মানবজাতির প্রতীক হিসাবে ম্যান্ডেলা
ক ন আজও ন লসন ম য – অনেক ইতিহাসে এমন মানুষ রয়েছেন যাঁদের জীবন দেশের রাজনৈতিক চরিত্রের অংশ নয়, বরং মানবজাতির নৈতিক বীর্যের দৃষ্টান্ত। নেলসন ম্যান্ডেলা সেই বিরল মানুষদের অন্যতম, যাঁদের জীবন স্বাধীনতার যুদ্ধ এবং গণতন্ত্র গঠনের মূল কাহিনী। তিনি ছিলেন স্বাধীনতার লড়াইয়ের প্রধান বিপুল সংখ্যক বিপ্লবী ও জনতার কর্মকর্তা। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ আমাদের শেখায় যে স্বাধীনতা কেবল শাসক পরিবর্তনের নাম নয়, বরং মানুষের আত্মমর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং সম–অধিকারের সংগ্রাম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
সামনে অপেক্ষা করছে দীর্ঘ সংগ্রাম
১৯৪৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার সবচেয়ে গোঁফাল সময়ে ম্যান্ডেলা উপলব্ধি করেন যে সামনে আছে গুরুতর সংগ্রাম। তিনি কখনো জনগণকে অবাস্তব আশ্বাস দেননি। বরং তিনি তাঁদের প্রস্তুত করেছিলেন এমন পথের জন্য যেখানে ধৈর্য, সাহস ও সংগঠন অপেক্ষা বিজয়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল। এ সময়ে সেই অভিজ্ঞতার মূলে ছিল বিষম বৈষম্যমূলক প্রথার বিরুদ্ধে জনগণের আন্দোলনের ইতিহাস।
‘স্বাধীনতার পথে সহজ কী পথ নেই’
১৯৫৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের সম্মেলনে ম্যান্ডেলা বক্তৃতায় বলেন যে স্বাধীনতা অর্জনে বিপ্লবী ভাবনার প্রয়োজন ছিল। শাসক কোনো পথে বিপ্লবী কাজ করতে সম্মতি দিয়েছিলেন না, বরং নিজেকে মানবমর্যাদার প্রতিষ্ঠা ও সমাজের নৈতিক পরিবর্তনের প্রতি সতেজ ও সমৃদ্ধ অনুরাগ দেখিয়েছিলেন। তিনি জানতেন যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই কখনো সরল ছিল না; এ জন্য পরাজয়, কারাগৃহে বসবাস এবং সামনে নতুন চেষ্টা করা ছিল অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য।
বর্ণবৈষম্য এবং জনগোষ্ঠীর পার্থিব অধিকার
ম্যান্ডেলা দেখেছিলেন যে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী সরকার কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর মৌলিক মানবাধিকার অস্বীকার করছিল। জমি, শিক্ষা, ভোটাধিকার, চলাচল এবং কর্মসংস্থান তার বর্ণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হত। এ কৃত্রিম ব্যবস্থার দ্বারা মানুষের জন্ম তার ভাগ্য নির্ধারণ করত। রাষ্ট্রের আইন, আদালত, পুলিশ �
