মেয়েকে কখনো কোলে নিতে পারেননি শামীম, স্ত্রীকে তুলে আনার আগেই সাব্বিরের মৃত্যু
ম য় ক কখন ক ল ন - সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুনে শামীম হোসেন নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় মোট ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। শামীম নাটোরের নলডাঙ্গা
Table of Contents
শামীমের মৃত্যু: মেয়েকে কোলে নিতে পারলেন না শেষ মুহূর্তে
Banglaprabah.com – ম য় ক কখন ক ল ন – সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুনে শামীম হোসেন নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় মোট ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। শামীম নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার দিঘীরপাড়া গ্রামের জাকির হোসেনের একমাত্র ছেলে। তিনি গত রোববার দুপুরে এই আগুনে প্রাণ হারান।
মেয়ের সাথে শেষ ভিডিও কল
শামীমের মেয়ে ছাপা জান্নাহর বয়স মাত্র এক মাস চার দিন। গত রোববার সকাল ১০টার দিকে তিনি মেয়ের সাথে শেষবারের মতো ভিডিও কলে কথা বলেন। কয়েক ঘণ্টা পর খবর আসে যে, কর্মস্থলে আগুনে পুড়ে তিনি মারা গেছেন। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, ছোট্ট ছাপা কখনোই বাবাকে সামনাসামনি দেখতে পারবে না।
আমাকে বলত, আগামী রোজার ঈদে এসে মেয়েকে সোনার চুড়ি হাতে দিয়ে কোলে নিবেন। তাঁর সেই আশা আর পূরণ হলো না।
শামীম আট মাস আগে বাচ্চা নিয়ে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। এবার কফিনে করে দেশে ফিরবেন তিনি। কিন্তু একমাত্র সন্তানকে আর কোলে নেওয়া হবে না বাবার। শামীমের স্ত্রী মিতু খাতুন কাঁদতে কাঁদতে এই স্মৃতিগুলো মনে করছেন।
শামীমের সৌদি যাত্রার গল্প
শামীম কৃষিকাজ করে পরিবারের সংসার চালাতেন। পাঁচ লাখ টাকা ধারদেনা করে ২০১৬ সালে তিনি সৌদি আরবে যান। পাঁচ বছর পর ২০২১ সালে দেশে ফিরে ঘরবাড়ি পাকা করে বিয়ে করেন। পাঁচ বছর দেশে থাকার পর আবার সৌদি আরবে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তখন স্ত্রী মিতু খাতুন ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা।
এক মাস চার দিন আগে মিতু ও শামীমের মেয়ের জন্ম হয়। প্রবাসে থেকেই শামীম মেয়ের নাম রাখেন ছাপা জান্নাহ। মেয়ের আকিকার জন্যও টাকা পাঠিয়েছিলেন তিনি। প্রতিদিন অন্তত দুবার ভিডিও কলে মেয়েকে দেখতেন শামীম।
একই আগুনে আরও দুই নলডাঙ্গা বাসিন্দার মৃত্যু
শামীমসহ এই আগুনে একই এলাকার আরও দুজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন সাব্বির আহমেদ (৩০) ও রবিউল আউওয়াল (২৫)।
দিঘীরপাড়া থেকে নৌপথে চার কিলোমিটার পশ্চিমে শ্রীপুর গ্রামে সাব্বির আহমেদের বাড়িতেও চলছে মাতম। সাব্বিরের বাবা গোলাম রাব্বানী জানান, সাত চার বছর আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন তাঁর ছেলে। আগামী ঈদে তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল। আড়াই বছর আগে শখ করে প্রবাসী ছেলের বিয়ে দিয়েছিলেন। তবে স্ত্রীকে এত দিন বাড়িতে আনা হয়নি। আজই প্রথমবারের মতো শ্বশুরবাড়িতে এসেছেন সাব্বিরের স্ত্রী।
আজই প্রথমবারের মতো বউমা বাড়িতে এসেছে। কিন্তু সে তো আর স্বামীকে দেখতে পেলো না। এই কষ্ট কীভাবে সইব?
শ্রীপুর থেকে রিকশাভ্যানে আরও চার কিলোমিটার পশ্চিমে মহিষডাঙ্গা গ্রামে রবিউল আউওয়ালও (২৫) ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন। আকামা না থাকার নিহতের সরকারি তালিকায় তাঁর নাম ওঠেনি। রবিউল ও তাঁর ভাই একই কারখানায় কাজ করতেন। সৌভাগ্যক্রমে তাঁর ভাই বেঁচে গেছেন। প্রায় দুই বছর আগে সৌদি আরবে যান অবিবাহিত রবিউল। আগামী ঈদে তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল।
সরকারি ব্যবস্থা
নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান খান গতকাল দুপুরে নিহত ব্যক্তিদের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, সরকার সৌদি দূতাবাসের মাধ্যমে নিহত ব্যক্তিদের বিষয়ে খোঁজখবর রাখছে। সৌদি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ দ্রুত দেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সুখের আশায় দুই ছেলেক বিদেশ পাঠাইছিনু, দেশত থাকলে কষ্ট হলেও জীবত থাকত
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
সৌদি আরবের কারখানায় আগুন কতজন নিহত হয়েছেন? সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুনে মোট ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা।
শামীম হোসেনের মেয়ের নাম কী? শামীম হোসেনের মেয়ের নাম ছাপা জান্নাহ। তার জন্ম হয়েছে এক মাস চার দিন আগে।
নিহতদের মরদেহ কখন দেশে ফিরবে? সরকার সৌদি দূতাবাসের মাধ্যমে মরদেহ দ্রুত দেশে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী ঈদের আগে নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
শামীম হোসেন কতদিন ধরে সৌদি আরবে কাজ করছিলেন? শামীম প্রথমবার ২০১৬ সালে সৌদি আরবে যান। পাঁচ বছর পর দেশে ফিরে বিয়ে করেন। এরপর আবার সৌদি আরবে যান এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেখানে কাজ করছিলেন।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ম য় ক কখন ক ল ন?
ম য় ক কখন ক ল ন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ম য় ক কখন ক ল ন matter?
ম য় ক কখন ক ল ন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
