স্বপ্নের ড্র কেপ ভার্দের
মাঠে নামার আগে কেউ জানে না কী হবে
স প ন র চ খ চ – আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামের বাইরে বিকালে যখন আলো নামছিল, তখন কেউ ভাবেনি যে দিনটি ইতিহাসের পাতায় আলাদাভাবে লেখা হবে। ফুটবলের কোনো দিন ছোটরা বড়দের চোখে চোখ রেখেছে কিন্তু এত নিখুঁতভাবে হয়েছে কেপ ভার্দের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্পেনের বিরুদ্ধে।
যেন দুটো শব্দ একসঙ্গে বসানো ঠিক হচ্ছে না।
পাঁচ লাখ মানুষের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র
স্পেনের বিপক্ষে প্রথমবার বিশ্বকাপে নামছে কেপ ভার্দে। পাঁচ লাখ মানুষের জনপদ হিসেবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেই দেশটি সবচেয়ে ছোট হিসেবে রেখেছে। দশটি দ্বীপ নিয়ে গঠিত এই দল আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত।
আটলান্টার মাঠে স্পেন যখন ২৭টি শট নিয়েছিল, সেখানে সাতটি সরাসরি গোলমুখে গিয়েছিল। কিন্তু কোনো গোল হয়নি। সংখ্যাগুলো পড়লে মনে হয় গণনায় ভুল হয়েছে। কিন্তু সেটা নিখুঁত ছিল। বিশ্বকাপের মাঠে একটি মানুষের পুরো অভিজ্ঞতা নিংড়ে দেওয়া হয়েছে এই ম্যাচটিতে।
প্রথমার্ধে ভোজিনিয়া তিনটি সেভ করেছিলেন যার মধ্যে মিকেল ওয়াইরসাবাল, এমেরিক লাপোর্ত এবং ফেরান তোরেস রয়েছে। তোরেস ক্রসবারেও লাগিয়ে দিয়েছিলেন। ভোজিনিয়া প্রতিটি শটের পথ জানতেন। চল্লিশ বছরের শরীরে সতেরো বছরের প্রতিক্রিয়া ছিল।
ড্র যে কীভাবে সম্ভব হয়েছে
দ্বিতীয়ার্ধে মিকেল মেরিনো, মার্ক কুকুরেয়া এবং ইয়ামাল এলে কিছুই হয়নি। কেপ ভার্দের রক্ষণ যেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কোনো পরিখার মতো। মাটিতে গভীর, অটল, অপ্রবেশ্য।
আফ্রিকার বাছাইপর্বে ক্যামেরুনকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে এসেছে কেপ ভার্দে। সার্বিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে তারা প্রস্তুতি ম্যাচে সাবান করেছে। তাই বলে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে ড্র হয়েছে? ফ্রান্সকে ২০০২ বিশ্বকাপে ১-০ গোলে হারিয়েছিল নবাগত সেনেগাল। ইতালিকেও ১৯৬৬ বিশ্বকাপে উত্তর কোরিয়া একই ব্যবধানে হারিয়েছিল। আর্জেন্টিনাকে ৪ বছর আগে সর্বশেষ বিশ্বকাপে সৌদি আরব চমকে দিয়েছিল।
গতকালের ম্যাচটি সেই বিস্ময়ের তালিকায় ঢুকে পড়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে লামিন ইয়ামালকে মাঠে নামানো হয় এবং স্পেনের ডাগআউটে হয়তো স্বস্তির নিশ্বাস পড়েছিল। এই কিশোর সামনে যে নবাগত ড্র নিয়ে প্রতিভা সৃষ্টি করেছেন। তাঁর বাজারমূল্য ২০ কোটি ইউরো। কিন্তু কেপ ভার্দের পুরো দলের সম্মিলিত মূল্য মাত্র ৫ কোটি ৪৪ লাখ ইউরো।
যে সাহসই জয়ের সমান এক ড্র �
