দক্ষিণাঞ্চলে নদী ও গভীর নলকূপের পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে
দক ষ ণ ঞ চল নদ র – বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায় গভীর নলকূপের পানির লবণাক্ততা আগে থেকে অস্বাভাবিক স্তরে উঠেছে। এটি জনস্বাস্থ্য ও কৃষি ক্ষেত্রে বড় হুমকি তৈরি করেছে। নদীর পানিতে লবণাক্ততা প্রায় সব ক্ষেত্রে সহনীয় সীমা ছাড়িয়ে গেছে এবং এখন গভীর নলকূপের পানিতেও সেই পরিমাণ দেখা দিয়েছে। এই পরিবর্তনের কারণে পানি যে জীবনের উৎস ছিল, এখন সেই পানি মানুষের শরীরে বয়ে আনছে বিপদের সূত্রপাত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন লবণাক্ত পানি পান করলে রক্তচাপ, কিডনি সমস্যা, গর্ভকালীন স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও নারীদের জরায়ু রোগ বেড়েছে। কৃষিজমির লবণাক্ততা বাড়ছে এবং ফসল উৎপাদন কমছে। এটি খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সুনাম হিসেবে মনে হচ্ছে।
এ এফ এম মামুন, বরিশাল আঞ্চলিক মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বলেন, নদীর পানির সহনীয় লবণাক্ততার মাত্রা শূন্য দশমিক ৭ ডিএস/এম। দক্ষিণাঞ্চলের সব নদীর পানিতে এই সীমা অতিক্রম করে গেছে।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, উপকূলীয় এলাকার অসংখ্য নদীতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। যেমন পটুয়াখালীর গলাচিপাসংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদীতে ২০২১ সালের মার্চে লবণাক্ততা ছিল শূন্য দশমিক ৮৭ ডিসি/এম। তবে এ বছরের মার্চে তা হারিয়েছে এক দশমিক ৭৫ ডিসি/এম। বরগুনার পাথরঘাটার বলেশ্বর নদে ২০২১ সালের এপ্রিলে সেই মাত্রা ৪ দশমিক ৫৬ ডিসি/এম ছিল। এখন সেখানে তা হারিয়েছে ৫ দশমিক ৮৮ ডিসি/এম।
তেমন করে পটুয়াখালীর কলাপাড়া এলাকায় আন্ধারমানিক নদে ২০২১ সালের মার্চে লবণাক্ততা ছিল ২২ দশমিক ২০ ডিসি/এম। এ বছরের এপ্রিলে সেই মাত্রা ২৫ দশমিক ৩১ ডিসি/এম পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি বর্তমানে গভীর নলকূপের পানিতে চলতি হাজার থেকে দুই হাজার ফুট গভীর এলাকায় পরীক্ষা করে এসআরডিআই গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী লবণাক্ত পানির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। পটুয়াখালীর গলাচিপার বদরপুর গভীর নলকূপে তা ছিল ১ দশমিক ২৭ ডিসি/এম, উপজেলার পানপট্টি এলাকায় তা ১ দশমিক ৩৩ ডিসি/এম হয়েছে।
স্বাস্থ্য সংকট গভীর হতে পারে
বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগে সাধারণ চাষযোগ্য ৮ লাখ ২ হাজার হেক্টর জমিতে ৪ লাখ ১৫ হাজার হেক্টর বা ৫২ শতাংশ লবণাক্ততার কবলে পড়েছে। সাগরপার জেলার পটুয়াখালীতে ১ লাখ ৫৫ হাজার ১৮০ হেক্টর জমি লবণাক্ততার প্রভাবে আক্রান্ত। বরগুনার ২৪ শতাংশ, ভোলার ২৪
