শিশুধর্ষণ ও হত্যা: জনতুষ্টিবাদী বিচার ও আইনের বিপদ
শ শ ধর ষণ ও হত য – পত্রিকা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে প্রতিদিন নানা ধরনের অপরাধের খবর আমাদের চোখে পড়ে যায়। বিশেষ করে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনাগুলো আমাদের মনে গুরুতর সংকটের ধারণা জাগিয়ে তোলে। অপরাধপ্রবণতার আরও অনেক ক্ষেত্রে সংঘটিত হওয়া হামের প্রাদুর্ভাব কিংবা যৌন নিপীড়নের ধরনের নৃশংস অপরাধ আমাদের সব স্তরে বিস্মিত করে তোলে।
প্রাচুর্য সম্পর্কে গোটা সমাজের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে এমন দুটি ঘটনা সম্প্রতি সামস্ত্রিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে—পল্লবীর কন্যার হত্যা এবং বনশ্রীর মাদ্রাসাশিক্ষার্থীর আত্মহত্যা। সেই দুটি ঘটনায় আইনি প্রমাণের মাধ্যমে শিশুদুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছিল বলে স্থাপিত হয়েছে। সেই ধরনের নৃশংস অপরাধে সাধারণ মানুষের আবেগ হবে স্বাভাবিক, কেননা শিশুদের প্রতি আমাদের আবেগপ্রবণতা এখনো চোখের বদলে চোখ বা দাঁতের বদলে দাঁত দিয়ে শাস্তি দেওয়ার প্রবৃত্তি অপরিহার্য।
জনতুষ্টিবাদী আইনের চালনা
গত কয়েক দিনে আইন কর্মকর্তারা জনতুষ্টিবাদী মনোযোগ দেখে এসেছে কয়েকটি সরকারি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মাগুরায় একটি শিশুধর্ষণ ও হত্যার পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই অধ্যাদেশে ধারা ২০-এ নতুন উপধারা ৯ সংযোজিত করা হয়েছে, যা মামলার অগ্রগতির জন্য ট্রাইব্যুনাল উপযুক্ত মনে করলে মেডিকাল সার্টিফিকেট ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যের ভিত্তিতে বিচারকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭-এ সকল নাগরিককে আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকার দেওয়া আছে। অনুচ্ছেদ ৩১-এ যথাযথ আইন ব্যতীত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না, যা কোনো ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো নতুন ৩২(ক) ধারায় তদন্তকারী কর্মকর্তার অধিকার স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির ডিএনএ পরীক্ষা না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তদন্তকারী কর্মকর্তা চাইলে। তবে তিনি লিখিতভাবে ট্রাইব্যুনাল বা ক্ষেত্রমতে ম্যাজিস্ট্রেটকে এই সিদ্ধান্তের কারণ অবহিত করতে হবে। এই ধারাটি অভিযুক্তদের বিপদের কারণ হতে পারে, কেননা ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্তের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
যাই হোক না কেন, জনপ্রতিবা�
