Uncategorized

বিশ্ব আদিবাসী দিবস: সংকটে মাহাতোদের ভাষা ও সংস্কৃতি

ব শ ব আদ ব স দ - জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৯৪ সালে ৯ আগস্টকে বিশ্ব আদিবাসী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। প্রতি বছর এই দিনটি বিশ্বজুড়ে বিশেষ গুরুত্বের সাথে উদযাপিত

Desk Uncategorized
Published August 10, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
a73e263c8447454aedb42569465c381d-598b177f89330
Foto : William Jones - banglaprabah.com
Table of Contents
  1. বিশ্ব আদিবাসী দিবস: মাহাতো সম্প্রদায়ের ভাষা ও সংস্কৃতির সংকট
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

বিশ্ব আদিবাসী দিবস: মাহাতো সম্প্রদায়ের ভাষা ও সংস্কৃতির সংকট

Banglaprabah.com – ব শ ব আদ ব স দ – জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৯৪ সালে ৯ আগস্টকে বিশ্ব আদিবাসী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। প্রতি বছর এই দিনটি বিশ্বজুড়ে বিশেষ গুরুত্বের সাথে উদযাপিত হয়। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার রক্ষা, তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভাষার বিকাশ, প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নত করা এবং বিশ্বজুড়ে সচেতনতা বাড়াই—এই লক্ষ্যে এই দিবসটি পালিত হয়।

বাংলাদেশ জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে নানা ভাষা ও সংস্কৃতি-সমৃদ্ধ একটি দেশ। সরকারিভাবে স্বীকৃত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী এখানে ৫০টি। সমতলে বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী হলো মাহাতো। এই জাতিগোষ্ঠীর সদস্যরা মাহাত, মাহাতী বা মাতো নামে পরিচিত। কোনো কোনো অঞ্চলে এরা কুর্মি নামেও পরিচিত। বাংলাদেশ ও ভারতে বসবাসরত কুর্মিরা সাধারণত মাহাতো পদবি ব্যবহার করে থাকেন। সিলেট ও মৌলভীবাজার অঞ্চলে এরা প্রধানত কুর্মি নামে পরিচিত হলেও বাংলাদেশ গেজেটে (২৩ মার্চ ২০২৩) এদেরকে মাহাতো / কুর্মি মাহাতো / বেদিয়া মাহাতো হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাহাতো সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা ও বসবাস

মাহাতোদের সিংহভাগ ভারত, নেপাল, মরিশাস ও বাংলাদেশে বসবাস করে। বাংলাদেশে প্রধানত দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে এরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। দেশে বসবাসরত মাহাতো পরিবারের সংখ্যা ৫৩৬৭টি এবং জনসংখ্যা ৩৬০১২ জন। দেশের ৫টি বিভাগের ১৬টি জেলার ৩৩টি উপজেলার ৭৪টি ইউনিয়নের ১৮৩টি গ্রামে এদের বাস। দীর্ঘকাল ধরে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম ও হিন্দু জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি সহাবস্থান করা সত্ত্বেও মাহাতোরা তাদের স্বতন্ত্র সামাজিক কাঠামো, নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও গোষ্ঠীগত স্বাতন্ত্র্য সফলভাবে বজায় রেখে চলেছে।

কুর্মালি ভাষা ও সাহিত্য

যেকোনো জাতি বা গোষ্ঠীর পরিচয় নির্ণয়ে ভাষা ও সংস্কৃতির গুরুত্ব অপরিসীম। মাহাতোরা তাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির কারণে পৃথক জাতিসত্তা হিসেবে পরিচিত। নৃতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে জানা যায়, মাহাতোরা অস্ট্রিক ভাষাগোষ্ঠীর মানুষ। ডাল্টন মাহাতোদের আগের আর্য-উপনিবেশবাদীদের বংশধর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মাহাতোদের ভাষার নাম কুর্মালি। এটি মূলত আধা সংস্কৃত ও আধা হিন্দি মেশানো। এ ভাষার নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই। তবে এই ভাষার রয়েছে একটি আলাদা বাচনভঙ্গি। মাহাতোরা নিজেদের মধ্যে কুর্মালি ভাষায় কথা বলে এবং তাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আইন্যাশ কুর্মালি ভাষায় রচিত।

মাহাতোদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি অনেক প্রাচীন ও সমৃদ্ধ। গবেষকদের ধারণা, প্রাচীন চর্যাপদের বেশ কয়েকটি শব্দ কুর্মালি ভাষায় রয়েছে। ভারতে কুর্মালি ভাষায় বেশ কিছু পুস্তক রয়েছে। কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরণ্যক উপন্যাসে গনু মাহাতো ও সমরেশ বসুর আম মাহাতো উপন্যাসে আম মাহাতো চরিত্র দেখা যায়। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকার চা-বাগানের শ্রমিক সাগিনা মাহাতোর জীবনী নিয়ে ১৯৭০ সালে নির্মিত হয় বাংলা সিনেমা ‘সাগিনা মাহাতো’।

বাংলাদেশে কুর্মালি ভাষার সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা তুলনামূলকভাবে কম। এ দেশে কুর্মালি ভাষায় ২০১৩ সালে প্রথম উপন্যাস কারাম রচনা করেন তরুণ গবেষক উজ্জ্বল মাহাতো। এ ছাড়া তাঁর কথা ও সুরে দেবাশীষ মাহাতোর কণ্ঠে কুর্মালি ভাষায় গানের একক অ্যালবাম এ্যাগোবার প্রকাশিত হয়। পাশাপাশি দেবাশীষ মাহাতো ও রবীন্দ্রনাথ মাহাতোর পরিচালনায় কুর্মালি ভাষায় প্রথম নাটক হাঁটংটো রচিত হয়। অধ্যাপক ড. খ ম রেজাউল করিম ও অন্যদের রচিত গবেষণা গ্রন্থ মাহাতো জনগোষ্ঠী: সমাজ ও সংস্কৃতি ২০২১ সালে প্রকাশিত হয়। ২০২২ সালে বইমেলায় প্রকাশিত হয় উজ্জ্বল মাহাতোর আরও একটি শিশুতোষ গ্রন্থ ‘গিদরাগিলাক কুর্মালি’। পাশাপাশি তিনি বাংলার জাতীয় সংগীত কুর্মালি ভাষায় অনুবাদ করেছেন। এসব প্রকাশনা মাহাতো জাতিগোষ্ঠীকে জনসমক্ষে পরিচয় করিয়ে দিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

ভাষা ও সংস্কৃতির সংকট

এতৎসত্ত্বেও পুঁজিবাদ ও বিশ্বায়নের অভূতপূর্ব বিকাশ ও স্যাটেলাইটের প্রভাবে এই ভাষা-সংস্কৃতি আজ অনেকটাই হুমকির সম্মুখীন। বর্তমানে তাদের ভাষায় অসংখ্য বাংলা শব্দের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। একসময় মাহাতোদের মধ্যে শিক্ষার হার অপেক্ষাকৃত কম ছিল। তবে সামাজিকভাবে সচেতন হওয়ার কারণে বর্তমানে তারা শিক্ষাদীক্ষার বেশ অগ্রসর হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অনার্স-মাস্টার্স কোর্সে কুর্মালি পঠনপাঠন চললেও বাংলাদেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কুর্মালি ভাষায় শিক্ষাদানের সুযোগ এখনো তৈরি হয়নি। ফলে এরা স্বকীয়তা বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষায় সাধারণত তিন ধরনের পরিবর্তন ঘটছে: উচ্চারণগত, শব্দভান্ডারগত এবং অনেকেরই নিজস্ব লিপি না থাকার লোকসাহিত্য সীমিত হয়ে যাওয়া। এ ছাড়া একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্বায়ন, মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং স্যাটেলাইট সংস্কৃতির প্রভাবে দেশের ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর ভাষাগুলোর অবস্থা বেশ নাজুক। ভবিষ্যদ্বাণী করা হচ্ছে, আগামী ৫০ বছরের মধ্যে বিশ্বের প্রায় ৫০ শতাংশ শিক্ষিত মানুষ তাদের মাতৃভাষার পরিবর্তে ইংরেজি ব্যবহার করবে। বর্তমান বাস্তবতার ও ভবিষ্যতে বাংলা ভাষাও বিপদাপন্ন।

সৌরভ সিকদার বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষা থাকা সত্ত্বেও এদের প্রায় সবাইকেই দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে বাংলা শিখতে হয়। বলা হয় বিংশ শতাব্দীতে ভাষা তিন ধরনের আক্রমণের শিকার। প্রথমত, স্থানীয় বাঙালিদের উপভাষা দ্বারা; দ্বিতীয়ত, বৈশ্বিক ইংরেজি দ্বারা এবং তৃতীয়ত, আঞ্চলিক হিন্দি দ্বারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃ

Frequently Asked Questions

What is ব শ ব আদ ব স দ?

ব শ ব আদ ব স দ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ব শ ব আদ ব স দ matter?

ব শ ব আদ ব স দ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment