ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা পদে ‘রেড নোটিশে’ থাকা মোহসেন রেজায়ি, কেন শঙ্কায় ইসরায়েল
ইর ন র শ র ষ ন - ইর ন র শ র ষ কাঠামোতে বড় পরিবর্তন এসেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির কার্যালয় দেশটির নিরাপত্তা ও সামরিক সংস্থায় বেশ কয়েকটি
Table of Contents
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা পদে রেজায়ির নিয়োগ: ইসরাইলের শঙ্কার কারণ
Banglaprabah.com – ইর ন র শ র ষ ন – ইর ন র শ র ষ কাঠামোতে বড় পরিবর্তন এসেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির কার্যালয় দেশটির নিরাপত্তা ও সামরিক সংস্থায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। এই পরিবর্তনের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো সাবেক যুদ্ধকালীন কমান্ডার মোহসেন রেজায়িকে ইর ন র শ র ষ সংস্থার দায়িত্ব দেওয়া। গত রোববার তাঁকে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি এবং মোজতবা খামেনির প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
সামরিক নেতৃত্বে নতুন পরিবর্তন
গতকাল সোমবার ইরানের সামরিক বাহিনীর আরও ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। ইরানের ‘যৌথ যুদ্ধ কমান্ড’-এর প্রধান আলী আবদুল্লাহিকে সশস্ত্র বাহিনীর নতুন চিফ অব স্টাফ করা হয়েছে। এছাড়াও আলী ওজমাইকে আইআরজিসির নৌবাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কট্টরপন্থী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ভাহিদিকেও আইআরজিসির কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মোহাম্মাদ পাকপুরের স্থলাভিষিক্ত হলেন। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর প্রথম দফার হামলায় পাকপুর নিহত হন।
রেজায়ির অভিজ্ঞতা ও ভূমিকা
মোহসেন রেজায়ি ১৬ বছর ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের প্রধান ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধের সময় তিনি বাহিনীটির কমান্ডার-ইন-চিফের দায়িত্বে ছিলেন। রেজায়ি আগে এক্সপেডিটেন্সি কাউন্সিলের সেক্রেটারি ছিলেন। এটি রাষ্ট্রের আরেকটি শীর্ষ সালিসি সংস্থা। ১৯৮০-এর দশকের ইরাক যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তিনি ধীরে ধীরে রাজনীতি ও সামষ্টিক অর্থনীতির দিকে বেশি মনোযোগ দেন।
৭১ বছর বয়সী রেজায়ি একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নেও ভূমিকা রেখেছেন। ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ইব্রাহিম রাইসির প্রেসিডেন্ট থাকার সময়ে তাঁকে অর্থনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের সমন্বয়ের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কখনো নির্বাচিত কোনো পদে দায়িত্ব পালন করেননি। রেজায়ি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চারবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও সফল হতে পারেননি।
বিশ্লেষকদের মতামত
জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির সহকারী অধ্যাপক সিনা আজোদি বলেন, এসব নিয়োগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ইরানের অবস্থান নরম হওয়ার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে খুব কমই সন্দেহ আছে যে খামেনি, ভাহিদি এবং আইআরজিসির নেতৃত্ব সবাই মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া কৌশলগতভাবে প্রয়োজনীয়।
আজোদি আল-জাজিরাকে বলেন, রেজায়ির প্রতিষ্ঠানিক দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। আইআরজিসির জ্যেষ্ঠ কমান্ডার থেকে শুরু করে সাধারণ সদস্যদের মধ্যেও তাঁর যথেষ্ট কর্তৃত্ব রয়েছে। তাঁর এই নিয়োগের উদ্দেশ্য মনে হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানের ভেতরের সংহতি আরও জোরালো করা, সংগঠনটির ওপর নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ শক্ত করা এবং এমন এক অভিজ্ঞ ব্যক্তির দক্ষতা কাজে লাগানো, যিনি আইআরজিসিকে আজকের সামরিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রেজায়ির ভূমিকা
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে সামরিক পোশাকে আবারও সামনে আসেন রেজায়ি। মোজতবা খামেনি তাঁর নিহত বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময় পর রেজায়িকে সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা করা হয়। ইরান যুদ্ধের প্রথম দিনই আলী খামেনি নিহত হয়েছিলেন। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকার ও অনলাইনে দেওয়া পোস্টে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও আঞ্চলিক বিভিন্ন পক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও দৃঢ়তার বার্তা দিয়ে আসছেন রেজায়ি।
গত জুন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই করা সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) বিরোধিতা করেন রেজায়ি। ওই সমঝোতার আওতায় সামরিকভাবে ইরানের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং তেলবিষয়ক নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়। ফলে হরমুজ প্রণালিও আবার খুলে দেওয়ার পথ তৈরি হয়। রেজায়ির যুক্তি ছিল, তাঁর অবস্থান মোজতবা খামেনির অবস্থানের কাছাকাছি। শেষ পর্যন্ত কিছু আপত্তি থাকা সত্ত্বেও মোজতবা খামেনি ওই সমঝোতাকে অনুমোদন দেন।
গত জুলাইয়ের শুরুতে সমঝোতাটি স্থগিত হওয়ার কিছুদিন আগে রেজায়ি বলেছিলেন, ‘যেসব বন্ধু আলোচনার বিরোধিতা করছেন, তাঁদের আমি অপেক্ষা করতে বলি। মার্কিনরা নিজেরাই এটি নষ্ট করে দেবে। তাঁরা আলোচনাকে কোনো ফলাফলে পৌঁছাতে দেবেন না।’ জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম নুরনিউজের এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, রেজায়ির নিয়োগ ইরানের যুদ্ধকালীন নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আরও বিস্তৃত ‘কৌশলগত পুনর্গঠন’ শুরুর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
ইর ন র শ র ষ পদে রেজায়ির নিয়োগ কেন গুরুত্বপূর্ণ? রেজায়ির নিয়োগ ইরানের যুদ্ধকালীন নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৌশলগত পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দেয়। তিনি আইআরজিসিকে সামরিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
ইসরাইল কেন রেজায়ির নিয়োগে শঙ্কিত? রেজায়ি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে আসছেন। তাঁর সামরিক অভিজ্ঞতা এবং আইআরজিসির ওপর তাঁর কর্তৃত্ব ইসরাইলের জন্য চ্যালেঞ্জিং।
রেজায়ি কত বছর আইআরজিসির প্রধান ছিলেন? মোহসেন রেজায়ি ১৬ বছর ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের প্রধান ছিলেন। তিনি ১৯৮০-এর দশকে ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধের সময়ও বাহিনীটির কমান্ডার-ইন-চিফের দায়িত্বে ছিলেন।
রেজায়ি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কতবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন? রেজায়ি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চারবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও সফল হতে পারেননি। তবে তিনি অর্থনৈতিক বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের সমন্বয়ের ক্ষমতা পেয়েছিলেন।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ইর ন র শ র ষ ন?
ইর ন র শ র ষ ন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ইর ন র শ র ষ ন matter?
ইর ন র শ র ষ ন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
