রাজপরিবার ছাড়ার ৬ বছর পর যুক্তরাজ্যে ফিরছেন হ্যারি ও মেগান
র জপর ব র ছ ড় র - ২০২০ সালের মার্চে রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব থেকে সরে যুক্তরাষ্ট্রে পা বাড়িয়েছিলেন প্রিন্স হ্যারি ও স্ত্রী মেগান মার্কেল। সেই
Table of Contents
ছয় বছরের বিরতি শেষে যুক্তরাজ্যে ফেরার পথে হ্যারি ও মেগান
Banglaprabah.com – র জপর ব র ছ ড় র – ২০২০ সালের মার্চে রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব থেকে সরে যুক্তরাষ্ট্রে পা বাড়িয়েছিলেন প্রিন্স হ্যারি ও স্ত্রী মেগান মার্কেল। সেই সিদ্ধান্তের ঠিক ছয় বছর পর, চলতি মাসেই ক্যালিফোর্নিয়া থেকে যুক্তরাজ্যে ফিরছেন তাঁরা। গতকাল বুধবার দ্য টেলিগ্রাফ ও পিপল ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়।
ফেরার সঙ্গে সঙ্গে আনছেন তাঁদের দুই সন্তান — প্রিন্স আর্চি (৭) ও প্রিন্সেস লিলিবেট (৫)। আগামী সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যেই স্কুলে ভর্তি হবেন দুই শিশু। বাকিংহাম প্যালেস বা হ্যারি-মেগানের মুখপাত্র কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি, তবে দম্পতির ঘনিষ্ঠ এক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে সংবাদমাধ্যমের খবর সত্য।
রাজপরিবারের বাসভবন নয়
দ্য টেলিগ্রাফের তথ্যমতে, ফিরে এলেও হ্যারি ও মেগান রাজপরিবারের কোনো রাজকীয় বাসভবনে অবস্থান করবেন না। ২০২০ সালের মার্চে তৎকালীন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে যে সমঝোতা সূত্রকরণ হয়েছিল, তার আলোকে তাঁরা এখন ‘দায়িত্ব পালনকারী নয়’ রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে থাকবেন।
বিয়ের স্বপ্ন থেকে দূরত্বের দীর্ঘ পথ
২০১৮ সালে উইন্ডসর ক্যাসলে বিয়ে করেন হ্যারি ও মেগান। সাবেক অভিনেত্রী মেগানের সঙ্গে এই সংযোগকে রাজপরিবারের জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হয়েছিল। মেগানের মায়ের কৃষ্ণাঙ্গ পরিচয় ব্রিটিশ রাজকীয় পরিবারে বৈচিত্র্যের নতুন মাত্রা যোগ করবে — এমন আশাও ছিল।
কিন্তু বিয়ের পর খুব দ্রুতই রাজপরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে হ্যারি-মেগানের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে শুরু করে। মাত্র দুই বছর পরই, ২০২০ সালের মার্চে, আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব ত্যাগের ঘোষণা দেওয়া হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়া হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারার কাছে মন্টেসিটো নামক অভিজাত এলাকায় বসবাস শুরু করেন তাঁরা। সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, সেখানে ১৬ শয়নকক্ষের এক বাসিটি কেনতে খরচ হয়েছিল প্রায় ১ কোটি ৪৭ লাখ ডলার।
গণমাধ্যমে সমালোচনা ও সংঘাত
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সময় বিভিন্ন টেলিভিশন সাক্ষাৎকার, নেটফ্লিক্স তথ্যচিত্র এবং হ্যারির আত্মজীবনী ‘স্পেয়ার’-এ রাজপরিবারের নানা বিষয়ে তীব্র সমালোচনা করেন দম্পতি। ২০২১ সালে অপরাহ উইনফ্রিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেগান জানান, রাজপরিবারের এক সদস্য তাঁদের ছেলে আর্চির ত্বকের রঙ কতটা কালো হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সিংহাসনের উত্তরাধিকারী ও হ্যারির বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়াম এই ধরনের বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
বাবা রাজা তৃতীয় চার্লস ও ভাই প্রিন্স উইলিয়ামকে নিয়েও হ্যারি বেশ কিছু তীক্ষ্ণ মন্তব্য করেন। এক পর্যায়ে তাঁদের সম্পর্ক প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। হ্যারির ক্ষোভের অন্যতম কারণ ছিল যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর নিরাপত্তাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা। তিনি বলেছিলেন, পুলিশি নিরাপত্তা ছাড়া সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাজ্যে ফিরতে তাঁর পক্ষে নিরাপদ নয়।
বাবা-ছেলের সম্পর্কে সীমিত উষ্ণতা
গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রায় ২০ মাস পর প্রথমবার বাবা-ছেলের মুখোমুখি দেখা হয় চার্লস ও হ্যারির। তবে সেই সাক্ষাৎ ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। ২০২৪ সালে রাজা চার্লসের ক্যানসার শনাক্ত হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি জানান, চিকিৎসার ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থায় ‘অসাধারণ উন্নতি’ হচ্ছে এবং চিকিৎসকরা চিকিৎসা কমিয়ে আনছেন।
গত মাসে হ্যারি, মেগান ও দুই সন্তান যুক্তরাজ্য সফর করেন। সেই সফরে ২০২২ সালের পর প্রথমবার নাতি-নাতনিদের সঙ্গে দেখা হয় চার্লসের। সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, চার্লস এই দম্পতির ফেরার পরিকল্পনার কথা জানতে পারেন গত রোববার — অর্থাৎ আগাম কোনো ধারণা তাঁর ছিল না।
বাবার সঙ্গে সম্পর্কের সামান্য উন্নতি সত্ত্বেও বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে হ্যারির সম্পর্ক এখনো প্রায় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
হলিউডের টানাপোড়েন
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সময় হ্যারি ও মেগান বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রকল্পে যুক্ত হন। স্পটিফাইয়ের সঙ্গে পডকাস্ট তৈরির এবং নেটফ্লিক্সের সঙ্গে নানা অনুষ্ঠান উৎপাদনের জন্য কয়েক কোটি ডলারের চুক্তি করেন তাঁরা। মেগানের উপস্থাপনায় জীবনযাপন-বিষয়ক একটি অনুষ্ঠানও ছিল সেই তালিকায়।
সব প্রকল্প সমান সাফল্য পায়নি। হ্যারির আত্মজীবনী ‘স্পেয়ার’ ব্যাপক বিক্রি হলেও পডকাস্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। মেগানের নেটফ্লিক্স অনুষ্ঠানের তৃতীয় মৌসুমও আর তৈরি হচ্ছে না।
হলিউডভিত্তিক সাময়িকী ডেডলাইনের নির্বাহী সম্পাদক ডমিনিক ল্যাগেনের মতে, হ্যারি ও মেগান যে ধরনের তারকাখ্যাতি চেয়েছিলেন, তা অর্জন করতে পারেননি। তবে হলিউডে অনেক তারকার জনপ্রিয়তা দ্রুত ফুরিয়ে গেলেও হ্যারি ও মেগান এখনো তাঁদের গল্প নিয়ে মানুষের আগ্রহ ধরে রেখেছেন।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is র জপর ব র ছ ড় র?
র জপর ব র ছ ড় র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does র জপর ব র ছ ড় র matter?
র জপর ব র ছ ড় র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
