রামেন্দু কাকা, শুভ জন্মদিন!
র ম ন দ ক ক শ - নাট্যকলাবিদ রামেন্দু মজুমদার গতকাল তাঁর অষ্টম দশকের পঞ্চম বছর পূর্ণ করলেন। ঢাকার বেঙ্গল শিল্পালয়ে অনুষ্ঠিত এক সন্ধ্যায়
Table of Contents
রামেন্দু মজুমদারের জীবন ও নাট্যকলা: এক স্মৃতিচারণ
Banglaprabah.com – র ম ন দ ক ক শ – নাট্যকলাবিদ রামেন্দু মজুমদার গতকাল তাঁর অষ্টম দশকের পঞ্চম বছর পূর্ণ করলেন। ঢাকার বেঙ্গল শিল্পালয়ে অনুষ্ঠিত এক সন্ধ্যায় কুর্রাতুল-আইন-তাহ্মিনা ঘরোয়া মানুষটির কথা তুলে ধরলেন। রামেন্দু কাকা নামে পরিচিত এই শিল্পী তাঁর নাট্যকর্ম ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনেক স্মৃতি রেখে গেছেন।
কাকা ডাকের ঐতিহাসিক কারণ
রামেন্দু কাকা আমার মায়ের ভাইয়ের ছেলে। তবু আমি তাঁকে কাকাই ডাকি। এর পেছনে একটি ঐতিহাসিক কারণ রয়েছে। ১৯৭০ সালে আমার খালার সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়। কিন্তু এর আগেও তিনি আমার নানুবাসা সেন্ট্রাল রোডের দারুল আফিয়াতে আসতেন। সে সময় আমরা তাঁকে খালু ডাকতে পারতাম না। তাই আজীবন তিনি আমাদের কাছে কাকাই থেকে গেলেন। আমার বাবা ও মা উভয় পক্ষ থেকেই এমন কয়েকজন কাকা ছিলেন। হাতিরপুল পুকুরপাড়ের আমাদের বাসায় তাঁদের সকলেরই ছিল অবাধ আনাগোনা।
প্রথম স্মৃতি ও শিক্ষার সূচনা
‘৬৯-৭০ সালের কোনো একদিনে আমরা তিন-চারজন কাজিন নানুবাসার দোতলার বাইরের ছোট ছাদে প্রেম নিয়ে আলোচনা করছিলাম। কার প্রেমের ধরন কী, তা নিয়ে ছয়-সাত-আট বছর বয়সীদের অকালপক্ব আলাপ। কাজিনরা বলে থাকে, আমি দুই-তিনটা নজির তুলনা করতে করতে বলেছিলাম, ফেরদৌসী খালা আর রামেন্দু কাকার প্রেম এমন—
ফেরদৌসী, দেখো, আজ কী সুন্দর চাঁদ উঠেছে!
ফেরদৌসী খালাকে আমি অন্য একটা নামে ডাকি—পিচ্চি। আমার বয়সের কাজিনরা কেউ ডাকে পিচ্চি আম্মা, কেউ ডাকে পিচ্চি খালা। আমি ক্লাস সিক্সে পড়ার সময় পিচ্চি আমাকে বাংলা আর ইসলামিয়াত পড়াতেন। তাঁরা তখন ইন্দিরা রোডে একতলা একটা বাসায় থাকতেন। স্কুল বন্ধ থাকলে আমার বাবা সকালে আমাকে সেখানে নামিয়ে দিতেন। সারা দিন পড়া, সুখাদ্য খাওয়া, পেয়ারা পাওয়া হতো। বাসায় অনেক পেয়ারাগাছ ছিল। আর প্রায়ই কালো কালো বিছা মারার অভিযান চালাতে হতো। বাবা অফিস থেকে ফেরার সময় আমাকে নিয়ে যেতেন। কোনো দিন তাঁর সন্ধ্যা পেরিয়ে যেত। মনে আছে, সন্ধ্যার খাবার টেবিলে রামেন্দু কাকা আর পিচ্চি নাটকের সংলাপ চর্চা করতেন। আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনতাম। তখন বোধ হতো থিয়েটার দল মাত্র হয়েছে বা প্রস্তুতি চলছে।
নীরব স্নেহ ও ঈদের স্মৃতি
রামেন্দু কাকার সঙ্গে স্মৃতিগুলো বেশির ভাগই নীরব! তিনি কথা কম বলেন। কিন্তু আমরা ছোটরা তাঁর স্নেহ টের পেতাম। নীরব একটা ভরসার মতো। ছোটদের তিনি পাত্তা দিতেন নীরবে। সেদিন আমার কাজিন লালী মনে করিয়ে দিয়েছে ঈদ আর ঈদির কথা। ছোটবেলার ঈদের দুপুরটা কাটত নানুবাসায়—সবাই একসঙ্গে। সেই আমলে আমাদের পরিবারে ঈদি দেওয়ার চল ছিল না। কিন্তু রামেন্দু কাকা এসেই আমাদের এক-দুই শ টাকা দিতেন। আমার ছোট খালু শওকত কাকাও দিতেন। আইসক্রিম খাওয়ার টাকা, তখন সেটা দারুণ একটা প্রাপ্তি।
রসবোধ ও হাস্যরসের পরিচয়
রামেন্দু কাকা স্নেহশীল এটা বরাবর মনে থাকে। যত্ন আর দেখভাল করার একটা ব্যাপার তাঁর মধ্যে আছে। মা-খালাদের মুখে শুনেছি, পিচ্চি টাকাপয়সার হিসাব রাখতে বিরক্ত হতো। রামেন্দু কাকা মাসের শুরুতে খাত ধরে খামে টাকা ভাগ করে দিতেন। আমার বড় হওয়ার কালে ৩৫ তোপখানা রোডে বিটপী বিজ্ঞাপনী সংস্থার অফিসটা আমাদের কাছে পরিবারের মতোই ছিল। আমার বাবা আবদুল মুক্তাদিরের ঘাঁটি ছিল একতলার ‘ক্রিয়েটিভ’ বিভাগটি। দোতলার উঠলেই রামেন্দু কাকার ঘর, মানুষে সরগরম। আরও কতজনের নাম আর চেহারা যে মনে আসছে!
বড় হতে হতে, রামেন্দু কাকার রসবোধ—হিউমারের টুকটাক পরিচয় পেয়েছি। তাঁর রসবোধ একটা অন্য রকম মজা। একটা চুপচাপ, ইংরেজিতে যাকে বলে ড্রাই হিউমার। মন্তব্যগুলো ছোট কিন্তু মোক্ষম হয়, মোলায়েম মসৃণ একটা ধারও হতো থাকে। এমএ পরীক্ষার কীভাবে যেন আমি ভালো ফল করে ফেললাম। রামেন্দু কাকা খুব খুশি হয়ে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘সেই সময়’ বইটা নিয়ে বাসায় এলেন। একটা খণ্ডে লেখা: ‘মিতি/কী আশ্চর্য!’ আরেকটাও লেখা ‘কী দরকার ছিল এত ভালো ফল করার!’ আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যোগ দিলে অত্যন্ত খুশি হয়েছিলেন। আবার শিক্ষকতা ছেড়ে দিলে খুবই দুঃখ পেয়েছিলেন। এই আনন্দ এবং দুঃখ অবশ্য ত্রপাও তাঁকে দিয়েছে! আমাদের খালাতো বোন লালী, আয়েশা বানু, শিক্ষকতা ধরে রেখেছে। রামেন্দু কাকা তাকে স্নেহ আর গর্ব মিশিয়ে ডাকেন ‘প্রফেসর’ বলে, সে অধ্যাপক হওয়ারও অনেক আগে থেকে।
শেষ কথা ও শুভেচ্ছা
পরিবারের কথা যদি বলি, আমার বাবা-মায়েরা ছিলেন মোট ২৬ জন ভাইবোন। আমার মা দিলারা বেগমের জীবন ছিল ডালপালা ছোঁয়ানো এই পরিবারকে ঘিরে। তিনি ছিলেন রামেন্দু কাকার ‘দিলাপা’। আমার জন্যও রামেন্দু কাকার একটা নাম আছে। ‘মিতি আপু’। আমরা যখন বড় হয়ে গেছি, তখনো আমাদের বাসায় বেড়াতে এলে বিদায় নেওয়ার সময় সিঁড়িতে দুই হাত ঘুরিয়ে একটু নেচে নিতেন। এটা অবশ্য শুধু আমাদের অর্থাৎ ছোটদের সামনে করতেন। বড় হতে হতে আমরা তো এখন বুড়ো হয়ে গেছি। অনেক দিন সেই নাচটা আর দেখি না। এবার যদি একবার দেখতে পাই! শুধু আমি, ত্রপা আর অন্য কোনো ভাইবোনদের সামনে—রামেন্দু কাকা, একবার দেখিও প্লিজ, কোনো একদিন, কোনো একটা সিঁড়িতে… অনেক অনেক অনেক শুভেচ্ছা আর ভালোবাসা। তুমি অনেক ভালো থেকো।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
রামেন্দু মজুমদার কত বছর বয়সে তাঁর অষ্টম দশকের পঞ্চম বছর পূর্ণ করেন? রামেন্দু মজুমদার তাঁর জন্মদিনে অষ্টম দশকের পঞ্চম বছর পূর্ণ করেন।
রামেন্দু কাকা কেন কাকা ডাক পেয়েছেন? ১৯৭০ সালে তাঁর বিবাহের আগেই তিনি নানুবাসায় আসতেন, তাই ছোটবেলায় খালু ডাকার সুযোগ না পেয়ে তিনি কাকা ডাক পেয়েছেন।
রামেন্দু কাকা কোথায় নাটক চর্চা করতেন? সন্ধ্যার খাবার টেবিলে তিনি পিচ্চির সঙ্গে নাটকের সংলাপ চর্চা করতেন।
বিটপী বিজ্ঞাপনী সংস্থার অফিস কোথায় অবস্থিত ছিল? ৩৫ তোপখানা রোডে বিটপী বিজ্ঞাপনী সংস্থার অফিসটি অবস্থিত ছিল।
* কুর্রাতুল-আইন-তাহ্মিনা, সাংবাদিক
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is র ম ন দ ক ক শ?
র ম ন দ ক ক শ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does র ম ন দ ক ক শ matter?
র ম ন দ ক ক শ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
