ভোলার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক তোফায়েল আহমেদের দাফন প্রস্তুতি
ভ ল য় প রব ণ র – মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সংগঠক এবং নয়বার সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদের জন্মভূমি ভোলায় আজ দাফন করা হবে। তাঁর বাড়িতে ভোর থেকেই দাফন কাজ শুরু হয়েছে সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে।
গ্রামটিতে সকাল থেকেই শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের সাথে প্রিয় নেতার শেষ বিদায়ে অংশ নিতে আসছে মানুষ। তাঁর মৃত্যুতে ভোলার রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
পারিবারিক উদ্যোগে হেলিকপ্টার ব্যবহার
আজ দুপুরে তোফায়েল আহমেদের মরদেহ ভোলায় আনা হবে পরিবারের উদ্যোগে হেলিকপ্টারে। এরপর ভোলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জোহরের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে, যার পর বেলা দুইটায় দ্বিতীয় জানাজা হবে।
প্রথম জানাজা গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার ধানমন্ডি তাকওয়া মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর পর মরদেহ তোফায়েল আহমেদের কোড়ালিয়া গ্রামে নেওয়া হবে, যেখানে তাঁকে স্থানীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার কবরের পাশে শায়িত করা হবে।
তোফায়েল আহমেদ শুধু রাজনীতিবিদ ছিলেন না, তিনি ছিলেন ভোলার মানুষের আশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। তাঁর মৃত্যুতে জেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিশেষ বিদায় ঘটেছে।
জন্ম ও রাজনৈতিক যোগদান
তোফায়েল আহমেদ ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনৈতিক কর্মে জড়িত ছিলেন। ১৯৬৯ সালে তিনি গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর অবদান প্রকট হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭০ সালে তিনি ভোলার দৌলতখান-তজুমদ্দিন-মনপুরা আসন থেকে ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
শেষ সময়ে দলে অবহেলিত ছিলেন তিনি। তোফায়েল আহমেদ আর নেই।
