন্যতা দেখে আমার মাথায় একটা চক্কর দেয়। ওদিকের ছাদে পা না পড়লে সোজা নিচে। তারপর আমার শরীরটা টেনেহিঁচড়ে বের করতেও অন্তত পনেরো মিনিট লাগবে।

এসব অলক্ষুনে কথা ভাবতে ভাবতেই মনে পড়ে, আমি লাফিয়ে যাব কেন? আমিও কি মুনিজার মতো ডিসির মেয়ে? আমারও কি না বলে পালানোর ঠেকা? আমি তো সিঁড়ি ধরে নিচে নেমে মুনিজাদের ড্রাইভারের সামনে দিয়েই হেঁটে যেতে পারি। আমার নিজের বাড়ি, হাজারবার বেরোতে পারি, ঢুকতে পারি।

ন ভ ত এর দৃশ্যে আমি নিজেকে অনুপ্রাণিত করি, কাজের প্রতি দৃঢ় ভাবনা করে বাড়িতে ফিরে আসি। তারপর এক ক্ষীণ হাসি করে বলি, ‘ও রকম জীবন হলো না কেন? কিন্তু নিজেকে ঠিক রাখতে হবে।’

Leave a Comment