Uncategorized

‘সন্তানদের লাইগ্যা কষ্ট করতাছি, আল্লাহ একদিন ফল দিব’

সন্তানদের লাইগ্যা কষ্ট করতাছি, আল্লাহ একদিন ফল দিব শ্রমিকের সংসারের ভার সন ত নদ র ল ইগ য - বিশ্রাম বাদ দিয়ে অচল মানুষ ব্যস্ত নগর তখনো জেগে ওঠেনি। গুঁড়িতে

Desk Uncategorized
Published May 16, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments

সন্তানদের লাইগ্যা কষ্ট করতাছি, আল্লাহ একদিন ফল দিব

শ্রমিকের সংসারের ভার

সন ত নদ র ল ইগ য – বিশ্রাম বাদ দিয়ে অচল মানুষ ব্যস্ত নগর তখনো জেগে ওঠেনি। গুঁড়িতে মালামাল পারাপারের চুক্তি করে সড়কে পাথরগুলো নিয়ে কাজ করছেন চারজন মানুষ। তাঁদের একজন ফয়েজ উল্লাহ, যিনি কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার উত্তর দুর্গাপুর ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামে বাস করেন। তাঁর সংসারে স্ত্রী রানু আক্তার এবং দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

ফয়েজ উল্লাহ বলেন, ‘কোদালের পয়সা দিয়া দুইটা গাছ লাগাইছি। আল্লাহ একদিন ফল দিব। সন্তানদের লাইগ্যা কষ্ট করতাছি। আল্লাহ আমার মনের আশা পূরণ করছে। বড় ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে পড়ে; সে বিসিএসের প্রস্তুতি নিতাছে। ছোট ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনার্সে পড়ে। ইচ্ছা আছে মেয়েটারেও উচ্চশিক্ষিত বানামু।’

ফয়েজ উল্লাহ এখন দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। তিনি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা মুনাফার সাথে আয় করেন। কিন্তু কাজের সুযোগ খুঁজে বের হওয়া তাঁর জন্য বেশ কষ্টকর। সাতসকালে লেগে পড়ে কাজে এবং দুই স্ত্রী আর বাড়তি খরচের জন্য প্রতিদিন বিশেষ চাপ পড়ে।

শ্রম বিক্রির হাটে অপেক্ষা

কুমিল্লা নগরে ভোর থেকে শ্রম বিক্রির হাটে অপেক্ষা করছেন আবদুল জাব্বার। যেদিন তিনি কাজ পান সেদিন ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা ইনকাম করেন। তবে প্রতিদিন কাজ পাওয়া সম্ভব হয় না বলে তিনি জানান।

আবদুল জাব্বার বলেন, ‘খুব কষটো করি দিন কাটছে গো। জিনুসপাতির যে দাম, আর চলা য্যাছে না। বাড়িত বিটি-ছলপলে লিয়ে বউকে বেশি টাকা দিবার পারি না। মাছ-গোস এ্যালা আমাগি তায় সপন হয়া গেছে। নুন-ভাতে কোনো রকমে পরিবার লিয়ে দিন কাটছে।’

তিনি কুমিল্লা শহরের শাসনগাছা এলাকায় একটি মেসে থাকেন দৈনিক ১৫০ টাকা খরচ করে। স্বামী হিসেবে তাঁর অপর একটি বেলা এবং মেয়েটার খরচের জন্য নিয়মিত বিনিময় করতে হয়। পরিবারের খরচ বাড়ছে কিন্তু তাঁর জীবন স্থায়ী করছে শ্রম করে।

মুলিবাঁশ গুঁড়িতে জীবন

রফিক মিয়া কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে মুলিবাঁশ গুঁড়িতে বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করেন। যেদিন তিনি কাজ করে সেদিন তাঁর মুনাফা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা হয়। কিন্তু বাড়তি খরচে এটা তাঁর জীবনের চাকা চলছে না বলে জানান তিনি।

রফিক মিয়া বলেন, ‘যা আয় হয়, খায়ে কিছু থাহে না। বাজারের জিনিসপত্রের যেই দাম—সীমিত আয় দিয়ে সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। অনেক কষ্টে টেনেটুনে দিন পার করছি। এটা আমার ভাতিজার দোকান; তাই এখানেই পড়ে আছি।’

Leave a Comment