Uncategorized

পিতৃত্ব

প ত ত ব - অমাবস্যার রাতে ইছামতী নদীতে তুমুল বৃষ্টি নামছে। লুসির মুখ না দেখলেও অভিজ্ঞ মাঝি গুণাল বুঝতে পারছেন, এই যুবতী যাত্রী নিঃসঙ্গ হরিণীর মতো বিপন্ন।

Desk Uncategorized
Published August 14, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
WhatsApp-Image-2026-08-13-at-4.32.57-PM
Foto : Mark Gonzalez - banglaprabah.com
Table of Contents
  1. প ত ত ব - ইছামতী নদীর বুকে নিমির অপেক্ষা ও লুসির সংগ্রাম
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

প ত ত ব – ইছামতী নদীর বুকে নিমির অপেক্ষা ও লুসির সংগ্রাম

Banglaprabah.com – প ত ত ব – অমাবস্যার রাতে ইছামতী নদীতে তুমুল বৃষ্টি নামছে। লুসির মুখ না দেখলেও অভিজ্ঞ মাঝি গুণাল বুঝতে পারছেন, এই যুবতী যাত্রী নিঃসঙ্গ হরিণীর মতো বিপন্ন। চারদিকে ঘুরছে বুভুক্ষু বাঘ, ভালুক, কামোট, কুমির আর বিষধর সাপেরা। প ত ত ব – এই নদী পার হওয়ার পথে লুসির জীবন-মরণের লড়াই চলছে। গুণালের অভিজ্ঞতা সাক্ষ্য দিচ্ছে, লুসিকে যারা বর্ষা ও ভরাকটালে উচ্ছ্বসিত এই নদী পার করে সীমান্তের ওপারে নিয়ে তিমিরডোবা এক শ্বাপদসংকুল পথে ছেড়ে দেবে বলে তার নৌকা রেখে গেছে, তারা এই রাতে আর ফিরবে না।

অভিজ্ঞতা কম নয় গুণালের। তেঁতাল্লিশ বছর ধরে এই নদীতে তার কারবার। দিনে মাছ ধরে, রাতে করে যাত্রী পারাপার। সে এই নদীর মতি বোঝে, গতি বোঝে। জলে বইঠা ঠেকে বুঝতে পারে জোয়ার না ভাটা, ভরাকটাল না মরাকটাল। পানিতে মাছের ঘাঁইয়ের শব্দ শুনে বুঝতে পারে কোরাল না টুনা, চান্দা না রিটা। যারা এই নদীর মাঝবরাবর দুই দেশের সীমান্তরেখা পাহারা দেয়, সে তাদের মতিগতিও বোঝে। তারা কখন আসে, কখন যায়, সবই তার জানা।

অন্ধকারে লুসির অপেক্ষা

যাত্রীদের মতিগতিও তার অজানা নয়। কে কোন কাজে এপারে আসে, কে কোন মতলবে ওপারে যায়—তাদের কথাবার্তা, হাঁটাচলা আর বসার ধরন দেখেই সে আন্দাজ করতে পারে। কথাবার্তা এক-আধটু হলেও গুণাল যে এখনো লুসির মুখটা ভালো করে দেখেনি, তার কারণ আছে। লুসিকে ঘাটে আনা হয়েছে অন্ধকারে, নৌকা তোলা হয়েছে অন্ধকারে এবং বসিয়ে রাখাও হয়েছে অন্ধকারে। বিজলির আলো যতটা দেখা যায়, গুণাল ঠিক ততটাই দেখেছে।

চাইলে কুপি বা টর্চের আলো জ্বলে মুখটা ভালো করে দেখে নিতে পারে; বুঝে নিতে পারে তার বয়স এবং মনোহাল। কিন্তু সাহস পাচ্ছে না। তুমুল বৃষ্টি, তার ওপর গভীর নিশুতি। জলস্থলে কোথাও কেউ থাকার কথা নয়। তবু থাকতেও তো পারে। কোস্টগার্ড বা বিজিবি তো তাকে বলেকে টহলে আসে না। কোথাও কোন ফাঁকে কোন ঘাটে কিংবা কোন গাছের আড়ালে নিশাচর বাদুড়ের মতো তারা ঘাপটি মেরে আছে, তা তো বলা যায় না।

রাতটা কাটানোর মতো কোনো একটা ব্যবস্থা কি করে দেওয়া যায়, কাকা?

লুসি বলল। গুণাল কোনো জবাব দিল না। কী জবাব দেবে? জল-জঙ্গলার দেশ, এদিকে তো কোনো হোটেল-মোটেল নেই যে লুসিকে রেখে আসবে। কারও বাড়িতেও রাখার উপায় নেই। পুরুষ হলে একটা কথা ছিল, এত রাতে অজানা-অচেনা একটা মেয়েলোককে কে আশ্রয় দেবে। তা ছাড়া তার মনেও হচ্ছে না এই বাদলার রাতে কোথাও কেউ জেগে আছে।

লুসি জানত, দিনের বেলায় ইছামতী পার হওয়া যাবে না। ভেবেছিল, রাত নটার আগেই নিরাপদে নদী পাড়ি দিয়ে চলে যেতে পারবে ওপারে। সবুরও তা-ই বলেছিল। এখন রাত প্রায় বারোটা, টানা চার ঘণ্টা সে ঠাণ্ডা বসে আছে, অথচ সবুরের কোনো হদিস নেই। তার সঙ্গীদেরও না। লুসি বুঝতে পারছে, সে একটা গভীর গর্তে পড়তে যাচ্ছে। এই গর্ত থেকে ওঠা যে সহজ হবে না, তা-ও বুঝতে পারছে।

কিন্তু এ নিয়ে তার কোনো ভয় নেই, কোনো দুশ্চিন্তা নেই। সে এখন ভয় ও দুশ্চিন্তার ঊর্ধ্বে। যত গভীর গর্তই হোক, তার প্রবল বিশ্বাস, সে ঠিকই উঠে আসবে। কেউ তাকে আটকে রাখতে পারবে না। যত দিন না ওপারে পাচার হয়ে যাওয়া তার মেয়ে নিমির কোনো হদিস পাচ্ছে, যত দিন না মেয়েকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারছে, তত দিন কোনো বাধাই তার কাছে বাধা নয়, কোনো বিপদই বিপদ নয়। প ত ত ব – একজন মায়ের এই সংগ্রাম অসীম।

সন্তানের খোঁজে সে গাধা হয়ে স্থল, মাছ হয়ে জল, পাখি হয়ে আকাশ এবং চিতা হয়ে পাহাড় ডিঙাবে। এতটুকু ক্লান্তিও তাকে ছেঁবে না, ছেঁওয়ার কোনো সুযোগই সে দেবে না। বৃষ্টির শব্দ উজিয়ে কোথাও একটানা বেজে চলে শিঁ-ই…শিঁ-ই…শিঁ-ই…। লুসির মনে হচ্ছে, আকাশ কাঁপছে। না, ঠিক আকাশ নয়, বাতাস কাঁপছে। ঠিক বাতাসও নয়, কোনো এক বদ্ধ ঘরে বসে তার নিমি কাঁদছে।

নিমি! সন্তানের জন্য আবার ভারী হয়ে ওঠে লুসির বুক। বুকটা আবার খামচে ধরে বেদনার সহস্র নীল কাঁকড়া। যন্ত্রণায় সে হাঁসফাঁস করতে থাকে। বুকের গহিন থেকে উঠে আসে দীর্ঘশ্বাস। দীর্ঘশ্বাসের পর জাগে প্রশ্ন—আচ্ছা, নিমিকে এ পথেই কি ওরা ওপারে নিয়ে গেছে? গুণাল মাঝির এই নৌকা করেই কি মেয়েটা এই নদী পাড়ি দিয়েছে?

সহসা লুসি টের পায় মেয়ের গায়ের গন্ধ। হেয়ার সিরামের ঝাঁজালো সেই চেনা গন্ধ, চাল মেথি ঘৃতকুমারী আর পেঁয়াজের রস দিয়ে তৈরি করে নিমি যা সপ্তাহে একবার চুলে লাগাত। মনে হয়, হ্যাঁ, ঠিক এখানে, গুণালের নৌকার ঠিক এখানটা বসেছিল নিমি, যেখানে এত দিন পরও লেগে আছে তার গায়ের গন্ধ। চোখ বন্ধ করে লম্বা শ্বাস টেনে গন্ধটা সে মগজের কোষে কোষে ছড়িয়ে দেয়।

গুণাল বিড়ি টানছিল। বোঝার চেষ্টা করছিল আকাশের মতিগতি। মনে হচ্ছিল না রাতে আর বৃষ্টি থামবে। ঘরে বউ একা, তার বাড়ি ফেরা দরকার। যত কাজই থাকুক, রাত বারোটার পর সে বাইরে থাকে না।

দেরি না করে ছাপরার দুই পাশে তেরপল টেনে দিয়ে ছাতাটা নিয়ে

প ত ত ব সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসা

প ত ত ব কী এবং এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ? প ত ত ব হলো একজন পিতা হিসেবে তার সন্তানের প্রতি দায়িত্ব ও ভালোবাসার সম্পর্ক। এটি মানবিক জীবনের মৌলিক সম্পর্কগুলোর মধ্যে একটি, যা সন্তানের বিকাশ ও পরিচয় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প ত ত ব সম্পর্ক কীভাবে গড়ে ওঠে? প ত ত ব সম্পর্ক জন্ম থেকে শুরু হয়ে প্রতিদিনের যত্ন, শিক্ষা ও ভালোবাসার মাধ্যমে গভীর হয়। পিতা হিসেবে সন্তানের পাশে থাকা, তাকে সঠিক পথে চালিত করা এবং তার প্রয়োজন মেটানো এই সম্পর্কের মূল ভিত্তি।

প ত ত ব সম্পর্কে আরও জানতে: আরও বিস্তারিত পড়ুন: পিতৃত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত

Frequently Asked Questions

What is প ত ত ব?

প ত ত ব is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does প ত ত ব matter?

প ত ত ব matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment