মেয়ের লাশ সড়কে ফেলে পালিয়েছিলেন বাবা, ১০ দিন পর গ্রেপ্তার
ম য র ল শ সড ক – খুলনা নগরের নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় নির্জনার কিশোরী আরফানা হোসেন (১৬) এর বস্তাবন্দী মৃতদেহ সড়কে ফেলে পালিয়েছিলেন তাঁর বাবা। এ হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন পর রাব এবং পুলিশের সমন্বিত অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া বাজার এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে আলিম হোসেন ওরফে আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে সদর থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, যৌথ অভিযানে আলিম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুরু থেকেই তাঁকে ধরতে অভিযান চলছিল, কিন্তু তিনি বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন। গতকাল শুক্রবার রাতেও অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল, তবে তাঁর আগে কবুতরের খাবার বহনে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বস্তায় মরদেহটি ফেলে আসা হয়।
নিহত আরফানা খুলনা নগরের বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং সরকারি ইকবাল নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন।
পুলিশ জানায়, আরফানা স্বীকার করেছেন নিজের সিদ্ধান্তে বিয়ে করেছিলেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাঁকে বুঝিয়ে স্বামীর বাড়ি থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে আরফানা আবার স্বামীর কাছে যেতে চাইলে মা-বাবার সঙ্গে বিরোধ হতো।
৮ জুলাই সন্ধ্যায় একই বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে মা আরফানাকে মারধর করেন। পরে বাবা কাঠের ফালি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই মেয়েটির মৃত্যু হয়। মা-বাবার দুজনেই মাদকাসক্ত বলে জানায় পুলিশ।
আরফানা মরদেহ শনাক্ত না হওয়ায় পরের দিন সদর থানার উপপরিদর্শক লাভলী আক্তার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে আরফানার মা শনাক্ত করেন তার পরিচয়। তদন্তের পরে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।
