Uncategorized

গড়াইতদের জমি নেই, আছে কেবল স্মৃতি

গড় ইতদ র জম ন ই আছ - উত্তরবঙ্গের বরেন্দ্রভূমিতে একসময় যে জমি গড়াইতরা নিজেদের হাতে তৈরি করেছিল, আজ তা আর তাদের নেই। গড়াইতদের জমি নেই—এটাই তাদের বর্তমান

Desk Uncategorized
Published August 9, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments
CHAPAINAWABGONJDH060320260808IMG-20260808-WA0023
Foto : Jessica Brown - banglaprabah.com
Table of Contents
  1. গড়াইতদের জমি নেই, আছে কেবল স্মৃতি
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

গড়াইতদের জমি নেই, আছে কেবল স্মৃতি

Banglaprabah.com – গড় ইতদ র জম ন ই আছ – উত্তরবঙ্গের বরেন্দ্রভূমিতে একসময় যে জমি গড়াইতরা নিজেদের হাতে তৈরি করেছিল, আজ তা আর তাদের নেই। গড়াইতদের জমি নেই—এটাই তাদের বর্তমান বাস্তবতা। ভারতের নাগপুর থেকে এসে এই ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষরা বসবাস শুরু করেছিল। তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি ওঁরাওদের সাথে মিলে যায়। বর্তমানে নওগাঁ, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ার ২০ থেকে ২৫টি গ্রামে এই সম্প্রদায়ের ৪ থেকে ৪০ হাজার মানুষ বাস করে। তাদের অধিকাংশই ভূমিহীন এবং খাসজমিতে বসবাস করে। খেতমজুরি তাদের প্রধান উপার্জনের মাধ্যম।

আইনগত স্বীকৃতি ও ঐতিহাসিক পটভূমি

উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি হিংগু মুর্মু জানান, পূর্বপুরুষরা কীভাবে এই অঞ্চলে এসেছিলেন তার ইতিহাস রয়েছে। প্রাচীনকালে বরেন্দ্রভূমি ছিল ঘন বনভূমি। অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মতো গড়াইতরাও সেখানে আবাদি জমি তৈরি করেছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই জমি হারিয়েছে তারা। ২০১০ সালের ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন’-এর অধীনে প্রথমে ২৭টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে গেজেটভুক্ত করা হয়। ২০১৯ সালের সংশোধিত গেজেটে এই সংখ্যা ৫০টিতে উন্নীত হয়। এর মধ্যে ৩৯টি সমতলের জাতিগোষ্ঠী। এই তালিকায় গড়াইতদেরও স্থান রয়েছে।

বসবাসকেন্দ্র ও শিক্ষা ব্যবস্থা

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়নের মান্ডইল গ্রামটি গড়াইতদের সবচেয়ে বড় বসবাসকেন্দ্র। স্থানীয়রা এটিকে মাড়ইলও বলে থাকেন। সম্প্রতি মন্দিরের সামনে স্থানীয় নেতৃস্থানী ব্যক্তি মনাম সরদার, হরেন সরদার এবং ওঁরাওদের দিঘরী পরিষদের প্রধান নিরেন খালকোর সাথে কথা হয়। মান্ডইল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, একসময় গড়াইতদের জমিজমা ছিল। বর্তমানে প্রায় নেই বললেই চলে। এই স্কুলটি যে জমিতে প্রতিষ্ঠিত, তাও ছিল গড়াইতদের। বর্তমানে এখানে ২৫-২৬ জন গড়াইত ছাত্রছাত্রী পড়ে। এই বছর এসএসসি পরীক্ষায় ৯ জন অংশ নিয়েছে। তাদের ফরম পূরণের খরচ শিক্ষকরা দিয়েছিলেন। পরে কৃষিকাজ করে সেই টাকা ফেরত দিয়েছে তারা।

শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম আরও জানান, গড়াইতরা সাধারণত হতদরিদ্র। অনেক ছেলে-মেয়ে না খেয়েই স্কুলে যায়। ষষ্ঠ শ্রেণিতে যতজন ভর্তি হয়, তার অর্ধেক এসএসসি পর্যন্ত আসতে আসতে ঝরে পড়ে। মেয়েরা বাল্যবিবাহের কারণে বেশি ঝরে যায়।

গ্রামভিত্তিক পরিসংখ্যান

মান্ডইলের তিনটি পাড়া মিলিয়ে প্রায় ১০০ গড়াইত পরিবার বাস করে। এর মধ্যে মাত্র তিনটি পরিবারের সামান্য জমি রয়েছে। বাকি সবাই ভূমিহীন এবং খাসজমিতে বসবাস করে। খাসজমিতে বসবাসকারী গড়াইতদের অধিকাংশই খেতমজুরি করে। গোদাগাড়ী কাঁকনহাটের কাছে সেরুপাড়াতে ৫৫টি পরিবার বাস করে। এর মধ্যে তিনটি পরিবারের নিজেদের বসতভিটা আছে। বাকিরা খাসজমিতে থাকে। কাঁকনহাট সংলগ্ন দলদলায় ৭০ থেকে ৭৫টি পরিবারের বসবাস। গ্রামের মোড়ল ডালিম সরদার জানান, এখানে ১০টি পরিবার নিজেদের সামান্য জমিতে থাকে। বাকিরা খাসজমিতে গাদাগাদি করে বাস করে। কারোরই আবাদি জমি নেই।

ঐতিহাসিক স্মৃতি ও বর্তমান বাস্তবতা

গ্রামের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ ৯১ বছর বয়সী সরেশ সরদার লাঠির ভর দিয়ে হাঁটেন। তিনি বলেন, ‘আমার জন্ম এখানেই। পূর্বপুরুষেরা এ দেশে এসেছিলেন। তখন এসব অঞ্চল ছিল ঝোপ–জঙ্গলে ভরা। আমাদেরও জমি ছিল ১০-১২ বিঘা। এখন কিছুই নেই। বাস করছি খাসজমিতে।’ সরেশ সরদার আরও জানান, ১৯৬২ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় অনেকই দেশত্যাগ করেন। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অনেকে ভারত থেকে এসে দেখেন, জমিজমা বেদখল হয়ে গেছে।

নওগাঁর গড়াইতদের অধিকাংশই নিয়ামতপুর উপজেলার চন্দননগর ইউনিয়নে বসবাস করে। হড়পা গ্রামের বিজয় সরদার জানান, নিয়ামতপুর ও গোদাগাড়ী মিলিয়ে ১৫-১৬টি গ্রামে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ জন গড়াইতের বসবাস।

মান্দইল গ্রামের স্নাতক পাস মাখন সরদার (৪১) বলেন, ‘একসময় গড়াইতদের অনেকের গোয়াল ভরা গরু আর গোলা ভরা ধান ছিল বলে শুনেছি। শুনেছি আমার দাদারও ছিল। এখন কিছুই নেই—দেখে মনে হয়, সেটা কি শুধু গল্পই ছিল?’

গড়াইতদের জমি নেই—এটাই তাদের বর্তমান বাস্তবতা। কিন্তু তাদের স্মৃতি এখনও বেঁচে আছে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

গড়াইতরা কোথা থেকে এসেছিল? গড়াইতরা ভারতের নাগপুর থেকে এসে উত্তরবঙ্গের বরেন্দ্রভূমিতে বসবাস শুরু করেছিল।

গড়াইতদের বর্তমান জনসংখ্যা কত? নওগাঁ, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ার ২০ থেকে ২৫টি গ্রামে ৪ থেকে ৪০ হাজার গড়াইত মানুষ বাস করে।

গড়াইতদের জমি কোথায় গেল? পূর্বপুরুষরা বরেন্দ্রভূমির ঘন বনভূমি পরিষ্কার করে আবাদি জমি তৈরি করেছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই জমি হারিয়েছে তারা।

গড়াইতদের আইনগত স্বীকৃতি কখন হয়েছে? ২০১০ সালের ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন’-এর অধীনে প্রথমে ২৭টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে গেজেটভুক্ত করা হয়। ২০১৯ সালের সংশোধিত গেজেটে এই সংখ্যা ৫০টিতে উন্নীত হয়।

গড়াইতদের সবচেয়ে বড় বসবাসকেন্দ্র কোনটি? রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়নের মান্ডইল গ্রামটি গড়াইতদের সবচেয়ে বড় বসবাসকেন্দ্র।

Frequently Asked Questions

What is গড় ইতদ র জম ন ই আছ?

গড় ইতদ র জম ন ই আছ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does গড় ইতদ র জম ন ই আছ matter?

গড় ইতদ র জম ন ই আছ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment