আমাদের থিয়েটার, তাদের থিয়েটার
আম দ র থ য় ট র - ২০০৫ সালের ২৯ এপ্রিল প্রথম আলোর সাহিত্য পাতায় রামেন্দু মজুমদারের 'আমাদের থিয়েটার, তাদের থিয়েটার' প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে
Table of Contents
আমাদের থিয়েটার, তাদের থিয়েটার: একটি তুলনামূলক আলোচনা
Banglaprabah.com – আম দ র থ য় ট র – ২০০৫ সালের ২৯ এপ্রিল প্রথম আলোর সাহিত্য পাতায় রামেন্দু মজুমদারের ‘আমাদের থিয়েটার, তাদের থিয়েটার’ প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে এই লেখাটি শুধুমাত্র প্রথম আলোর কাগজি সংস্করণেই সীমাবদ্ধ ছিল। আজ এই অনলাইন পাঠকের জন্য সেই লেখাটি তুলে ধরা হলো। এই প্রবন্ধে আম দ র থ য় ট র বৈশিষ্ট্য, অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক তুলনা নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
মাঝে মাঝেই আমাকে একটি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। আপনি তো অনেক দেশের থিয়েটার দেখেছেন, বাংলাদেশের থিয়েটার আন্তর্জাতিক মানে কোন অবস্থানে রয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া খুব সহজ কাজ নয়। শিল্পকলার ক্ষেত্রে তুলনামূলক বিচারের কাজটি বেশ দুরূহই, বিচারের তেমন স্বীকৃত মানদণ্ড নেই। অন্যদিকে প্রতিটি দেশের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর দাঁড়িয়ে যে থিয়েটার, সেখানে এক দেশের থিয়েটারের সঙ্গে ভিনদেশের তুলনাটা বাংলা ভাষার সঙ্গে ফরাসি বা জার্মান ভাষার তুলনার মতো হয়ে দাঁড়ায়। তাই আমি কেবল বাস্তব অবস্থা, অবকাঠামো বা আমার চোখে দেখা কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করব, কোনো গুণগত বিচারের পথে পা বাড়াব না।
তা ছাড়া কোনো দেশের দু-তিনটি নাটক দেখে, ভাষা না বুঝে সে দেশের থিয়েটার সম্পর্কে মতামত দেওয়া কি যুক্তিযুক্ত? যদিও আমাদের প্রসেনিয়াম থিয়েটার বা গ্রুপ থিয়েটার চর্চার জন্য আমরা ইংরেজদের প্রতি ঋণী, উপনিবেশবাদের কুফল আমাদের মাথা থেকে এখনো ঝেড়ে ফেলে দিতে পারিনি। পশ্চিমের দিকে আমাদের দৃষ্টি সর্বদা প্রসারিত, ঘরের পাশে ভিনদেশে কী ঘটছে, তার খবর রাখার তাগিদ বোধ করি না। আমরা লন্ডন, নিউইয়র্কে কী ধরনের নাটক হচ্ছে তার খবর রাখার চেষ্টা করি; কিন্তু আসাম বা মণিপুরে নাটকের ক্ষেত্রে কী ঘটছে সে সম্পর্কে কি আমাদের কোনো ধারণা আছে?
শারজার নাট্যোৎসব
আমার দুটো বিস্ময়কর অভিজ্ঞতার কথা এখানে বর্ণনা করতে চাই। দিন দশেক আগে আমার সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। শারজাতে বছরে একটি নাট্যোৎসব হয়, এবার ছিল তার ১৫তম বার্ষিকী। নাট্যোৎসব সংস্থাটি আমাদের আইটিআই-এর কো-অপারেটিং মেম্বার হওয়ার আবেদন করেছে। সেই সূত্রে কেন্দ্রীয় আইটিআই-এর সহসভাপতি হিসেবে শারজা সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর আমাকে আমন্ত্রণ জানায়।
আরব আমিরাতের সংস্কৃতি বা তাদের নেতৃত্ব সম্পর্কে আমরা অনেকেই উচ্চ ধারণা পোষণ করি না। কিন্তু শারজা গিয়ে তো আমি হতবাক। শারজার শাসনকর্তা অর্থাৎ আমির ড. শেখ সুলতান বিন মোহাম্মদ আল কাসেমির দুটো পিএইচডি ডিগ্রি রয়েছে ইংল্যান্ডের দুটো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে—একটি ইতিহাসে, অন্যটি রাজনৈতিক ভূগোলে। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৮—বেশির ভাগই বিদেশের সম্ভ্রান্ত প্রকাশনালয় থেকে। তাঁর এক মেয়ে সিনেমাটোগ্রাফিতে পিএইচডি করছেন বিদেশে, ইতিমধ্যে দেশে ছবিও নির্মাণ করেছেন। আমির শেখ সুলতান ইতিহাসভিত্তিক তিনটি নাটকও রচনা করেছেন।
আমাদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর তিনি আমার কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময় জানালেন, পরদিনই তিনি প্যারিস যাচ্ছেন, সেখানে আন্তর্জাতিক বইমেলায় তাঁর গ্রন্থের একটি প্রকাশনা উৎসবে উপস্থিত থাকার জন্য। তিনি কেবল পণ্ডিতই নন; নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে নানা কাজ করে চলেছেন।
নাট্যোৎসবের বৈশিষ্ট্য
শারজায় নিয়মিত নাটক হয় না। বার্ষিক এই উৎসব উপলক্ষে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় কয়েকটি নতুন প্রযোজনা হয়, সব প্রযোজনারই একটি বা দুটি প্রদর্শনী হয়। অভিনেতা, কলাকুশলীরা সবই আমাদের মতো অপেশাদার। এক তরুণ নাট্যকর্মীকে নিয়মিত নাটক না হওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি জবাব দিলেন, দর্শক নেই। দর্শক মেতেছে সব টিভির সস্তা সিরিয়াল বা বাণিজ্যিক নাটকে। তখন আমি আমাদের দেশে কীভাবে মঞ্চনাটকের জন্য দর্শক তৈরি করেছি সে অভিজ্ঞতার কথা বললাম। বিপরীত দিকে এক সেমিনারে তরুণ নাট্যকর্মীরা অনুযোগ করলেন, তাঁরা কাজ করার সুযোগ পান না। সরকার নাটকের ব্যাপারে কতটা আন্তরিক, সে ব্যাপারে তাঁরা সন্দিহান।
অথচ নাটকের চমত্কার সব অবকাঠামো শারজাতে বিদ্যমান। কালচারাল প্যালেস বলে যে অট্টালিকা উৎসবের উদ্বোধনী হলো, সেটা চমত্কার একটি আধুনিক মিলনায়তন, আমাদের ওসমানী বা জাতীয় নাট্যশালার চেয়েও উন্নতমানের, অবশ্য কারিগরি সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে নয়। মিলনায়তনে প্রবেশের আগে দুদিকে বিশাল অপেক্ষা করার ঘর। কারণ, আমির–ওমরাহরা প্রায় নানা অনুষ্ঠানে এখানে আসেন। বিশিষ্ট অতিথিরা গিয়ে বসলেই খানসামারা হাজির হয় আরবি কফি বা চা নিয়ে।
আরেকটি স্থাপনা রয়েছে—শারজা ইনস্টিটিউট ফর থিয়েট্রিক্যাল আর্টস। এটি শেখ সুলতান স্থাপন করেছেন নাটকের প্রশিক্ষণ ও চর্চার জন্য; কিন্তু এখনো কোনো কাজ শুরু হয়নি। এর ভেতর দুদিকে আছে সমান আয়তনের দুটি চমত্কার মঞ্চ, প্রতিটির সামনে ৪০০ দর্শক বসার আসন। এই তিনটি মিলনায়তনে উৎসব হয়েছে। দর্শকদের কোনো টিকিট লাগে না, উল্টো এখানে বিনে পয়সায় চা-কফি খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। প্রতিটি প্রদর্শনীই ছিল দর্শকে পূর্ণ। তাই দর্শক পাওয়া যাবে না বলে যে মত শুনলাম, তা আমার বিশ্বাসযোগ্য মনে হলো না। সংস্কৃতি দপ্তরের কর্মকর্তাদের আমি আমার ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে কিছু পরামর্শ দিয়েছি। কীভাবে তাঁরা ইনস্টিটিউটের কাজ শুরু করতে পারেন, নিয়মিত নাট্যচর্চার সূচনা কীভাবে হতে পারে।
নাটকের গুণগত মান
শারজার নাট্যোৎসবে ছয়টি নাটক আমার দেখার সুযোগ হয়েছিল, সবই আরবি ভাষায়। তাই নাটকের গুণগত মান সম্পর্কে কিছু বলতে পারব না। তবে সব প্রযোজনারই সেট ডিজাইন খুব উন্নতমানের। অভিনয় গতানুগতিক। হাস্যরস দর্শকের খুব পছন্দ। টিভি সিরিয়ালের জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীরা মঞ্চে এলেই দর্শক হাততালি দিয়ে তাঁদের স্বাগত জানায়। থিয়েট্রিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বলে একটি প্রতিষ্ঠান আছে নাট্যবিষয়ক প্রকাশনা, আলোচনা ও উন্নয়নমূলক কাজ করার জন্য।
এখানকার এসব দেখে আমার কেবলই মনে হয়েছে, এদের সব কিছুই আমাদের চেয়ে এগিয়ে, কিন্তু আমরা এখনো নিজেরাই বুঝতে পারছি না। আমাদের থিয়েটারের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হতে পারে যদি আমরা আমাদের নিজস্ব পরিচয় খুঁজে পাই এবং আন্তর্জাতিক চর্চার সাথে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে যাই।
থিয়েটার শুধু মঞ্চ নয়, এটি একটি সমাজের আয়না। প্রতিটি দেশের থিয়েটার তার নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন: শারজা নাট্যোৎসব কতদিন ধরে চলছে? উত্তর: শারজা নাট্যোৎসব বর্তমানে ১৫তম বার্ষিকীতে পৌঁছেছে। এটি প্রতি বছর আয়োজন করা হয়।
প্রশ্ন: শারজায় নাটকের টিকিটের দাম কত? উত্তর: শারজা নাট্যোৎসবে দর্শকদের কোনো টিকিট লাগে না। বিনামূল্যে নাটক দেখা যায়।
প্রশ্ন: শারজা ইনস্টিটিউট ফর থিয়েট্রিক্যাল আর্টস কখন চালু হবে? উত্তর: শেখ সুলতান এই ইনস্টিটিউটটি নাটকের প্রশিক্ষণ ও চর্চার জন্য স্থাপন করেছেন, কিন্তু নিবন্ধন অনুযায়ী এখনো কোনো কাজ শুরু হয়নি।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের থিয়েটারের প্রধান সমস্যা কী? উত্তর: দর্শক না পাওয়া, সরকারি সহায়তার অভাব এবং আন্তর্জাতিক চর্চার সাথে সামঞ্জস্য না রাখা বাংলাদেশের থিয়েটারের প্রধান সমস্যা।
প্রশ্ন: শারজার আমিরের শিক্ষাগত যোগ্যতা কী? উত্তর: ড. শেখ সুলতান বিন মোহাম্মদ আল কাসেমির ইংল্যান্ডের দু
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is আম দ র থ য় ট র?
আম দ র থ য় ট র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does আম দ র থ য় ট র matter?
আম দ র থ য় ট র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
