মূল্যস্ফীতি কমলেও বাজারে স্বস্তি পাচ্ছেন না ক্রেতারা
ম ল যস ফ ত কমল ও - লালমাটিয়ার বাসিন্দা নওরীন জাহান গত বুধবার সকালে মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে গিয়ে কেনাকাটা করেছেন। তিনি পাঁচ কেজি চাল, দুই লিটার সয়াবিন
Table of Contents
মূল্যস্ফীতি কমেছে, কিন্তু ক্রেতাদের স্বস্তি নেই
Banglaprabah.com – ম ল যস ফ ত কমল ও – লালমাটিয়ার বাসিন্দা নওরীন জাহান গত বুধবার সকালে মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে গিয়ে কেনাকাটা করেছেন। তিনি পাঁচ কেজি চাল, দুই লিটার সয়াবিন তেল, একটি ব্রয়লার মুরগি, এক ডজন ডিম এবং পাঁচ ধরনের সবজি কিনেছেন। মোট খরচ হয়েছে এক হাজার একশত সত্তর পাঁচ টাকা। এক বছর আগে একই পণ্যগুলো তিনি নগদ নয়শত থেকে নয়শত পঞ্চাশ টাকার মধ্যে কিনতে পারতেন।
বাজার থেকে ফেরার পথে নওরীন জানান, গত এক বছরে শুধু চালের দাম তেমন বাড়েনি। বাকি সব জিনিসের দাম কমবেশি বেড়েছে। তিনি এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। বাজারের বাড়তি দামের তুলনায় তার বেতন আর চলছে না।
পরিসংখ্যান আর বাজারের দামের পার্থক্য
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো গত মঙ্গলবার জুলাই মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করেছে। ওই তথ্যে দেখা যাচ্ছে, জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে আট দশমিক তিনশত বারো শতাংশে নেমেছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে সাত দশমিক ষোল শতাংশে।
তবে সরকারি তথ্যে মূল্যস্ফীতি কমানোর কথা থাকলেও বাজারে গিয়ে তা টের পাচ্ছেন না ক্রেতারা। কারণ, বাজারে সব জিনিসপত্রের দাম আগের মতোই চড়া। পরিসংখ্যানে যত দেখানো হচ্ছে, বাজারে গিয়ে তার প্রতিফলন পাওয়া যাচ্ছে না।
সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রহমান বিষয়টি নিয়ে বলেন, নিয়মিত বাজারে যান এমন অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বাজারের সঙ্গে মূল্যস্ফীতির তথ্য মেলাতে পারছেন না। পরিসংখ্যানে যত দেখানো হচ্ছে, বাজারে গিয়ে তার প্রতিফলন পাওয়া যাচ্ছে না। সেলিম রহমানের মতে, যত দিন সংস্কার হবে না, তথ্য-উপাত্ত নিয়ে প্রশ্ন থাকবেই।
মজুরি বৃদ্ধি আর মূল্যস্ফীতির হিসাব
বিবিএসের হিসাবে জুলাইয়ে আট দশমিক তিনশত বারো শতাংশ মূল্যস্ফীতির বিপরীতে গড় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল আট দশমিক দুইশত বারো শতাংশ। অর্থাৎ মজুরি যতটা বেড়েছে, মূল্যস্ফীতি ছিল তার চেয়ে বেশি। ফলে সীমিত আয়ের মানুষকে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বিবিএসের হিসাবে টানা পঞ্চাশ তিন মাস মজুরি বৃদ্ধির হারের চেয়ে মূল্যস্ফীতির হার বেশি রয়েছে। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে সীমিত আয়ের অনেক মানুষকে হাতের সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে, নাহলে ধারদেনা করতে হচ্ছে। আবার নিরুপায় হয়ে অনেককে খাবার, কাপড়চোপড়, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে খরচ কাটছাঁট করতে হচ্ছে।
বাজারে দাম বাড়ানোর কারণ
গত জুলাই মাসে অতিবৃষ্টির কারণে দেশের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাতে এসব জেলার বেশ কিছু এলাকায় সবজির খেত তলিয়ে গেছে। যার প্রভাব পড়েছে সবজির বাজারে। এর আগে অতি গরমের কারণেও বিভিন্ন জেলায় মুরগির খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া চলতি বছর জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ, গ্যাসের দাম বাড়ায় পণ্য পরিবহন ও উৎপাদনের খরচ বেড়েছে। সব মিলিয়ে বাজারে শাকসবজি, মাছ-মাংসসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে।
অর্থমন্ত্রীর ব্যাখ্যা আর গবেষকের মতামত
জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি কমানোর কারণ হিসেবে গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, জুলাইয়ে চাল ও মাংসের দাম কমেছিল। তাই মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। এই দাম কমার তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছে।
তবে মূল্যস্ফীতির তথ্যের সঙ্গে বাজারে জিনিসপত্রের দামের অসংগতি আছে বলে মনে করেন বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রহমান। তিনি বলেন, নিয়মিত বাজারে যান এমন অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বাজারের সঙ্গে মূল্যস্ফীতির তথ্য মেলাতে পারছেন না।
দশটি পণ্যের দাম বিশ্লেষণ
বিবিএস মূল্যস্ফীতির হিসাব করে মাসওয়ারি ভিত্তিতে। চলতি বছরের জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতির যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা গত বছরের একই মাসের তুলনায় কত শতাংশ বাড়ল, তা তুলে ধরা হয়েছে। তাই গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় গত জুলাইয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দশ ধরনের পণ্যের দাম বাড়ল নাকি কমল, তার তথ্যমূলক বিশ্লেষণ করেছে প্রথম আলো।
এই দশ পণ্য হলো চাল, সয়াবিন তেল, চিনি, ডিম, ব্রয়লার মুরগি, মাছ, আলু, পেঁয়াজ, আটা ও সবজি। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে উল্লিখিত দশ পণ্যের মধ্যে চাল ছাড়া অন্য সব পণ্যের দাম কমবেশি বেড়েছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার, আশকোনার হাজি ক্যাম্প বাজারে খোঁজখবর নিয়ে এসব পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়।
বিবিএসের খাদ্য মূল্যস্ফীতি গণনায় চালের অবদান সবচেয়ে বেশি। সংস্থাটির হিসাবে খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে চালের অবদান প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ। গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় গত জুলাইয়ে চালের দাম খুব একটা না বাড়লেও মৌসুমভিত্তিক দাম ওঠানামা করেছে। দীর্ঘদিন ধরে চালের দাম উচ্চমূল্যে স্থিতিশীল। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে মোটা চালের দাম ছিল প্রতি কেজি চালাশি থেকে ষাট টাকা। ভালো মানের নাজিরশাইল ও মিনিকেটের মতো সরু চালের দাম ছিল আশি টাকার ওপরে, অর্থাৎ সীমিত আয়ের মানুষকে বাজার থেকে পাঁচশত টাকার বেশি দরেই চাল কিনতে হচ্ছে।
টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় গত জুলাইয়ে আটার দাম কেজিতে বেড়েছে সাত থেকে দশ শতাংশ। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি খোলা আটা বিক্রি হয়েছে পঞ্চাশ-পঞ্চাশ টাকা। জুলাই মাসেও আটার দাম একই ছিল। গত বছরের জুলাইয়ে আটার দাম কেজিতে পাঁচ-ছয় টাকা কম ছিল। এ ছাড়া এক বছরের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ ও বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ছয় শতাংশ বেড়েছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ম ল যস ফ ত কমল ও?
ম ল যস ফ ত কমল ও is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ম ল যস ফ ত কমল ও matter?
ম ল যস ফ ত কমল ও matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
