সংস্কৃতি খাতে বাজেটের ২ শতাংশ বরাদ্দ চায় বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কর্মী সংঘ
স স ক ত খ ত ব – বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কর্মী সংঘ জানিয়েছে যে, দেশের সাংস্কৃতিক বিকাশ এবং উন্নয়নের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সংস্কৃতি খাতে ন্যূনতম ২ শতাংশ বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। এই দাবি তুলে আনা হয়েছে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে, যেখানে সংগঠনের নেতারা এ প্রস্তাব পেশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আ মা ম হাসানুজ্জামান সভাপতিত্ব করেন। সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শাহ আলম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। লিখিত বক্তব্যে ১৫টি প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে সব উপজেলায় শিল্পকলা একাডেমি চালু করার আহ্বান, প্রতিটি শিক্ষামন্ডলে নাচ, গান ও চিত্রকলা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, বয়স অনুযায়ী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু করার দাবি, এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শিল্পীদের জন্য ভাতা প্রদানের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক ছটকু আহমেদ বলেন, ‘সংস্কৃতি খাতে বিনিয়োগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মূল্যবোধ এবং জাতীয় সৌহার্দ্যের জন্য প্রয়োজন। যুবসমাজকে মাদক এবং সামাজিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে হলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিস্তার ঘটাতে হবে।’
সংগঠনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল আজিজ বলেন, ‘সংস্কৃতি হলো একটি জাতির মূল্যবোধ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রমাণ। সংস্কৃতি খাতকে রাষ্ট্রের প্রাথমিক খাত হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।’
কবি শিরিন বেগম বলেন, ‘আমরা শুধু শিল্পীদের জন্য বরাদ্দ চাইছি না। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও জাতীয় পরিচয় শক্তিশালী করার জন্য জাতীয় বাজেটে ২ শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানাচ্ছি। এটি সময়ের দাবি।’
সংগঠনের সাংগঠনিক সদস্য এবং নাট্যকর্মী এম এ হামিদ বলেন, ‘সংস্কৃতি হলো দেশের মূল মেরুদণ্ড। এর সঠিক পরিচর্যা না হলে রাজনীতি, শিক্ষা বা সমাজ কোনোটিই কাজে লাগতে পারে না।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন প্রকাশক সৈয়দ জাকির হোসাইন, নাট্যকার মতিউর রহমান (রানা), শিল্পী ফয়জুল আলম, যাত্রা সংগঠক গাজী আবদুর রাজ্জাক, খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামসহ বিভিন্ন কর্মী ও নির্দেশক।
