রাষ্ট্রক্ষমতা অধিকার না আমানত
র ষ ট রক ষমত ক অধ – রাষ্ট্রক্ষমতা কি ব্যক্তিগত অধিকার না জনগণের আমানত? এই প্রশ্নে ইসলামি দর্শন জনস্বার্থের ক্ষেত্রে গুরুত্ব অর্থ বাহক হিসেবে কাজ করে। এখানে রাষ্ট্রক্ষমতা শুধুমাত্র ক্ষমতার প্রতীক নয়, বরং মানুষের জন্য স্বচ্ছ এবং ন্যায়বিচারমূলক পরিচালনার মাধ্যম।
আমানতের মূল ধারণা
রাষ্ট্রক্ষমতা ইসলামে একটি বিশেষ আমানতের প্রতিষ্ঠা। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আমানত তোমাদের হকদারদের কাছে পৌঁছে দাও’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৫৮)। এই ধারণা দেখিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল কাজ মানুষের প্রতি দায়িত্বের প্রতিষ্ঠা। অর্থনৈতিক সম্পদ এবং সামাজিক সম্পদ সমূহ আমানত হিসেবে সম্পর্কিত হয় রাষ্ট্রের হাতে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন, তোমরা যেন আমানত তার হকদারদের কাছে পৌঁছে দাও এবং মানুষের মধ্যে বিচার করলে ন্যায়বিচারের সঙ্গে বিচার করো।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৫৮)
নেতৃত্বের দায়িত্ব
রাষ্ট্রপ্রধান এবং সরকারের প্রতিটি নীতি জনগণের কল্যাণের জন্য পরিচালিত হতে হবে। ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন, ‘রাষ্ট্রপ্রধানের প্রথম দায়িত্ব হলো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং সব ধরনের অন্যায় থেকে বিরত থাকা।’ (মাজমুল ফাতাওয়া, খণ্ড ৩৫, পৃ. ৩৬৪) এই নীতি রাষ্ট্রের ক্ষমতাকে শুধু ক্ষমতার মুক্তি থেকে অপসারিত করে।
সামাজিক বিস্তার নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্রক্ষমতা জনগণের দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়। কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘যাতে সম্পদ তোমাদের মধ্যকার কেবল ধনীদের মধ্যেই আবর্তিত না হয়’ (সুরা হাশর, আয়াত: ৭)। এটি দেখিয়ে রাষ্ট্রের গুরুত্ব হলো সম্পদের সুষম বণ্টন এবং সামাজিক বিস্তার সাধন করা।
রাষ্ট্রক্ষমতার প্রকাশ মানুষের প্রতি দায়িত্বের মাধ্যমে ঘটে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তার অধীনদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। শাসকও একজন দায়িত্বশীল এবং তিনি তাঁর অধীনদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৫৫৪) এই ভাষ্য দেখিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা হলো জনসেবার সাধন।
আমানতের ধারণাটি ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি নেতৃত্বের হাতে সম্পদ এবং ক্ষমতা সম্পর্কে জনগণের আশা সত্য করে। ক্ষমতা ব্যক্তিগত সম্পদ নয়, এটি সামাজিক উন্নয়নের সাধনা হিসেবে কাজ করে। রাষ্ট্রপ্রধান এই আমানত সম্পর্কে দায়িত্বশীল হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সুতরাং রাষ্ট্রক্ষমতা জনস্বার্থকে প্রথম স্থানে রাখা প্রয়োজন। ক্ষমতার ব্যবহার ন্যায়বিচার ও সম্পদের সমূহ বণ্টনের মাধ্যমে ঘটে। এই ধারণা বাস্তবায়ন করার জন্য শাসন ক্ষমতার প্রতিটি পদক্ষেপ সম্পর্কে সচেতনতা দরকার।
