Banglaprabah.com – ম ত র ১২ ডল র গ – “`html
১২ ডলারে গুগল ডটকম কেনার অদ্ভুত কাহিনি
২০১৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সময় রাত ১টা ২০ মিনিট। সেই রাতেই ঘটেছিল এমন এক ঘটনা, যা গুগলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করে। সন্ময় বেদ নামের এক তরুণ গুগল ডোমেইনস প্ল্যাটফর্মে ঢুঁ মেরে হঠাৎ করেই google.com ডোমেইনটি কিনে ফেলেন। সাধারণত যেসব জনপ্রিয় সাইট বিক্রির জন্য থাকে, সেগুলোর মধ্যে এই ডোমেইনটিকেও তিনি ভেবেছিলেন। কিন্তু স্ক্রিনে সবুজ টিকচিহ্ন দেখে তিনি অবাক হয়ে যান।
গুগলের ভুলে সুযোগ নিলেন এক তরুণ
সন্ময় বেদ ভারতের গুজরাটের মান্ডবি শহরের বাসিন্দা। তিনি আগে গুগলেই কাজ করতেন। সেই সময়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ব্যাবসন কলেজে এমবিএ পড়ছিলেন। প্রযুক্তি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করা তাঁর স্বভাব ছিল। সেই রাতে গুগল ডোমেইনসে সার্চ বারে লিখেছিলেন google.com। পর্দায় ভেসে উঠল সবুজ রঙের টিকচিহ্ন—ডোমেইনটি বিক্রির জন্য আছে। তিনি ভাবলেন, নিশ্চয়ই কোনো গ্লিচ হয়েছে। তবুও ‘অ্যাড টু কার্ট’ অপশন দেখে কৌতূহল সামলাতে পারলেন না। ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ১২ ডলার চুকিয়ে দিলেন।
পেমেন্ট করার সময় হতো কোনো এরর দেখাবে এবং ট্রানজেকশন বাতিল হবে। কিন্তু অবাক ব্যাপার হলো, পেমেন্ট সফল হলো এবং আমার কার্ড থেকে সত্যিই টাকা কেটে নেওয়া হলো!
এক মিনিটের জন্য গুগল ডটকমের মালিক
পেমেন্ট সফল হওয়ার পরপরই সন্ময় গুগলের ওয়েবমাস্টার টুলের অ্যাক্সেস পেয়ে যান। ওই মুহূর্তের জন্য তিনি সত্যিই গুগল ডটকমের মালিক হয়ে গিয়েছিলেন। গুগলের অভ্যন্তরীণ নানা তথ্য তাঁর সামনে আসতে শুরু করে। তবে এই মালিকানা তাঁর কাছে ছিল মাত্র এক মিনিটের জন্য। গুগল ডোমেইনস যেহেতু গুগলেরই নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম, তাই তারা দ্রুত এই মারাত্মক ত্রুটি ধরতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে ট্রানজেকশনটি বাতিল করে দেয়। সন্ময়ের ১২ ডলারও তাঁর অ্যাকাউন্টে ফেরত চলে আসে।
অদ্ভুত গাণিতিক রসিকতা
গল্পটি এখানেই শেষ হতে পারত। কিন্তু আসল চমক তখনো বাকি। গুগলের মতো এত বড় টেক জায়ান্টের সিস্টেমে এমন একটা ফাঁকফোকর ধরিয়ে দেওয়ার জন্য গুগলের সিকিউরিটি টিম সন্ময়কে পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নেয়। সন্ময় শুরুতে বলেছিলেন, এমন কাজের জন্য তাঁর কোনো টাকার দরকার নেই। সাইবার নিরাপত্তার ত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া সব সময় টাকার জন্য হওয়া উচিত নয়। তবু গুগল সন্ময়কে ত্রুটি ধরিয়ে দেওয়ার পুরস্কার হিসেবে দেয় ৬ হাজার ৬ দশমিক ১৩ ডলার।
টাকার অঙ্ক একটু অদ্ভুত লাগছে, না? এর পেছনে একটা দারুণ গাণিতিক রসিকতা আছে। একটু খেয়াল করলেই দেখবেন, ইংরেজিতে 6006.13 সংখ্যাটি দেখতে অনেকটা ‘GOOGLE’-এর মতো লাগে। মানে, G=6, O=0, O=0, G=6, L=1, E=3।
দাতব্য কাজে দান
গুগলের এই রসবোধ সন্ময়ের বেশ ভালো লেগেছিল। গুগল অবশ্য চাইলে সংখ্যার মাঝে দশমিকটা না দিয়ে ৬ লাখ ৬ হাজার ১৩ ডলারও দিতে পারত! তবে সন্ময় এই টাকার এক কানাকড়িও নিজের পকেটে পোরেননি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা তাঁর কাছে সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। তাই তিনি ঠিক করেন, পুরো টাকা তিনি দাতব্য সংস্থাগুলো দান করে দেবেন। ভারতের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করা দ্য আর্ট অব লিভিং ইন্ডিয়া নামের একটি সংস্থায় সন্ময় এই টাকা দিয়ে দেন।
সংস্থাটি ভারতের ১৮টি রাজ্যে ৪০৪টি অবৈতনিক স্কুল চালায়, যেখানে প্রায় ৩৯ হাজার ২০০ শিশু বিনা মূল্যে পড়াশোনা করে।
গুগলের দ্বিগুণ পুরস্কার
সন্ময়ের এই মহৎ উদ্যোগের কথা জানতে পেরে গুগল অবাক হয়। তারা শুধু প্রশংসাই করেনি, সন্ময় যেহেতু টাকা মহৎ কাজে দান করেছেন, তাই গুগল পুরস্কারের অঙ্কটা সরাসরি দ্বিগুণ করে দেয়। অর্থাৎ গুগলের ভুলে পাওয়া ১২ ডলারের ডোমেইনের ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত হাজারো সুবিধাবঞ্চিত শিশুর মুখে হাসি ফুটিয়েছিল।
এমবিএ শেষ করার পর সন্ময় প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ—দুনিয়ায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। গুগল ছেড়ে আসার পর ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও টেকনোলজির সমন্বয়ে গড়া বিভিন্ন প্রজেক্টে প্রোডাক্ট লিডার হিসেবে কাজ করেছেন।
“`

